Ajker Patrika

যেভাবে তৈরি হলো বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পিচ

ক্রীড়া ডেস্ক    
যেভাবে তৈরি হলো বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পিচ
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্টের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ডারউইনের মারার ওভাল। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার দুটি আলাদা প্রান্তের শহর ডারউইন ও ম্যাকে। একদিকে প্রচণ্ড গরম, আর্দ্রতা আর হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টি; অন্যদিকে লবণপানির কুমিরের উপস্থিতি। এমন পরিবেশেই এবার টেস্ট ক্রিকেটের জন্য মাঠ প্রস্তুত করছেন জেক পাভলিচ ও পিটার কাজাকফ। চেনা চ্যালেঞ্জের সঙ্গে তাঁদের লড়াইটা তাই একেবারেই আলাদা।

দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় গেছে বাংলাদেশ। প্যাট কামিন্সের দলের বিপক্ষে সিরিজের ম্যাচ দুটি হবে ডারউইন ও ম্যাকেতে। শূন্য দশকের মাঝামাঝির পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার প্রচলিত গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের বাইরে টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে দেশটিতে। ফলে মাঠ দুটির কিউরেটরদের ওপরও থাকছে বাড়তি নজর।

ডারউইনের মারারা ওভালে টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে ২০০৪ সালের পর। এই মাঠের দায়িত্বে থাকা পাভলিচের কাজটা সহজ নয়। নর্দান টেরিটরি ক্রিকেটের অবকাঠামো বিভাগের প্রধান তিনি। ডারউইনের পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরের অ্যালিস স্প্রিংসের ট্রেগার পার্কের উইকেটও দেখভাল করতে হয় তাঁকে।

অ্যাডিলেডে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও ডারউইনের আবহাওয়া পাভলিচকে নতুন করে শিখিয়েছে মাঠ পরিচর্যার অনেক কিছু। এখানে নভেম্বর থেকে এপ্রিল বর্ষাকাল। প্রচণ্ড বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ঘাস। আগাছার সমস্যাও আছে। কিন্তু বেশি আগাছানাশক ব্যবহার করা যায় না, তাতে উইকেটের প্রয়োজনীয় ঘাসও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাভলিচের ভাষায়, ‘একটা বিষয় হলো, এখানে ঘাসের বৃদ্ধি কখনোই থামে না।’ আর বৃষ্টির পরিমাণও কম নয়। ডারউইনের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে যত বৃষ্টি হয়, অ্যাডিলেডে পুরো এক বছরেও ততটা হয় না।

শুধু আবহাওয়াই নয়, ডারউইনের ড্রপ-ইন উইকেটও আলাদা ঝামেলার। স্টেডিয়ামের বাইরে বছরের প্রায় ১০ মাস ধাতব ট্রের মধ্যে রাখা হয় উইকেট। পরে দুই টুকরা করে সেটি মাঠে বসাতে হয়। পাভলিচের ভাষায়, ‘এটা খুবই ঝামেলার কাজ।’ তবে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টিতে এমন ভালো উইকেট তৈরি হয়েছিল যে দর্শকেরা বুঝতেই পারেননি, এটি দুই ভাগে বসানো।

ম্যাকের হ্যারাপ পার্কের কিউরেটর কাজাকফের গল্পটা আবার অন্য রকম। ব্রিসবেনের গ্যাবায় কিংবদন্তি কিউরেটর কেভিন মিচেল জুনিয়রের অধীনে প্রায় ১৭ বছর কাজ করেছেন তিনি। বৃষ্টির আগেই কাভার টেনে দেওয়ার মতো মিচেলের দূরদর্শিতা কাজাকফকে শিখিয়েছে, চাপের মধ্যে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

২০২১ সালে হ্যারাপ পার্কের দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজাকফের সামনে আসে নতুন চ্যালেঞ্জ। যে মাঠ একসময় ছিল গোচারণভূমি, সেটিই এখন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ভেন্যু। আড়াই কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের পুনর্গঠনে যোগ হয়েছে ২ হাজার আসনের গ্যালারি, আধুনিক ড্রেসিংরুম ও মিডিয়া সুবিধা।

কাজাকফ তাই বলছেন, ‘এ বছর আমরা বড় মঞ্চে উঠে এসেছি। এটি ছিল একটি কান্ট্রি ক্রিকেট গ্রাউন্ড। এখন আমরা নিজেদের আইসিসি টেস্ট ভেন্যুতে রূপান্তর করেছি।’

তবে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির জন্য উইকেট তৈরি করা আর পাঁচ দিনের টেস্টের জন্য পিচ প্রস্তুত করা এক নয়। শীতের সময় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ম্যাকেতে ঘাসের বৃদ্ধিও থেমে যেতে পারে। ডারউইনেও ২০ ডিগ্রির নিচে নামলে একই সমস্যা। তাই ঘাসের মাটি উষ্ণ রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ গ্রোথ ম্যাট।

সব প্রস্তুতি শেষে এখন অপেক্ষা মাঠে আম্পায়ারদের পা রাখার। কাজাকফের কথায়, ‘প্রথম দিন আম্পায়াররা যখন মাঠে ঢুকবেন, তখন আমরা গেট বন্ধ করে দেব। এরপর বসে শুধু আশা করব, একটি দারুণ টেস্ট ম্যাচ উপভোগ করতে পারব।’

ডারউইন ও ম্যাকে—দুই শহরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেট ফেরার গল্প তাই শুধু ব্যাট-বলের নয়; এর পেছনে আছে প্রকৃতি, ঘাস, মাটি আর দুই কিউরেটরের নিঃশব্দ লড়াইও।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত