
টেবিল টেনিসের বোর্ডে যাঁর বিচরণ ছিল দুই দশকেরও বেশি সময়, যিনি ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়, যাঁর কীর্তি ঠাঁই করে নিয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে; তিনি জোবেরা রহমান লিনু। এ বছর রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনের সম্ভাবনা, সংকট আর আগামীর পথচলা নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ।
প্রশ্ন: আপনার ক্যারিয়ার তো অনেক বর্ণিল। অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন। দিন শেষে স্বাধীনতা পুরস্কার কি আপনার জন্য সেরা অর্জন হয়ে থাকল?
জোবেরা রহমান লিনু: আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব জানি না। আমার জীবনে আর কিছু পাওয়ার নেই। আমার শ্রেষ্ঠ যে পুরস্কার, সেটা আল্লাহ আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। আর কিছুই চাওয়ার নেই জীবনে। আমি এখন চাই, সুস্থ থেকে ইমানের সঙ্গে দুনিয়া থেকে যাতে বিদায় নিতে পারি। আলহামদুলিল্লাহ, আমার আর কিছু চাওয়ার নেই, এটাই সত্যি কথা। আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন, ভালো রেখেছেন। এখন শেষ যেটুকু আমার ক্যারিয়ারে, আমার খেলার জীবনে যে সর্বোচ্চ সম্মান, যেটা আমার পাওয়ার ছিল, সেটা আল্লাহ আমাকে দিয়ে দিয়েছেন। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আমি নাম লিখিয়েছি, সেটাও আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন। আমার আসলে আর চাওয়ার কিছু নেই।

প্রশ্ন: আজ নারী দিবস। নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য রোল মডেল হিসেবে এই বিশেষ দিনে আপনার বার্তা কী থাকবে?
লিনু: আমি আসলে সব সময় একটা কথা বলি যে নারী দিবসটা একটা দিনের জন্য, নারী দিবস হওয়াটা আসলে ঠিক না। আমার মনে হয় ৩৬৫ দিনই নারী দিবস। সেটা হচ্ছে, আমরা একটা দিন উপলক্ষ হিসেবে ধরি। যা-ই হোক, আসলে অধিকার পুরুষ ও নারীর সমান। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা সে অধিকারটা পাই না। সমানভাবে পায়ে পা মিলিয়ে চলার যে অধিকার, সেটা আমরা পাই না। সেটা আমি চাই এবং এটার জন্য যেটা একতরফা আমি বলব না। আমি দুইটা দিকই বলছি। আমরা নারীরাই কিন্তু নারীদের বিপদ কিছুটা ডেকে আনি। নারী স্বাধীনতা মানে কিন্তু উচ্ছৃঙ্খলতা নয়। নারী স্বাধীনতার একটা কথা আমি যেটা বলব—নারী স্বাধীনতা কী? আমি আমার প্রাপ্য সম্মানটুকু যেন পাই। একটা ছেলে যে কাজটা করতে পারে, একটা মেয়েও কিন্তু তা পারে। কিন্তু সেখানে দেখা যায়, মেয়ের ক্ষমতা বা যোগ্যতা থাকলেও তাকে সেই জায়গায় পৌঁছাতে দেওয়া হয় না। মনে করা হয়, সে পারবে না। তো আমরা চাই যে মেয়েদের সমান অধিকারটা দেওয়া হোক, যোগ্যতা অনুযায়ী প্রাপ্যটুকু যেন আমরা পাই। একই সময়ে আমি মেয়েদেরও বলব যে আপনারা বা আমরা কেউ যেন স্বাধীনতার নামে এমন কোনো কাজ না করি, যেটা দেখতে খারাপ লাগে। সে কাজটাও কিন্তু আমরা করব না। কারণ, একটা মেয়ে যদি বলে, পুরুষ যদি রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত ঘুরে বেড়াতে পারে, তো নারী হিসেবে আমি কেন পারব না? একটা পুরুষ যা করতে পারে আমি কেন সেটা... আসলে সব ক্ষেত্রে—এ ধরনের তর্ক-বিতর্কে যাওয়া উচিত নয় বলে আমার মনে হয়। আজ থেকে ৫ হাজার বছর আগের কথাও যদি বলেন, সেখানেও কিন্তু মেয়েদের বিপদ ছিল, মেয়ে সব সময় কিন্তু সুরক্ষিত ছিল না, তাই না? এখন যদি আমরা বলি, আমরা সুরক্ষিত হতে চাই, সেটা আমরা সরকারের কাছে চাইতে পারি। তারা যেন মেয়েদের সুরক্ষিত হওয়ার যে পদক্ষেপ প্রয়োজন, সেটা নিশ্চিত করে। কিন্তু একইভাবে একটা পুরুষকেও তাদের নজর ঠিক রাখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষেরা মেয়েদের পোশাক-আশাক এবং চালচলন নিয়ে অনেক কিছু কথা বলে; যেটাকে ইভ টিজিং বলে। আমার কাছে মনে হয়, এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। সেটা তাদের জানার বিষয় না। যে যেটা করবে তার প্রাপ্য তাকে পেতে হবে। কিন্তু তাই বলে আমি তাকে অ্যাসিড মারব, তার গায়ে হাত তুলব, তাকে আমি ধর্ষণ করব—এই ধরনের আচরণ ঠিক নয়। তো সেটা পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করতে হবে এবং আমি মনে করি, একটা মেয়ে হিসেবে তারও সংযতভাবে চলাফেরা করতে হবে। এটা হচ্ছে আমার কথা। দিন শেষে আমরা সবাই কিন্তু মেয়ে বা পুরুষ না, আমরা সবাই মানুষ। আমরা মানুষ হিসেবে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই।
প্রশ্ন: টেবিল টেনিস খেলাটা এখনও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠতে পারেনি কেন?
লিনু: আসলে এখানে একটি কথা বলি। আপনি প্রত্যেকটা সময় দেখবেন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলায়। যেমন লন টেনিসে গ্র্যান্ড স্লাম যে মহিলা পেয়েছেন সম্ভবত মার্গারেট কোর্ট, আজ পর্যন্ত তাঁর রেকর্ডটা মানে চ্যাম্পিয়নশিপটা কেউ ভাঙতে পারেনি, ২৪টা গ্র্যান্ড স্লাম। এখনো তাকে সেই সম্মানটা দিতে হবে। সে যখনই হোক। ম্যারাডোনার সম্মান তাকে দিতে হবে। সময়ের সঙ্গে যুগে যুগে কিন্তু মানুষ এগিয়ে যায়, কিন্তু পেছনে যে যিনি আছেন, তাঁকেও কিন্তু অবজ্ঞা করা যাবে না। তাই না? তো এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরা ভালো করছে, যেমন খই খই মারমা ভালো করছে, জাভেদ ভালো করছে। এখানে আমি একটা কথা বলব, যেটা আমার কাছে ভালো লাগেনি—এটা মিক্সড ডাবলসে (ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে) তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কিন্তু সেখানে ছেলে জাভেদকে কখনো হাইলাইট করা হয়নি, হয়েছে শুধু খই খই-কে। আমার মতে, দুজনকে সমানভাবে সম্মান করা উচিত, সম্মান দেওয়া উচিত। আর মিক্সড ডাবলসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, হ্যাঁ অবশ্যই আমাদের দেশের জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার। তবে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আমি আশা করি। কারণ এখনকার ছেলেমেয়েরা কিন্তু আগের চাইতে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। বরং যে সুযোগ-সুবিধা তারা পাচ্ছে, তার তিন ভাগের আধা ভাগও আমরা পাইনি। তারপরও কিন্তু আমরা খেলে গেছি এবং যেটুকু অর্জন করার করেছি। যেমন আমি ১৯৮০ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পরএখনো আমাদের দেশের কোনো মেয়ে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে কিন্তু ফিফথ হতে পারেনি। এটা তো দুঃখজনক। আমাদের সময়ে কোনো কোচ ছিল না, ট্রেনিং ছিল না, কিছু না করে আমি যদি সেই রেজাল্টটা করতে পারি আর এখন মেয়েরা এত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, তাহলে তাদের তো এশিয়ান লেভেলে রেজাল্ট করা উচিত, তাই না? তবে ভবিষ্যতে আমার বিশ্বাস যে বাংলাদেশে টেবিল টেনিসে ছেলে-মেয়েরা ভালো করবে।
প্রশ্ন: ঈদের আনন্দটা কি এবার দ্বিগুণ হয়ে গেল, স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়ে?
লিনু: আসলে ছোটবেলা ছাড়া ঈদের আনন্দ আমাকে খুব একটা টানেনি। কারণ আমি আসলে ঈদটাকে ছোটবেলায় যেভাবে উদ্যাপন করেছি, আনন্দ করেছি, এখন তো বয়স হয়েছে, এখন আনন্দ করার কিছু নেই। তবে আমার সামগ্রিক জীবনের যে আনন্দ, সেটা আমার অনেক মানে আমার আসলে বলার ভাষা নেই। আমি জীবনের তো শেষ প্রান্তে প্রায় চলে এসেছি, কখন আল্লাহর ডাক পড়বে, চলে যাব দুনিয়া থেকে। কিন্তু এই যে মরণোত্তর হয়নি আমার, এটার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমি অন্তত জীবদ্দশায় আমার এই সম্মানটুকু পেলাম এবং যদি আল্লাহ আমাকে তৌফিক দান করেন, নিজ হাতে পুরস্কারটা যদি নিতে পারি, সেটা আমার জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া হবে। গোটা জীবনে আমার আসলে কোনো দুঃখবোধ নেই। আমি অনেক আনন্দিত, খুশি। বাকি জীবন আমার যারা বংশধর আছে, আমার ভাইয়ের বাচ্চা, বোনের বাচ্চা, এরা অন্তত বলে যেতে পারবে, তার ফ্যামিলিতে এমন একজন ছিল, তার ফুফু, তার মা, তার জেঠিমা যে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মানটা পেয়েছে। এটা আমার পরিবারের জন্য একটা বড় পাওনা। আমার গোটা জীবনের আনন্দটাই ঘিরে রয়েছে আমার এই পুরস্কার।
প্রশ্ন: আপনার সিনিয়র ক্রীড়াবিদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন এখনো স্বাধীনতা পুরস্কার পাননি...
লিনু: হ্যাঁ, আমি একটা কথা বলি। এখানে এই কথাটা এল যখন বলি। আপনি হয়তো জানেন যে একটা সময় কিন্তু স্বাধীনতা বলেন, একুশে বলেন, কোনো কিছুর জন্য আবেদন করতে হতো না। আমি কিন্তু এই স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছিলাম। আবেদন যদি আমি না করতাম, তাহলে কিন্তু আমাকে দিত না। আমি আবেদন করেছি এবং সবকিছু দেখে হয়তো আমাকে বিবেচনা করে দেওয়া হয়েছে। কারণ আমার সঙ্গে যদি কেউ আবেদন করত, সে যদি আমার চাইতে বেশি ডিজার্ভ করত, তাকেই তো দিত, তাই না?
স্পোর্টস ক্যারিয়ারে যে রেজাল্ট আমার আছে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে, সে রেজাল্টটা হয়তো আমার চেয়ে কারও বেশি নেই। দু–একজনের থাকতে পারে। এখন তাদের পুরস্কার দেওয়া হয়নি কেন বা সে প্রশ্নের উত্তর যদি আমাকে দিতে হয়, সেটাতে আমি বিব্রত হব। আমি এটার উত্তর দিতে পারব না। কারণ আপনিও এটা চিন্তা করেন যে সুফিয়া কামাল ম্যাডাম, উনিও কিন্তু একুশে পদক পেয়েছেন ৭২ বছর বয়সে। ওনার তো এটা পাওয়ার কথা ছিল আরও ২০ বছর আগে, তাই না? তো এখন এই ধরনের কথাবার্তা যুগে যুগে চলবে, যে যা-ই পাবে না কেন কিছু না কিছু সমালোচনা থাকবেই। সমালোচনার ঊর্ধ্বে আমরা কেউ নেই। এখন অনেকে বলেন, গিনেস বুকে তারাও তাদের নাম লেখাতে পারেন। তো আমি ওয়েলকাম করছি সবাইকে, সবাই এপ্লাই করুক। তো এখন কেউ এপ্লাই যদি না করেন, বাসায় এসে কেউ আপনাকে অ্যাওয়ার্ডটা দিয়ে যাবে না। এখন তো সিস্টেমটা নেই। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ যে ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড স্পোর্টসে, সেটাও যদি আপনি পেতে চান, তাহলে আপনাকে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সংগঠক হিসেবে বা খেলোয়াড় হিসেবে আবেদন করতে হবে। আপনি আবেদন করবেন না আর ঘরে বসে কেউ আপনাকে অ্যাওয়ার্ড দিয়ে যাবে, তা তো হয় না? সেই হিসেবে বলি যে আমার চেয়ে বেশি ভালো রেজাল্ট কজন করেছেন, সেটা আপনারাই দেখেন। কেউ যদি আবেদনই না করে, আর ভাবে আমি কেন পেলাম না, ও কেন পেল—এই চিন্তা অন্য মানুষকে ছোট করা হবে। মানুষকে আসলে ছোট করা ঠিক হবে না।
প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ায় মেয়েরা ফুটবল খেলছে নারী এশিয়ান কাপে প্রথমবারের মতো। এই বিষয়টা নিশ্চয়ই আপনাকে গর্বিত করছে।
লিনু: একসময় কিন্তু মেয়েরা যখন ফুটবল খেলত হুজুরেরা তাদের থ্রেট করেছিল, হাফপ্যান্ট পরে খেলাধুলা করছে বলে। সেই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে মেয়েরা যে এই মঞ্চে এসে ভালো করছে, সেটা তো অবশ্যই একটা পজিটিভ দিক। আর একটা কথা আমি একটু বলতে চাই, কেউ যদি অন্যভাবে না নেয়। এখনকার মেয়েরা কিন্তু এখনো অল্প বয়স। সুতরাং অবশ্যই আমরা সাধুবাদ জানাব, উৎসাহ দেব, কিন্তু তাদের অতিরিক্ত যদি আমরা লাইমলাইটে নিয়ে আসি, তাহলে কিন্তু ওরা খেই হারিয়ে ফেলবে। কারণ ওরা কিন্তু অনেক কষ্ট করে এই জায়গায় এসেছে। সুতরাং অনেক কিছু দেখেনি তারা। তো যখন আপনি হঠাৎ করে অনেক কিছু দেখে ফেলবেন, তখন অনেকেরই তো মাথা ঠিক থাকে না। ওদের আমরা অবশ্যই হাততালি দেব, কিন্তু এমন হাততালি দেব না, যাতে ওরা মনে করে যে আমার আর কিছু করার নেই। আমি তো অনেক কিছু করে ফেলেছি। তখন ওদের কাছ থেকে আমরা আর বেশি কিছু পাব না। সাফল্যের চেয়ে যদি তারা উদ্যাপনটা বেশি করে ফেলে, তাহলে কিন্তু তারা এর চেয়ে বেশি আর রেজাল্ট ভালো করবে না। সুতরাং তাদেরও এই জিনিসটা বুঝতে দিতে হবে, তোমাদের অনেক দূর যেতে হবে। শুধু এখানেই তোমাদের শেষ না। তোমরা এখন ভালো করছ, ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে হবে।

প্রশ্ন: নারী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে কেউ এখন এককভাবে তারকা হয়ে উঠতে পারছে না। কোথায় ঘাটতিটা দেখছেন আপনি?
লিনু: না, আমি যদি আমার কথাটি বলি, তাহলে আমি আমারটাই বলতে পারি যে আমার একটা প্লাস পয়েন্ট ছিল ছোটবেলায়। খেলাধুলা বা যেকোনো কিছুতে প্রেজেন্টেবল হওয়াটা খুব জরুরি। এটা পৃথিবীর সব ক্ষেত্রে কিন্তু আমার মনে হয়, প্রতিটি মানুষের ভেতরে একটা নিজস্ব ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতে হয়। যাতে অন্য মানুষ আকর্ষিত হবে। শারীরিক আবেদনের কথা বলছি না, একটা মানুষকে শ্রদ্ধা করার যে জিনিসটা তার প্রতি আসতে হবে। সেটা তার চলাফেরা, পোশাক-আশাক, চালচলন প্রত্যেকটা জিনিস এমনভাবে হতে হবে, যাতে অন্যরা তাকে দেখে শেখে এবং সে একইভাবে নিজেকে প্রেজেন্ট করতে পারে—হ্যাঁ, ইনি স্মার্ট, ইনি কথা বলতে জানেন, ইনি পড়াশোনায় শিক্ষিত বা স্বশিক্ষিত। সবকিছু মিলিয়েই কিন্তু একটা মানুষ তারকা হতে পারে। সুতরাং আমার মনে হয় যে আমাদের কিছুটা ঘাটতি এখানেও আছে। আমরা অনেকে—আমি এমন খেলোয়াড়ও দেখেছি, যে খুব ভালো খেলে, হয়তো জুতাটা ছেঁড়া, মোজাটা হয়তো পুরোনো, একটা ছেঁড়া মোজা পরে এল। পোশাকও একটা অনেক বড় ব্যাপার এবং কথাবার্তাও একটা বড় ব্যাপার। আপনি নিজেকে কীভাবে প্রেজেন্ট করছেন অন্যদের কাছে। তো সেই সময়ে আমার মনে হয়, এখনকার প্রজন্মের এই জিনিসটার একটা ঘাটতি আছে। আবার কেউ আছে অতিরিক্ত শো-অফ করতে গিয়ে তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে। সেটাও আবার হচ্ছে না। তো সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়, তারকা হতে গেলে তার বিশেষ কিছু গুণাবলি থাকতে হবে। তাহলে সে তারকা হতে পারবে। যেটা হচ্ছে না, হয়তোবা কিছুটা ঘাটতি আছে বলেই হচ্ছে না।
প্রশ্ন: গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নাকি স্বাধীনতা পুরস্কার—কোনটিকে এগিয়ে রাখবেন?
লিনু: বাংলাদেশে তো আমি এখন পর্যন্ত একজনই এবং শুধু বাংলাদেশে না, ওয়ার্ল্ডে আমার রেকর্ডটা এখন পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি। এগুলো বিবেচনা করেই তো স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়েছে, তাই না? আমি গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নেওয়া একমাত্র বাংলাদেশি। সুতরাং গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডটা যেমন অনেক মানে উচ্চতায় আছে, ঠিক তেমনি স্বাধীনতা পদকেরও এক উচ্চতা আছে। সুতরাং দুইটাকে আমি কোনোভাবেই আলাদা করতে চাই না। দুটােই দুটোর পরিপূরক। আর দুটোই আমি একই রকম আমার মাথার ওপরেই রাখব। স্বাধীনতা পুরস্কারকেও আমি মাথার ওপরে রাখব, গিনেস রেকর্ডকেও মাথার ওপরে রাখব। দুটোই আমার কাছে সন্তানের মতন। এই ভালোবাসার জায়গা থেকে আমি একটু বলতে চাই, দুটিই আমার কাছে অনেক সম্মানের ব্যাপার।

ব্রাজিলের ক্যাম্পেওনাতো মিনেইরো ফাইনালে আতলেতিকো মিনেইরোকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ক্রুজেইরো। কিন্তু তাদের এই জয় ঢাকা পড়েছে মাঠের ভয়াবহ মারামারিতে। ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়েরা সংঘর্ষে জড়ালে রেফারি মোট ২৩ জনকে লাল কার্ড দেখান।
১ ঘণ্টা আগে
চলতি মাসে তিন ম্যাচের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেওয়ার কথা আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক সংঘাতের প্রভাবে দুই দলের মধ্যকার সাদা বলের সিরিজ দুটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হওয়ার পথে।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের তৃতীয় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জেতার স্বাদ পায় সূর্যকুমার যাদবের দল।
৩ ঘণ্টা আগে
গ্যারি কারস্টেনকে নিজেদের পুরুষ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে দাসুন শানাকা, পাথুম নিশাঙ্কাদের দায়িত্ব বুঝে নেবেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ক্রিকেটার। আজ এক বিবৃতিতে এসএলসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৪ ঘণ্টা আগে