Ajker Patrika

মেসির গোসল করানোর ছবি প্রকাশ করতে কেন আপত্তি করেছিলেন ইয়ামাল

ক্রীড়া ডেস্ক    
মেসির গোসল করানোর ছবি প্রকাশ করতে কেন আপত্তি করেছিলেন ইয়ামাল
২০০৭ সালে শিশু লামিনে ইয়ামালকে গোসল করিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। ছবি: ফেসবুক

১৯ বছর আগের এক ঘটনা। বাথটাবে বসা এক শিশুকে গোসল করানোর সময় হাসছেন লিওনেল মেসি। তাঁর মুখের হাসি দেখে হাসছে সেই শিশু। ২০০৭ সালের সেই শিশু যে লামিনে ইয়ামাল, তা এতক্ষণে অনেকে বুঝতে পেরেছেন। তবে এই ছবি প্রকাশ করতে ইয়ামাল আপত্তি করেছিলেন।

২০২৪ কোপা আমেরিকা, ইউরো এই দুই টুর্নামেন্টের ফাইনালের আগে বাথটাবে বসা ইয়ামালকে মেসির গোসল করানোর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। ২০০৭ সালে স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্ত ও ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিটি তুলেছিলেন হুয়ান মনফোর্ট। ছবিটি মূলত ইয়ামালের বাবা মুনির মাসরাউই প্রকাশ করেন। শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ানকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসির গোসল করানোর ছবি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ইয়ামাল বলেন, ‘আমি তাকে (বাবাকে) বলেছিলাম যেন তিনি ছবিটি প্রকাশ না করেন। একবার তিনি ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন, আর আমি তাকে সেটি মুছে ফেলতে বলি। তুলনাটা খুব সহজেই চলে আসত। সবাই শুধু সেটি নিয়েই কথা বলত।’

২০০৭ সালে মেসি খেলতেন বার্সেলোনায়। তখনো ঠিক পুরোপুরি মেসি হয়ে উঠতে পারেননি। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইয়ামাল বুঝতে পেরেছেন মেসির মাহাত্ম্য। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ, ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা—আর্জেন্টিনার হয়ে এই চারটা শিরোপা জিতেছেন মেসি।

১৯ বছর আগের গোসল করানোর ছবি নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ইয়ামাল জানিয়েছেন তাঁর আপত্তির কথা। ‘দ্য গার্ডিয়ান’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পেনের তারকা ফুটবলার বলেন, ‘আমি লামিনে হতে চেয়েছিলাম, মেসি হতে চাইনি। শুধু যতটা সম্ভব দূর যেতে চেয়েছিলাম। তাঁকে (বাবাকে) অপেক্ষা করতে বলেছিলাম। যখন আমি নিজের পরিচয়ে লামিনে হয়ে উঠব, তখন তিনি যা খুশি করতে পারবেন।’

নিউজার্সিতে গত ১৯ জুলাই আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে থেকেই সেটাকে অনেকে দেখছিলেন মেসি-ইয়ামাল ফাইনাল। হবে না-ই বা কেন! মেসি বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা জিতে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হয়ে উঠেছেন। ইয়ামাল ১৯ বছর বয়সেই ইউরো, লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ জিতে ফুটবল বিশ্বকে বার্তা দিয়ে রেখেছেন। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইয়ামালের স্পেন জেতে বিশ্বকাপও।

ফাইনালের মতো মঞ্চে মেসিকে দেখে তাঁর সঙ্গে আলিঙ্গন করার সুযোগ হাতছাড়া করলেন না ইয়ামাল। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবলে যেটাকে সুন্দর বলে মনে করা হয় কিংবা ছবিতে যেসব মুহূর্ত দেখতে ভালো লাগে—সব সময় সেসব থেকে আমি একটু দূরে থাকার চেষ্টা করি। এটা আমার ভেতর থেকেই এসেছিল। আমি তাঁকে (মেসি) সেখানে দেখলাম। ফুটবলের জন্য তিনি যা করেছেন, সেটার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাতে গেলাম। ব্যাপারটা একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত ছিল।’

ডায়েরির তিনটি ছেঁড়া পাতা, একটি সোনালি কলম—গত ৩১ আগস্ট সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি ছবিসহ আবেগঘন পোস্টে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন মেসি। পুরো বিশ্বে যেন তখন ভূকম্পন অনুভূত হয়। গত ২১ বছরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন মেসি। অ্যাসিস্ট করেছেন ৬৮ গোলে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ৬ অক্টোবর মনুমেন্তালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামবেন মেসি।

১৭ সেপ্টেম্বর মায়ামির নু স্টেডিয়ামে ক্যাম্পিওনিস কাপের ফাইনালে ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারায় ইন্টার মায়ামি। সেই ম্যাচে মেসি একটা গোল করেছেন এবং কাসেমিরোকে দিয়ে একটা গোলও করিয়েছেন। এই শিরোপা জিতে ক্যারিয়ারের ৪৮তম শিরোপা জিতলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত