Ajker Patrika

হামলা চালিয়ে লুট করা গরু দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভূরিভোজ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
হামলা চালিয়ে লুট করা গরু দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভূরিভোজ
পীরগাছায় ভাঙচুর ও লুট করে গরু নিয়ে যাওয়ার পর শূন্য গোয়াল । ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের পীরগাছায় প্রকাশ্য দিবালোকে দিনমজুরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গরু লুট করে ভূরিভোজ করার অভিযোগ উঠেছে তিন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেন। পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাব লুট করে নিয়ে যান। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজ রোববার বেলা ১১টায় উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চালানো হয়।

জানা গেছে, আজ বেলা ১১টায় ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০-৮০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী দামুরস্বর গ্রামের মৃত গফুর প্রামাণিকের ছেলে সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে প্রথমে হামলা চালায়। ভয়ে বাড়ির লোকজন সরে গেলে হামলাকারীরা চারটি ঘরে ভাঙচুর করে। এ সময় ফ্রিজ ও আসবাব ভাঙচুর করে শ্যালো মেশিন, সেচ দেওয়ার মোটর, টেলিভিশনসহ মূল্যবান আসবাব লুট করে নিয়ে যায়। সৈয়দ আলী, এরশাদ আলী ও রুবেল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তারা আটটি ঘর, মোটরসাইকেল, মূল্যবান আসবাব ভাঙচুর করে নগদ টাকাসহ ছয়টি বিদেশি জাতের গরু, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট ও দলিলপত্র নিয়ে যায়। ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালানোর পর লুট করা একটি গরু দিয়ে ভূরিভোজের আয়োজন করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ এসব প্রভাবশালীর ভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। প্রকাশ্যে দিনের বেলা গরিব মানুষের গরু ও আসবাব লুটপাটের ঘটনায় হতবাক তাঁরা।

ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরে থাকা এবং খাওয়ার মতো কিছু নেই। সব নিয়ে গেছে। ছোট বড় ছয়টি বিদেশি গরুর সঙ্গে রান্না করা পাতিলও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। চাল-ডাল কিছুই রেখে যায়নি। হামলার পুরো সময় বিভিন্ন স্থানে পাহারা বসানো ছিল। ফলে কেউ তাদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেনি।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আইয়ুব আলী ও রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ঘটনার সময় ছিলাম না। বাইরে ছিলাম।’

এ ব্যাপারে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, ‘৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়েছে শুনেছি। কিন্তু কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত