Ajker Patrika

স্মিথের উইকেটটাই কেন হাসানের কাছে ‘বেশি স্পেশাল’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৩৪
স্মিথের উইকেটটাই কেন হাসানের কাছে ‘বেশি স্পেশাল’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ। ছবি: এএফপি

ডারউইনে প্রথম দিনের সব আলো যেন হাসান মাহমুদই কেড়ে নিলেন। তাঁর আগুনে বোলিংয়ে পুড়ে ছারখার অস্ট্রেলিয়া। গুনে গুনে স্বাগতিকদের ছয় ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই পেসার। তবু একটা উইকেট হাসানের কাছে ‘বেশি স্পেশাল’।

দুই ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ড, ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে শুরুটা করেছেন হাসান। মাঝের ৪ উইকেট তাসকিন আহমেদ-ইবাদত হোসেন চৌধুরী মিলে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এরপর সপ্তম থেকে দশম—এই চারটি উইকেট নিয়েছেন হাসান। ২৬ বছর বয়সী এই পেসার নিয়েছেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, স্টিভ স্মিথ ও নাথান লায়নের উইকেট। লায়নকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ইতি টেনে টেস্টের সেরা বোলিং করেছেন হাসান। বাংলাদেশের তারকা পেসার ৫৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

প্রথম দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে আসা হাসান জানিয়েছেন, তাঁর কাছে সব উইকেটই স্পেশাল। ২৬ বছর বয়সী পেসার সতীর্থদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন। সাংবাদিকদের হাসান বলেন, ‘আমার কাছে সবগুলাই উইকেটই স্পেশাল। কারণ, পাঁচটা না হলে তো আর ৫ উইকেট হয় না। তবে বিশেষ করে বলতে গেলে দলের মধ্যে যে শক্তি ছিল সকাল থেকে এবং সবাই মিলে মাঠে যে চেষ্টা করেছে, অবশ্যই সতীর্থদের কৃতিত্ব দিতে চাই। অধিনায়ক যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন মাঠের মধ্যে অবশ্যই আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি।’

তবু কোন উইকেটটা হাসানের কাছে বেশি স্পেশাল—সংবাদ সম্মেলনে আজ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল এই প্রশ্ন। উত্তরে ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশ বলেন, ‘অবশ্যই স্মিথের উইকেটটা। সে আসলে বুঝতে পারছিল না। আমারও মনে হচ্ছিল যে সে কিছু একটা করতে যাচ্ছে। আমি বাউন্সার মেরেছিলাম। সে এটা মিস করছে।’

বিদেশের মাঠেই হাসান বেশি জ্বলে ওঠেন। টেস্টের ৪২ উইকেটের ৩০টিই নিয়েছেন বিদেশে। ভারত-পাকিস্তানের পর এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও নিয়েছেন ৫ উইকেট। কোনটাকে বেশি এগিয়ে রাখছেন হাসান—প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি তিনটাকে বলব যে খুব ভালো অর্জন আমার জন্য। বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে ফাইফার পেয়েছি। আমি এটা ধরে রাখতে চাই। সামনে আরও চ্যালেঞ্জ আসবে, সামনে আরও খেলা আছে। সেদিকেই ফোকাস করছি।’

স্মিথ আজ ব্যক্তিগত ২ ও ৭ রানে জীবন পেয়েছিলেন। দুইবারই বোলার ছিলেন ইবাদত। একবার স্লিপে ডাইভ দিয়েও বল তালুবন্দী করতে পারেননি তানজিদ হাসান তামিম। আরেকবার লিটন দাস ক্যাচ ধরার পর ইবাদত ও অন্যান্য সতীর্থরা জোরালো আবেদন করেন। মাঠের আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা সাড়া না দিলে রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। রিভিউতে হালকা স্পাইক ধরা পড়লেও ধর্মসেনা আউট দেননি স্মিথকে।

দুইবার জীবন পাওয়া স্মিথ আউট হয়েছেন ৭১ রান করে। ১০৯ বলের ইনিংসে ৭ চার ও ১ ছক্কা মেরেছেন তিনি। হাসান মাহমুদকে পুল করতে গিয়ে স্মিথ বল সোজা আকাশে তুলে দিলে লিটন সহজেই সেটা তালুবন্দী করেন। স্মিথই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন জেক ওয়েদারাল্ড।

বাংলাদেশের তিন পেসার প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট তুলে নিয়েছেন। হাসান মাহমুদ পেয়েছেন ৬ উইকেট। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন ও ইবাদত। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় ১৯৮ রান। বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ৯৬ রানে। মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিম ৩২ ও ৩৫ রানে অপরাজিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত