Ajker Patrika

২৩ বছর আগের বাংলাদেশ সিরিজের কথা মনে করালেন গিলক্রিস্ট

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩৮
২৩ বছর আগের বাংলাদেশ সিরিজের কথা মনে করালেন  গিলক্রিস্ট
২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে ৪৩ রান করেছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। ছবি: সংগৃহীত

২০০৩ থেকে ২০২৬—২৩ বছরে কত কিছুরই তো পরিবর্তন হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। চার-ছক্কার ধুন্ধুমার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে অবসরে যাওয়া, অবসর ভেঙে ক্রিকেটে ফিরে আবার অবসর নেওয়া, ধারাভাষ্যকার-কোচিং পেশায় যোগ দেওয়াসহ অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ আবার চলে গেছেন না ফেরার দেশে। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট স্মৃতির পাতা উল্টে ফিরে গেলেন ২০০৩ সালে।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে গত কিছুদিন ধরেই ২৩ বছর কথাটা শোনা যাচ্ছে। ঘটনা নিশ্চয়ই সবার জানা। ২০০৩ সালে প্রথম ও শেষবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্টে খেলেছে বাংলাদেশ। খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দুটিতেই হেরেছিল ইনিংসে। ২৩ বছর আগের স্মৃতিচারণ করে ফক্স স্পোর্টসকে আজ গিলক্রিস্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্ট ম্যাচে আমি ব্যাট করেছিলাম, কিন্তু কেয়ার্নসের ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ পাইনি। ছেলেরা বেশ ভালো ব্যাটিং করেছিল।’

সুজন, হাবিবুল বাশার সুমন, হান্নান সরকাররা যখন অস্ট্রেলিয়া সফরে গেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ কেবল হাঁটি হাঁটি পা পা করে পথচলা শুরু করেছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে তখন রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল অজিরা। ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তিন দিনে শেষ হওয়া টেস্টে অস্ট্রেলিয়া এক ইনিংস ব্যাটিং করে ৪০৭ রান করেছিলেন। অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ ১০০ রান করে অপরাজিত ছিলেন। ড্যারেন লেম্যান করেছিলেন ১০০ রান। জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও গিলক্রিস্টের ব্যাট থেকে এসেছিল ৭১ ও ৪৩ রান। দুই ইনিংস ব্যাটিং করেও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ১৩২ রান কম করেছিল বাংলাদেশ।

২০০৩ সালে কেয়ার্নস টেস্ট চার দিনে শেষ হলেও অস্ট্রেলিয়া স্কোরবোর্ডে তুলেছিল রানের পাহাড়। ৪ উইকেটে ৫৫৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল অজিরা। এবার আর গিলক্রিস্টের ব্যাটিং করার সুযোগই মেলেনি। এই টেস্টে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল ইনিংস ও ৯৮ রানে। ২৩ বছরে টেস্টে বাংলাদেশ মনে রাখার মতো অনেক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। পাকিস্তানকে দুইবার টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। শততম টেস্টে জয়, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হারানো এমন আর কত কী!

অস্ট্রেলিয়ার শীতের মাসগুলোতে যখন দেশটির বাকি অংশ ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন ডারউইনের শুষ্ক মৌসুম ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য যেন এক টুকরো ক্রিকেট-স্বর্গের মতো। দক্ষিণের ঠান্ডা রাজ্যগুলোতে বসে থাকা ক্রিকেটাররা ফুটবল মৌসুম শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। তখন উত্তরাঞ্চলের ডারউইনের ক্রিকেটের মাঠ ও পরিবেশ হয়ে ওঠে আদর্শ। ফক্স স্পোর্টসকে গিলক্রিস্ট বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচের জন্য এটি একেবারেই ভিন্ন এক পরিবেশ। অন্য ভেন্যুগুলোর সঙ্গে যে পরিচিতি ও অভ্যস্ততা থাকে, সেটা একেবারে আলাদা। আমি মনে করি, এই নতুনত্ব একটা দলের মধ্যে দারুণ রোমাঞ্চকর অনুভূতি তৈরি করতে পারে।’

এই ডারউইনেই দুই টেস্ট ও এক ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে গিলক্রিস্টের। বর্তমানে তিনি ধারাভাষ্যকক্ষে অতি পরিচিত মুখ। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেন, ‘প্রচলিত গ্রীষ্মকালীন টেস্ট ম্যাচগুলোর মতো সেখানে অতটা মনোযোগ ও চাপ থাকে না। সেখানে একটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ আছে। এটা সতেজ অনুভূতি দেয়। আমার স্মৃতিতে জায়গাটি ছিল নতুন, ছিল ভিন্ন।’

ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল। আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত