Ajker Patrika

ফুরোচ্ছে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের ১১ বছরের অপেক্ষা

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৪৩
ফুরোচ্ছে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের ১১ বছরের অপেক্ষা
২০১৬ সালে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ১০৮ রানের ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশের উদযাপন। ছবি: ক্রিকইনফো

বেন স্টোকসের উইকেট নেওয়ার পর সাকিব আল হাসানের স্যালুট, জয়ের পর সাকিব-মেহেদী হাসান মিরাজদের বাঁধভাঙা উদ্‌যাপন—এতটুকু শুনে অনেকে হয়তো নস্টালজিয়ায় ভুগছেন। ২০১৬ সালে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে ঐতিহাসিক ১০৮ রানের জয়ের পর উদ্‌যাপনে মেতেছিল বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচের পর ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে মুখোমুখি হয়নি এই দুই দল। অবশেষে ফুরোচ্ছে দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষা।

২০২৬-২৭ মৌসুমে ইংল্যান্ড হোম এবং অ্যাওয়ে ভিত্তিতে কোন কোন দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলবে, সেটার একটা খসড়া তালিকা তৈরি করেছে। ক্রিকইনফোর গত রাতের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ইংল্যান্ড ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। হোম সিরিজের পর তারা দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সফর করবে। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তিন টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। আর বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজে হবে দুই টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট আগামী বছরের মার্চ মাসে টেস্টের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে খেলবে ইংলিশরা।

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজের সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে ভবিষ্যৎ সফরসূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে যাচ্ছে দুই দলের টেস্ট সিরিজ। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড বলেন, ‘গত চার বছরে টেস্ট ক্রিকেট যে অবস্থানে পৌঁছেছে, সেটা বিবেচনায় রাখছি। সেভাবেই আমাদের এগোতে হবে।’

ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা একের পর এক ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগে ক্রিকেটারদের অনেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ের মতো স্বল্প আয় করা বোর্ডের জন্য ক্রিকেটারদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। কম সময়ে বেশি অর্থ উপার্জনের চিন্তাভাবনা থেকে এসব লিগকে তাঁরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ঠিকই। তবে গোল্ডের কথাও পুরোপুরি অস্বীকার করার উপায় নেই। অ্যাশেজে দর্শকসংখ্যার রেকর্ড, ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে দর্শকে ঠাসা গ্যালারি—তাতেই প্রমাণ হয় যে টেস্ট একেবারে হারিয়ে যায়নি।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তৈরির চিন্তা রয়েছে ইংল্যান্ডের। এ ছাড়া ক্রিকেটের তিন মোড়ল নামে পরিচিত ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের টেস্টকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন গোল্ড। ইসিবি প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘২০২৯-৩০ মৌসুমের অ্যাশেজ নিয়ে এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনা শুরু করেছি। যদিও প্রথম টেস্টের ভেন্যুর ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে একসঙ্গে কাজ করে খেলোয়াড়দের সেরা পারফরম্যান্স বের করে নিতে উপযুক্ত পরিবেশ দরকার। অতীতে যথাযথ প্রস্তুতি ম্যাচ না খেলায় সমস্যা হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সবশেষ ম্যাচ খেলেছে আড়াই বছর আগে। ধর্মশালায় ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কাছে ১৩৭ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এই দুই দল সবশেষ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে আরও আগে। ২০২৩ সালের মার্চে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ। এ ছাড়া আগামী বছরের মার্চে টেস্টের ১৫০ বছর পূর্তিতে মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড টেস্ট তো হবেই। সে বছরের মাঝামাঝি অ্যাশেজ হবে ইংল্যান্ডে। নিজেদের মাঠে ১২ বছরের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ ইংলিশদের। সবশেষ অ্যাশেজ ইংল্যান্ড জিতেছিল ২০১৫ সালে ঘরের মাঠেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত