
এই ব্রাজিলকে নিয়ে সামান্য হলেও সংশয় জেগেছিল, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বে যেতে পারবে কি না। সংশয়টা তৈরি হয়েছিল গ্রুপপর্বে থাকা মরক্কোর কারণে। মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সাম্বার ছন্দে নেচে ওঠা ব্রাজিল অবশ্য সে সংশয় দূর করে দিয়েছে দ্রুতই। স্কটিশদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে পরের পর্বে অনায়াসেই জায়গা করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
২৯ জুন ‘রাউন্ড অব ৩২’ পর্বে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ (জাপান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি) দলের বিপক্ষে হিউস্টনে খেলবে ব্রাজিল।
ম্যাচের আগেই মায়ামি স্টেডিয়ামে যেন হলুদ রঙের মেলা। স্কটল্যান্ড কখনো ব্রাজিলকে হারাতে পারেনি—এসব পরিসংখ্যান, রেকর্ড ম্যাচের আগেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল মায়ামিতে হলুদ ঝড় উঠবে নিশ্চিত। ষষ্ঠ মিনিটেই সেটি প্রমাণে দৃশ্যপটে চলে আসেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের সেন্টার ব্যাক স্কট ম্যাককেনা নিজেই যেন ভিনিকে একটা গোল উপহার দিতে চাইলেন! নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল বের করার চেষ্টা করলে তাঁর শট ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সামনে চলে আসে। স্কটিশ গোলকিপার অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে খুবই সাধারণ এক ট্যাপ-ইনে ভিনি টানা তৃতীয় ম্যাচে জালের দেখা পান। ভিনিসিয়ুসের মতো দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড তো প্রতিপক্ষের এমন ভুলেরই অপেক্ষায় থাকেন।
স্কটল্যান্ডের আরেক ডিফেন্ডার জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্বিতীয়বারও বল জালে জড়িয়েছিলেন ভিনি জুনিয়র। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, তিনি ডিফেন্ডারকে ফাউল করেছিলেন। গোলটা বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় গোল বাতিলের পর স্কটল্যান্ড সাময়িকভাবে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান কিছুটা শক্ত করতে পারলেও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও হোঁচট খায়। ভিনি তখন গোলের নেশায় টগবগ করে ফুটছেন।
ব্রাজিলের ডান দিক থেকে ব্রুনো গিমারেসের দারুণ এক ক্রসে স্কটিশদের ঢিলেঢালা রক্ষণভাগের পূর্ণ সুযোগ নিয়ে ভিনিসিয়ুস হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। ভিনি নাকি কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন, হেডে তিনি গোল করবেন। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের রিয়াল ফরোয়ার্ড বলেছেন, ‘কোচকে আগেই কথা দিয়েছিলাম যে এমন একটি গোল করব। তখন তিনি বলেছিলেন, এটা নাকি প্রায় অসম্ভব!’ সংবাদমাধ্যমকে কথাটা বলে তাঁর এমন অভিব্যক্তি যেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়ক অনন্ত জলিলের সেই সংলাপের অনুকরণে বলতে হয়, ‘অসম্ভবকে সম্ভব করাই ভিনির কাজ!’
টুর্নামেন্টে ৪ গোল করে লিওনেল মেসি-কিলিয়ান এমবাপ্পে-আর্লিং হালান্ডদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন ভিনি। তা-ই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসে গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করা পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে নিজের নাম লেখালেন রেকর্ড বইয়ে। তাঁর আগে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন জিয়ারজিনহো, রোমারিও, রোনালদো ও রিভালদো। কিংবদন্তিদের মধ্যে রোমারিও, রোনালদো ও রিভালদো তো এ রাতে মায়ামি স্টেডিয়ামেই ছিলেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার রিভালদোর হাত থেকেই নিয়েছেন ভিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে সেলসাওরা তাঁদের ‘জোগো বনিতো’য় মন ভরানো ফুটবল উপহার দিয়ে স্কোরলাইন বাড়িয়ে নিতে বারবার হানা দিতে থাকে স্কটল্যান্ডের রক্ষণে। ৬০ মিনিটে হওয়া তৃতীয় গোলটির নায়ক মাতেউস কুনিয়া। তবে গোলটির বড় কৃতিত্বই প্রাপ্য গিমারেসের। দুর্দান্ত ফুটওয়ার্কে স্কটিশ রক্ষণকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত করে ফেলেন। নিউক্যাসলের এই মিডফিল্ডার নিজেও শট নিতে পারতেন, কিন্তু নিঃস্বার্থভাবে সতীর্থকে বল বাড়িয়ে দেন। কুনিয়া কোনো ভুল না করে দারুণ এক গোলে যথারীতি তাঁর সার্ফিং উদ্যাপনে মাতেন।
ভিনি-কুনিয়া-গিমারেসের আলো ছড়ানো রাতে ফুটবল পৃথিবী তাকিয়ে ছিল একজনের দিকে। ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেইমার নামতেই শুধু মায়ামি কেন, বোধ হয় সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কোটি ব্রাজিল সমর্থক করতালিতে স্বাগত জানিয়েছেন। মায়ামি স্টেডিয়ামে উপস্থিত অধিকাংশ ব্রাজিলিয়ান সমর্থক অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময় থেকেই তাঁর নাম ধরে স্লোগান দিতে শুরু করেন, যখন তিনি বেঞ্চ থেকে উঠে সাইডলাইনে ওয়ার্মআপ স্প্রিন্ট শুরু করেন। নেইমার মাঠে প্রবেশ করতেই গর্জে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার হলুদ জার্সিতে ফিরলেন ৯৮১ দিন পর। কত ত্যাগ, পরিশ্রম, অপেক্ষার পর তাঁর ফেরা—প্রত্যাবর্তনে ৩৪ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ডের চোখে চিকচিক করছিল জল। নেইমারের আনন্দাশ্রুর রাতে ব্রাজিলের মুখে চওড়া হাসি। টানা ১৫তম বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠে গেল সেলেসাওরা। নিজেদের চেনা ছন্দে পরের পর্বে উঠে ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল এগিয়ে চলেছে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই।

ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস—আজ ম্যানচেস্টারে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দেখে এই প্রবাদ মনে পড়াটাই স্বাভাবিক। হাতের নাগালে থাকা ক্যাচ ফসকানোর খেসারত দিতে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশকে। ভারতের কাছে হেরে গেল
৩ ঘণ্টা আগে
খুব বেশি দিন আগের ঘটনা নয়। জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে এ বছরের জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারতের অধিনায়কেরা টসের সময় হাত মেলাননি। পাঁচ মাস পর এবার ম্যানচেস্টারে দেখা গেল একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে হাত মেলাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।
৪ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ের এক মাসও পূর্ণ হয়নি। এক মাস পর আরেক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়ে যাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত সিরিজ থেকে এক পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
৫ ঘণ্টা আগে
একটু এদিক-সেদিক হলেই সুইডেন ফুটবল দলের জন্য তা হতে পারত বিপদের কারণ। বিশ্বকাপের জন্য যে স্টেডিয়ামে দলটি অনুশীলন করছে, সেই স্টেডিয়াম আংশিক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে ফুটবলার ও কোচরা ঘটনাস্থলে না থাকায় বড় বাঁচা বেঁচে গেছেন।
৬ ঘণ্টা আগে