
১৮৪৫ সালের দুর্ভাগ্যজনক ফ্রাঙ্কলিন অভিযানের চার নাবিকের পরিচয় অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। প্রায় ১৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আর্কটিকে নিখোঁজ থাকা এই অভিযানের রহস্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। সাম্প্রতিক দুটি গবেষণাপত্রে উঠে আসা নতুন তথ্য ইতিহাসের অন্যতম বড় সামুদ্রিক রহস্যের ওপর নতুন আলোকপাত করেছে।
রোববার (১৭ মে) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘দ্য পিপল’ জানায়, ব্রিটিশ অভিযাত্রী স্যার জন ফ্রাঙ্কলিনের নেতৃত্বে ১৮৪৫ সালের মে মাসে ইংল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে দুটি জাহাজ—এইচএমএস ইরেবাস এবং এইচএমএস টেরর। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল উত্তর আমেরিকার উত্তরাঞ্চলীয় জলপথ ব্যবহার করে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগরে যাওয়ার সম্ভাব্য সমুদ্রপথ, অর্থাৎ নর্থওয়েস্ট প্যাসেজের মানচিত্র তৈরি করা। অভিযানে মোট ১২৯ জন নাবিক অংশ নেন।
কিন্তু যাত্রার এক বছরের মাথায় জাহাজ দুটি কানাডার আর্কটিক অঞ্চলের বরফে আটকে পড়ে। কঠোর আবহাওয়া, খাদ্যসংকট ও অসুস্থতায় একে একে সবাই মারা যান। ১৮৪৭ সালে স্যার জন ফ্রাঙ্কলিনের মৃত্যু হলে জীবিত থাকা ১০৫ জন নাবিক ১৮৪৮ সালে সমুদ্রের বরফ পেরিয়ে কানাডার মূল ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই বাঁচতে পারেননি।
সম্প্রতি জার্নাল অব আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় কিং উইলিয়াম দ্বীপ থেকে উদ্ধার হওয়া হাড় ও দাঁতের নমুনা পরীক্ষা করে এইচএমএস ইরেবাসের তিন নাবিকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যের শিকার ওই নাবিকেরা হলেন—উইলিয়াম অরেন, ডেভিড ইয়াং এবং জন ব্রিজেন্স। একই সঙ্গে ‘পোলার রেকর্ড’ সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় এইচএমএস টেররের কর্মকর্তা হ্যারি পেগলারের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, আধুনিক ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং বংশগত তথ্য অনুসন্ধানের অগ্রগতির ফলে জীবিত উত্তরসূরিদের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের মিল খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে পেগলারের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় ‘পেগলার পেপারস’ নামে পরিচিত ঐতিহাসিক নথির রহস্যও অনেকটা উন্মোচিত হয়েছে।
গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য ও ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ডগলাস স্টেন্টন বলেন, ‘পরিস্থিতি নিশ্চয়ই ভয়াবহ ছিল। তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। আর তিন বছর আর্কটিকে কাটানোর পর নাবিকদের শারীরিক অবস্থাও খুব খারাপ ছিল।’
গবেষকদের ধারণা, এখন পর্যন্ত অভিযানের অন্তত ২৩ সদস্যের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। এর আগে একই গবেষণা দল আরও দুজন নাবিকের পরিচয় শনাক্ত করেছিল। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে আসা মানুষের অভিজ্ঞতাকে বলা হয়—‘নিয়ার-ডেথ এক্সপেরিয়েন্স’ বা ‘এনডিই’। দীর্ঘদিন ধরেই জীবন আর মৃত্যুর মাঝে থাকা এই ধূসর অবস্থাটি নিয়ে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের কৌতূহলের অন্ত নেই।
৩ ঘণ্টা আগে
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। আটলান্টিক মহাসাগরের অন্যতম এক দীর্ঘস্থায়ী রহস্য। কয়েক দশক ধরে ভূতত্ত্ববিদদের ভাবনায় ঘুরপাক খাচ্ছে এর রহস্য। বারবার প্রশ্ন উঠছে, ৩০ মিলিয়ন বা ৩ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে বারমুডার আগ্নেয়গিরিগুলো নিষ্ক্রিয় থাকা সত্ত্বেও কেন দ্বীপটি চারপাশের সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে এত উঁচুতে অবস্থান করছে?
১ দিন আগে
ভ্যাম্পায়ার বা রক্তচোষা বাদুড় কাল্পনিক হতে পারে, তবে মানুষের রক্তের জন্য ক্ষুধার্ত বাস্তব কিছু প্রাণী আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, যার মধ্যে অন্যতম হলো মশা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাম্পায়ার তাড়ানোর লোককাহিনির সেই চেনা রসুনই এবার এই রক্তচোষা পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে দারুণ কাজ করতে পারে।
২ দিন আগে
সপ্তদশ শতাব্দীর এক অনন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান যন্ত্র বা ‘অ্যাস্ট্রোল্যাব’ লন্ডনের সোথবি’স নিলামঘরে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। লাহোরে তৈরি এই পিতলের বিশাল যন্ত্রটি ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি (প্রায় ২.৭৫ মিলিয়ন ডলার) দামে বিক্রি হয়েছে।
১৪ দিন আগে