Ajker Patrika

হামলা চালিয়ে লুট করা গরু দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভূরিভোজ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৩৯
হামলা চালিয়ে লুট করা গরু দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভূরিভোজ
পীরগাছায় ভাঙচুর ও লুট করে গরু নিয়ে যাওয়ার পর শূন্য গোয়াল । ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের পীরগাছায় প্রকাশ্য দিবালোকে দিনমজুরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গরু লুট করে ভূরিভোজ করার অভিযোগ উঠেছে তিন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেন। পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাব লুট করে নিয়ে যান। জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজ রোববার বেলা ১১টায় উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুরস্বর গ্রামে ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চালানো হয়।

জানা গেছে, আজ বেলা ১১টায় ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব হোসেনের নেতৃত্বে ৭০-৮০ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী দামুরস্বর গ্রামের মৃত গফুর প্রামাণিকের ছেলে সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে প্রথমে হামলা চালায়। ভয়ে বাড়ির লোকজন সরে গেলে হামলাকারীরা চারটি ঘরে ভাঙচুর করে। এ সময় ফ্রিজ ও আসবাব ভাঙচুর করে শ্যালো মেশিন, সেচ দেওয়ার মোটর, টেলিভিশনসহ মূল্যবান আসবাব লুট করে নিয়ে যায়। সৈয়দ আলী, এরশাদ আলী ও রুবেল মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তারা আটটি ঘর, মোটরসাইকেল, মূল্যবান আসবাব ভাঙচুর করে নগদ টাকাসহ ছয়টি বিদেশি জাতের গরু, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট ও দলিলপত্র নিয়ে যায়। ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালানোর পর লুট করা একটি গরু দিয়ে ভূরিভোজের আয়োজন করে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘটনার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ এসব প্রভাবশালীর ভয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। প্রকাশ্যে দিনের বেলা গরিব মানুষের গরু ও আসবাব লুটপাটের ঘটনায় হতবাক তাঁরা।

ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘরে থাকা এবং খাওয়ার মতো কিছু নেই। সব নিয়ে গেছে। ছোট বড় ছয়টি বিদেশি গরুর সঙ্গে রান্না করা পাতিলও নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। চাল-ডাল কিছুই রেখে যায়নি। হামলার পুরো সময় বিভিন্ন স্থানে পাহারা বসানো ছিল। ফলে কেউ তাদের প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসেনি।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আইয়ুব আলী ও রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ঘটনার সময় ছিলাম না। বাইরে ছিলাম।’

এ ব্যাপারে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, ‘৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়েছে শুনেছি। কিন্তু কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত