ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসন এবং স্থানীয় সমাজের সঙ্গে সংহতি স্থাপনের ক্ষেত্রে এক গভীর ও জটিল সংকটের চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা ও পরিসংখ্যানে। বিশেষ করে জার্মানি এবং সুইডেনের মতো দেশগুলোতে স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ নারী এবং শরণার্থী পুরুষদের মধ্যকার প্রেম, বিয়ে এবং নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
গত ২৭ মার্চ ‘জার্নাল অব ফ্যামিলি স্টাডিজ’-এ প্রকাশিত স্তেফানি হেইন এবং ইরিনা কোগানের একটি গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, ২০১৪-১৬ সালের মধ্যে জার্মানিতে আসা আফগান ও সিরীয় শরণার্থী পুরুষদের মধ্যে স্থানীয় জার্মান নারীদের সঙ্গে প্রেম বা বিয়ের সম্পর্ক স্থাপনের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও, স্থানীয় নারীদের মধ্যে এই হার অত্যন্ত কম। গবেষকেরা এ প্রবণতাকে ‘পার্টনারশিপ ডাইনামিকস’-এর একটি উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতাই নয়, বরং গভীর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্য এই অনীহার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে।
প্রতিবেদনে অভিবাসন এবং যৌন অপরাধের মধ্যকার যোগসূত্র নিয়ে কিছু উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। সুইডেনে ২০০০-২০ সালের মধ্যে হওয়া ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অপরাধীদের প্রায় ৬৩ শতাংশই অভিবাসী (যাদের জন্ম বিদেশে অথবা মা-বাবার অন্তত একজন অভিবাসী)। বিশেষ করে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সে যাঁরা সুইডেনে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে এই অপরাধের হার বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
২০১৫ সালে কোলন শহরে থার্টি ফার্স্ট নাইটের ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার পুরুষদের বিরুদ্ধে প্রায় এক হাজার নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। পুলিশের কাছে ১ হাজার ২১০টি অভিযোগ জমা পড়লেও মাত্র একটি যৌন নিপীড়নের দণ্ড কার্যকর হওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর পারিবারিক কাঠামোর একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৯৭ এবং ২০২২ সালের পৃথক দুটি গবেষণায় দেখা গেছে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রক্তের সম্পর্কের মধ্যে বিবাহের হার ২০ শতাংশ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। গবেষকদের মতে, এ ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গে ইউরোপীয় মূল্যবোধের বড় দূরত্ব রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ নারীদের বিবাহের পরিসংখ্যানগুলোকে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ‘সামাজিক ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর চেষ্টা করা হতে পারে, যাতে অভিবাসীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো যায়। এর উদাহরণ হিসেবে ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে ‘সেক্স উইথ রিফিউজিস ইজ জেসমিন-সেন্টেড অ্যান্ড বিউটিফুল’ শীর্ষক বিতর্কিত প্রচারণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক এবং মহাকাব্যিক উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বড় আকারে তরুণ এবং অবিবাহিত পুরুষদের অভিবাসন কোনো সমাজের জন্য কেবল শুধু জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পৃথিবীর নিজ অক্ষের ওপর হেলানো অবস্থান এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল চলার কারণে, আজ ৮ জুলাই বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ১১টা ১০ মিনিট) বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৯ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৮২০ মানুষ একই সময়ে দিনের আলো অথবা গোধূলির আলো অনুভব করবেন।
৩ দিন আগে
তিনি ইতিমধ্যেই একবার বিশ্বকে বদলে দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরে আবিষ্কৃত নীল লাইট-এমিটিং ডায়োড (এলইডি) আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আমূল পরিবর্তিত করেছে। কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, বড় স্ক্রিন, ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক বিলবোর্ড—সবকিছুই আজ আলো ছড়াচ্ছে তাঁর সেই যুগান্তকারী আবিষ্কারের কল্যাণে।
৩ দিন আগে
শহরের পাখিরা পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি ভয় পায় এবং নারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দূরত্ব বজায় রাখে—সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘পিপল অ্যান্ড নেচার’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি বিজ্ঞানীদের যেমন চমকে দিয়েছে, তেমনি তৈরি করেছে নতুন রহস্য।
৫ দিন আগে
মহাকাশে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসা নাসার গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইফট’ মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্রকে রক্ষায় এক নজিরবিহীন উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) নাসার অর্থায়নে তৈরি ‘লিংক’ নামের একটি রোবোটিক মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, যার লক্ষ্য তিনটি যান্ত্রিক বাহুর সাহায্যে সুইফটকে ধরে আবার নিরাপদ কক্ষপথে
৭ দিন আগে