
আটলান্টার দিনটা কি আবার লিওনেল মেসির হবে? নাকি সেই আলো কেড়ে নেবেন মোহামেদ সালাহ? ৯০ মিনিটে (যদি অতিরিক্ত সময় না লাগে) একজনের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন আরও বড় হবে, অন্যজনের যাত্রা থেমে যাবে সেখানেই। বিশ্বকাপের নকআউটে সৌন্দর্যের চেয়ে বেঁচে থাকাটাই বড়। কে কত ভালো খেলল, সেটি ইতিহাস খুব বেশি মনে রাখে না; মনে রাখে, কে পরের ধাপে উঠল। সেই লড়াইয়ে আজ রাত ১০টায় মিসরের মুখোমুখি হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় পা রেখেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু সেই ম্যাচ স্কালোনির দলের সামনে রেখে গেছে বেশ কিছু প্রশ্নও। আর্জেন্টিনার পরিচিত হাই প্রেসিং খুব একটা কার্যকর ছিল না, মাঝমাঠে কখনো কখনো হারিয়ে গেছে নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণেও গতি কমেছে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়তে হয়েছে মেসির জাদুতেই। তাই মিসরের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অনুশীলনে একাদশ ও কৌশল—দুই দিকেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে মাঝমাঠে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে দারুণ ছাপ রাখা লিয়ান্দ্রো পারেদেসের শুরুর একাদশে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল। পারেদেস খেললে মাঝমাঠে ভারসাম্য বাড়বে, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার প্রথম পাসও আরও নিখুঁত হতে পারে—বিশ্বাস স্কালোনির। আক্রমণভাগেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। চোট কাটিয়ে ফেরা হুলিয়ান আলভারেস এবার লাউতারো মার্তিনেসের জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন।
তবে স্কালোনির জন্য স্বস্তির খবরও আছে। মায়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রচণ্ড গরম এবং আর্দ্রতার মধ্যে খেলতে গিয়ে এনসো ফার্নান্দেস, ফাকুন্দো মেদিনাসহ কয়েকজন ফুটবলার পেশিতে টান অনুভব করেছিলেন। এবার সেই সমস্যা নেই। আটলান্টার স্টেডিয়াম শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। ফলে আবহাওয়া নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা ছাড়াই নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে পারবে আর্জেন্টিনা।
মিসরও এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ১-১ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে আফ্রিকার দলটি। এখন তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি অবশ্যই মোহামেদ সালাহ। লিভারপুলে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করা এই ফরোয়ার্ড এখনো মিসরের আক্রমণের প্রাণ। তাঁর পাশে আছেন ম্যানচেস্টার সিটির ওমর মারমুশ এবং সৃজনশীল মিডফিল্ডার ইমাম আশুর, যিনি ইতিমধ্যে এই বিশ্বকাপে দুটি গোল করেছেন।
ম্যাচের আগে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী বার্তাই দিয়েছে মিসর। সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান বলেছেন, ‘ওদের মেসি আছে, কিন্তু আমাদের মোহামেদ সালাহ আছে, আর আমাদেরও আছে ২৬ জন মেসি। আশা করি আল্লাহ আমাদের পুরস্কৃত করবেন।’ মেসিকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি না —এমন প্রশ্নে তাঁর জবাব ছিল আরও স্পষ্ট, ‘আমরা মেসিকে দেখি না।
আমরা খেলোয়াড়দের বলি, প্রতিপক্ষের দিকে মনোযোগ না দিয়ে মাঠে নেমে নিজেদের খেলাটা খেলতে।’
কাগজে-কলমে অবশ্য এখনো এগিয়ে আর্জেন্টিনা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের অভিজ্ঞতা, নকআউটে চাপ সামলানোর সামর্থ্য এবং মেসির মতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ফুটবলারের উপস্থিতি তাদের বাড়তি সুবিধা দেয়। কিন্তু মিসরও দেখিয়ে দিয়েছে, শারীরিক শক্তি, সংগঠিত রক্ষণ আর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে তারা যেকোনো প্রতিপক্ষকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অবশ্য অতীতের অর্জনের কোনো মূল্য নেই। একটি মুহূর্ত, একটি ভুল কিংবা একটি অসাধারণ নৈপুণ্যই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প। আটলান্টায় সেই গল্পের নায়ক হবেন মেসি, নাকি সালাহ—সেটিই জানার অপেক্ষা।

ম্যাচটা যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, অতিরিক্ত সময়ের সম্ভাবনাই তত জোরালো হয়েছে। কিন্তু স্পেন যেন শেষ মুহূর্তের জন্যই জমিয়ে রেখেছিল সবচেয়ে বড় আঘাতটা। যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর গোল পর্তুগালের সব প্রতিরোধ ভেঙে দিয়েছে। ডালাসে ১–০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে স্পেন, আর থেমে গেছে রোনালদোদের বিশ
২৩ মিনিট আগে
সবুজ গালিচায় তিনি যখন বল নিয়ে ছোটেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বুকে তখন অবধারিতভাবেই কাঁপন ধরে। শরীরী শক্তি, অতিমানবীয় গতি আর গোলপোস্টের সামনে বরফশীতল মানসিকতা—সব মিলিয়ে আর্লিং হালান্ড যেন আধুনিক ফুটবলের এক নিখুঁত বিজ্ঞাপন।
১ ঘণ্টা আগে
নেইমার কাঁদছেন, অঝোরে কাঁদছেন। তাঁর সঙ্গে রিও ডি জেনিরো, সা পাওলোসহ পুরো ব্রাজিলই কি নয়? কাঁদছে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকেরা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে এভাবে বিদায়। শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিল সর্বশেষ কবে বিদায় নিয়েছে? ১৯৯০ বিশ্বকাপ, সেই ৩৬ বছর আগে।
১ ঘণ্টা আগে
রিও ডি জেনিরোর বিশাল মিলনায়তনে প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের উপস্থিতিতে কার্লো আনচেলত্তি যেদিন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করলেন, নেইমার সেটা বাসায় বসে দেখছিলেন পরিবার- বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে। আনচেলত্তি যখনই ঘোষণা করলেন নেইমারের নাম—চারদিকে কী উল্লাস, চিৎকার! নেইমারের চোখে তখন পানি; সেটা ছিল আনন্দাশ্রু।
১ ঘণ্টা আগে