
ম্যাচটা যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাই তত জোরালো হয়েছে। কিন্তু স্পেন যেন শেষ মুহূর্তের জন্যই জমিয়ে রেখেছিল সবচেয়ে বড় আঘাতটা। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোল পর্তুগালের সব প্রতিরোধ ভেঙে দিয়েছে। ডালাসে ১–০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন, আর থেমে গেছে রোনালদোদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন।
ডালাসে শেষ ষোলোর এই লড়াইয়ের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, দুই দলই ঝুঁকি নিয়ে নয়, ভুল এড়িয়ে খেলতে চায়। বলের দখলে এগিয়ে ছিল স্পেন, কিন্তু পর্তুগালের রক্ষণ ছিল যথেষ্ট সংগঠিত। ফলে আক্রমণের চেয়ে কৌশলের লড়াই ছিল বেশি চোখে পড়ার মতো।
তবু প্রথম বড় সুযোগটি এসেছিল স্পেনের পায়েই। নবম মিনিটে দানি অলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বলে গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তার মুখোমুখি হয়েছিলেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। কিন্তু এই স্ট্রাইকার পোস্টের বাইরে মেরে বসেন। সুযোগ নষ্ট না হলে ম্যাচের চিত্র হয়তো অনেক আগেই বদলে যেতে পারত।
চার মিনিট পরই জবাব দেয় পর্তুগাল। ব্রুনো ফের্নান্দেসের পাসে বক্সে ঢুকে শট নেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে স্পেন গোলরক্ষক উনাই সিমন দারুণ দক্ষতায় বল ঠেলে কর্নার করে দেন।
১৭ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের বাঁকানো শট এক হাতে ফিরিয়ে দেন দিয়োগো কস্তা। ফিরতি বলে আলেক্স বায়েনার জোরাল প্রচেষ্টাও অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক। স্পেনের গোল পাওয়া যেন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে হচ্ছিল।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ভাগ্যও ছিল স্পেনের পক্ষে। ৪১ মিনিটে নুনো মেন্দেসের জোরাল শট পেদ্রো পোরোর গায়ে লেগে ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে।
বিরতির পর ম্যাচের গতি কিছুটা কমে যায়। দুই দলের মাঝমাঠের লড়াইয়ে হারিয়ে যেতে থাকে আক্রমণের ধার। রোনালদোকে ঘিরে রাখেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডাররা, অন্যদিকে ইয়ামাল-অলমোদেরও সহজে জায়গা দেয়নি পর্তুগালের রক্ষণ।
৫৬ মিনিটে অবশ্য ধাক্কা খায় পর্তুগাল। দুর্দান্ত খেলতে থাকা নুনো মেন্দেস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তাঁর জায়গায় নেলসন সেমেদো নামলেও বাঁ প্রান্তে আগের সেই দৃঢ়তা আর দেখা যায়নি।
ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে স্পেন ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে শুরু করে। ৬২ মিনিটে পেদ্রির শট প্রতিহত হয়, ৭৩ মিনিটে ইয়ামালের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে বাঁচান কস্তা। ৭৯ মিনিটে দানি অলমোর গোলমুখী শট শেষ মুহূর্তে স্লাইড করে আটকে দেন রুবেন দিয়াস। পর্তুগালের রক্ষণ তখনও অটুট।
সময় গড়িয়ে যখন যোগ করা সময়ে, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়েই গড়াবে। কিন্তু সেই হিসাব মিলতে দিল না স্পেন।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দ্রুত নেওয়া মিকেল মেরিনো একটি ফ্রি-কিক থেকে ফাবিয়ান রুইস বল বাড়ান ফেরান তোরেসকে। তোরেসও কোনো ভুল করেননি, তাঁর পাসে দিয়োগো কস্তাকে একা পেয়ে যান মেরিনো। বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জড়িয়ে দিতে কোনো অসুবিধা হয়নি বদলি নামা এই মিডফিল্ডারের।
বাকি কয়েক মিনিটে সব শক্তি দিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা করে পর্তুগাল। কিন্তু স্পেনের রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই মেরিনোকে ঘিরে আনন্দে মেতে ওঠেন সতীর্থরা। অন্যদিকে হতাশ মুখে মাঠ ছাড়েন রোনালদো। ষষ্ঠ বিশ্বকাপেও তাঁকে ফিরতে হলো খালি হাতে।

শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের ফুটবলাররা যখন জয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন পর্তুগাল শিবিরে নেমে আসে হতাশা। রোনালদো ধীর পায়ে মাঠ ছেড়ে টানেলের দিকে হাঁটতে থাকেন। সম্প্রচারে টেলিভিশনের ক্যামেরাও অনুসরণ করে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ। করিডর পেরিয়ে ড্রেসিংরুম পর্যন্ত সেই দৃশ্যই ছিল ম্যাচ-পরবর্তী সবচেয়ে আবেগঘন মু
৩৪ মিনিট আগে
সবুজ গালিচায় তিনি যখন বল নিয়ে ছোটেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বুকে তখন অবধারিতভাবেই কাঁপন ধরে। শরীরী শক্তি, অতিমানবীয় গতি আর গোলপোস্টের সামনে বরফশীতল মানসিকতা—সব মিলিয়ে আর্লিং হালান্ড যেন আধুনিক ফুটবলের এক নিখুঁত বিজ্ঞাপন।
২ ঘণ্টা আগে
নেইমার কাঁদছেন, অঝোরে কাঁদছেন। তাঁর সঙ্গে রিও ডি জেনিরো, সা পাওলোসহ পুরো ব্রাজিলই কি নয়? কাঁদছে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকেরা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে এভাবে বিদায়। শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিল সর্বশেষ কবে বিদায় নিয়েছে? ১৯৯০ বিশ্বকাপ, সেই ৩৬ বছর আগে।
২ ঘণ্টা আগে
রিও ডি জেনিরোর বিশাল মিলনায়তনে প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের উপস্থিতিতে কার্লো আনচেলত্তি যেদিন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করলেন, নেইমার সেটা বাসায় বসে দেখছিলেন পরিবার- বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে। আনচেলত্তি যখনই ঘোষণা করলেন নেইমারের নাম—চারদিকে কী উল্লাস, চিৎকার! নেইমারের চোখে তখন পানি; সেটা ছিল আনন্দাশ্রু।
২ ঘণ্টা আগে