Ajker Patrika

মেসিকে হারিয়ে একা স্কালোনি

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২: ৩৭
মেসিকে হারিয়ে একা স্কালোনি
আর কখনোই দেখা যাবে না লিওনেল মেসি-লিওনেল স্কালোনি জুটি। ছবি: এএফপি

তুমি কেন বোঝো না, তোমাকে ছাড়া আমি অসহায়—বাংলাদেশের প্রয়াত সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর এই গানটাই যেন আজ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে। বেনিন ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন লিওনেল মেসি। যে স্কালোনি-মেসি জুটি আর্জেন্টিনাকে মনে রাখার মতো অনেক মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন, আজকের পর আর কখনো তা দেখা যাবে না।

মনুমেন্তালে আজ বিদায়ী ভাষণ দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। আবেগ সামলে আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার দীর্ঘ বক্তৃতা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন স্কালোনিসহ তাঁর (মেসি) সতীর্থ ও দর্শকেরা। স্কালোনিও এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেছেন। বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘তাকে নিজের দলে পাওয়ার অনুভূতির সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। মানুষকে সেটা বোঝানো সত্যিই খুব কঠিন। এটা আপনাকে নিজেকেই অনুভব করতে হবে। এর কোনো তুলনা নেই।’

২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে মেসি তাঁর আজন্মলারিত স্বপ্নপূরণ করেছেন মেসি। পাশাপাশি ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২৪ কোপা আমেরিকাও জিতেছেন তিনি। গত পাঁচ বছরে আর্জেন্টিনার এই চার শিরোপা এসেছে মেসি-স্কালোনি জুটিতে। দীর্ঘ আট বছর আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্বে থাকায় স্কালোনির খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে মেসিকে।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের পর আর্জেন্টিনা দলকে পরিচালনা করা অনেক কঠিন হবে মানছেন স্কালোনি। কারণ, স্কালোনির পরিকল্পনার দীর্ঘ একটা অংশজুড়ে থাকতেন মেসি। মনুমেন্তালে আজ বেনিনকে ৩-০ গোলে হারানোর পর স্কালোনি বলেন, ‘এটা কঠিন হতে যাচ্ছে। সে (মেসি) নিজেই বলেছে। গত কয়েক বছরে আমরা যা অভিজ্ঞতা করেছি, তা স্বাভাবিক ছিল না। আর সামনে কঠিন সময় আসতে পারে।’

২০১৪ সালে মারকানায় জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ জেতা হয়নি মেসির। পরবর্তীতে ২০১৫, ২০১৬ সালে টানা দুইবার কোপা আমেরিকায় হয়েছেন রানার্সআপ। এমনকি ২০১৬ সালে নিয়েছিলেন অবসরও। কিন্তু অবসর ভেঙে ফিরে যা করলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। মেসিকে তাই খুব মিস করবেন স্কালোনি, ‘আমরা যতই নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে দল পুনর্গঠন করি না কেন, দুর্দান্ত একটি দল গড়ে তুলতে পারি। নতুন নতুন প্রতিভা উঠে আসতেই থাকবে। কিন্তু তার মতো সেই আভা আর কারও মধ্যে কখনো দেখিনি। সে যে অনুভূতি তৈরি করে, সেটা আর থাকবে না।’

পেশাদার ক্যারিয়ারে কাউকে না কাউকে তো এক দিন বিদায় বলতেই হয়। মেসি ৩১ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসার টানে ঘরের মাঠে আজ বেনিন ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন। স্কালোনিও মেনে নিচ্ছেন বাস্তবতা, ‘আমরা সেই সময়ের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। আমাদের সঙ্গে তরুণ, নতুন খেলোয়াড়রা আছে, যারা আমাদের অনেক কিছু দেবে। আমরা নতুন নতুন উপায় খুঁজে নেব। কিন্তু সেই অনুভূতিটা (মেসির আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা) আর কখনো ফিরে আসবে না। তার খেলা উপভোগ করা ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। এখন তাকে ছাড়াই সামনে এগোতে হবে।’

বিদায়ী ম্যাচে দলের তিনটি গোলেই অবদান রেখেছেন মেসি। নিকো পাস, নিকোলাস ওতামেন্দিকে দিয়ে গোল করিয়েছেন। ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করেন গোল। তাঁর বিদায়ী ভাষণ লিওনেল স্কালোনিসহ মনুমেন্তালের দর্শকেরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন। এনসো ফের্নান্দেসসহ কয়েক জন ফুটবলারের চোখে দেখা গেছে অশ্রু। আতশবাজি আর মেসিকে ঘিরে নাচানাচিতে হয়ে গেল তাঁর বিদায়। মেসির মতো ওতামেন্দিও আজ আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত