Ajker Patrika

পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করে রোমাঞ্চকর জয় এনে দিলেন রানা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ২১: ০০
পাকিস্তানকে বিধ্বস্ত করে রোমাঞ্চকর জয় এনে দিলেন রানা
পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

রাওয়ালপিন্ডিতে ২০২৪ সালে আগুনে বোলিংয়ে নজর কেড়েছিলেন নাহিদ রানা। এবার রানা মিরপুরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে তেমন একটা সফল হতে পারেননি। পাকিস্তানের ব্যাটাররা তাঁকে বেশ হোমওয়ার্ক করেই এসেছিলেন। কিন্তু রানা জ্বলে উঠলেন মোক্ষম সময়ে। শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়েই পাকিস্তানের ইনিংসের ইতি টানলেন রানা।

সব রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছিল শেষ দিনের জন্যই। ড্র, বাংলাদেশের জয়, পাকিস্তানের জয়—তিন ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ হাসি হাসল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্ট জয়ের পর এবার মিরপুরে পাকিস্তানকে হারিয়ে তাদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।

মিরপুরে তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে বৃষ্টি বাগড়া দিলেও আজ পঞ্চম দিনে খেলা হয়েছে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায়। গতকাল চতুর্থ দিনে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল দ্রুত রান তুলে পাকিস্তানকে যথাসম্ভব বেশি সময় ব্যাটিংয়ে পাঠালে বাংলাদেশ জিতবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। শিষ্যরা আজ তা-ই করলেন। দ্রুত ইনিংস ঘোষণার পর বোলিংয়ে পাকিস্তানকে রীতিমতো নাজেহাল করে ছেড়েছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ছিলেন পুরোদস্তুর ‘লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’। ১৮৮ রানের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও যথেষ্ট চটপটে দেখা গেছে শান্তকে। শেষ পর্যন্ত ১০৪ রানের আয়েশি জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

হাতে ৭ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ ৪৫ ওভার ব্যাটিংয়ের সুযোগ ছিল পাকিস্তানের সামনে। চা পানের বিরতির আগে তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও শেষ বিকেলে ড্রয়ের লক্ষ্যেই খেলতে থাকে সফরকারীরা। তবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে পাকিস্তানের জন্য। ৪৪ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।

প্রথম ইনিংসে ১০৪ রানে ১ উইকেট পাওয়া রানা দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট। শান মাসুদ, সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নোমান আলী, শাহিন শাহ আফ্রিদি—এই পাঁচ ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন রানা। যেখানে ৫৩তম ওভারের শেষ বলে আফ্রিদিকে দারুণ এক বাউন্সার ছোড়েন রানা। গ্লাভসে লেগে বল চলে যায় শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা জয়ের হাতে। শাহিন রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। জায়ান্ট স্ক্রিনে লাল অক্ষরে আউট লেখার পরই উদ্‌যাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫২ রানে আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। শেষ দিনে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান যোগ করার পর ইনিংস ঘোষণা করে স্বাগতিকেরা। ইনিংস সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৫০ বলের ইনিংসে ৭ চার মেরেছেন তিনি। ১৩ রান করলে রেকর্ড গড়া এক সেঞ্চুরিই করতে পারতেন তিনি। কিন্তু নোমান আলীর বলে এলবিডব্লু হওয়ায় তা আর সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার নোমান ৩ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিয়েছেন ১০১ উইকেট। হাসান আলী ৩ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ডিপ স্কয়ার লেগ বাউন্ডারিতে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেছেন। শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাস ২ ও ১ উইকেট পেয়েছেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৪০ রান করলে লিড দাঁড়ায় ২৬৭ রানের। ২৬৮ রানের লক্ষ্যে ৩ রানেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারের শেষ বলে তাসকিন আহমেদের গুড লেন্থের বল ডিফেন্স করতে গিয়ে ইমাম উল হক (২) ক্যাচ তুলে দেন উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে।

দ্রুত প্রথম উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন দুই অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইস। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৬৭ বলে ৫৪ রানের জুটি। এই জুটির ৪.৮৪ রানরেটে ব্যাটিং কিছুটা বাংলাদেশকে দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল। তবে ১৩তম ওভারের প্রথম বলে মিরাজকে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান আওয়াইস। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি (১০৩) করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ১৫ রান। এরপর শান মাসুদকে (২) ফেরান রানা। পাকিস্তান অধিনায়কও ক্যাচ দেন লিটনের হাতে।

আওয়াইস-মাসুদকে হারিয়ে ১৫.২ ওভারে ১ উইকেটে ৬৮ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান। চতুর্থ উইকেটে ফজল-সালমান আলী আগা করেন ৫১ রানের জুটি। এই জুটি গড়ার পথে বেশ কয়েকবার বেঁচেও যান ফজল। ৩২তম ওভারের পঞ্চম বলে ফজলের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করেন তাইজুল ইসলাম। কিন্তু আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবোরো সাড়া দেননি। রিভিউ নেওয়ার পর ফজলের (৬৬) উইকেট পেয়েছে বাংলাদেশ।

ফজল আউট হওয়ার পর ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে। আরও স্পষ্ট করে বললে ইতি টেনেছেন রানা। যেখানে শাকিলকে ফেরানোর আগে রানাকে অফস্টাম্পের বাইরে বোলিংয়ের যে টোটকা দিয়েছেন, সেটা কাজে লেগেছে। আর রানার গতিশীল বল দেখে সেটা ছাড়তে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। রিজওয়ান শূন্য রানে আউট হওয়া থেকে রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও করেছেন ১৫ রান।

প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৮৭ রান। ১৮৮ রান করে পেয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। ফিল্ডিংয়ে তিন ক্যাচ ধরেন। প্রথম ইনিংসে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে ৪১৩ রান করেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান এরপর প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে গেছে। মেহেদী হাসান মিরাজ এই ইনিংসে নিয়েছেন ৫ উইকেট।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত