Ajker Patrika

পৃথিবী থেকে চাঁদের চেয়ে চার গুণ কাছে এসেছে একটি গ্রহাণু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ মে ২০২৬, ১৮: ৫৮
পৃথিবী থেকে চাঁদের চেয়ে চার গুণ কাছে এসেছে একটি গ্রহাণু
প্রতীকী ছবি: সিএনএন

সম্প্রতি আবিষ্কৃত একটি গ্রহাণু খুব কাছ দিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করতে যাচ্ছে। তবে এতে কোনো ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) জানিয়েছে, ‘২০২৬ জেএইচ২’ নামের এই গ্রহাণুটি আজ সোমবার (১৮ মে) পৃথিবীর প্রায় ৯১ হাজার ৫৯৩ কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করছে। দূরত্বটি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার গড় দূরত্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।

সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে অবস্থিত মাউন্ট লেমন সার্ভের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গত ১০ মে গ্রহাণুটি শনাক্ত করেন। এটি ‘অ্যাপোলো’ শ্রেণির গ্রহাণুর অন্তর্ভুক্ত, যাদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথকে অতিক্রম করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন গ্রহাণু নিয়মিতভাবেই পৃথিবীর আশপাশ দিয়ে যায়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এগুলোকে এখন সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গ্রহবিজ্ঞানী রিচার্ড বিনজেল জানিয়েছেন, ‘২০২৬ জেএইচ ২ নিরাপদভাবেই পৃথিবী অতিক্রম করবে। একটি স্কুলবাসের সমান আকৃতির বস্তু বছরে কয়েকবার আমাদের মহাজাগতিক প্রতিবেশে আসে।’

তবে এবারের গ্রহাণুটির সঠিক আকার এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কারণ অপটিক্যাল টেলিস্কোপ কোনো বস্তুর কেবল দৃশ্যমান আলোর উজ্জ্বলতা পরিমাপ করতে পারে। বস্তুটি কতটা আলো প্রতিফলিত করে বা শোষণ করে, তা জানা যায় না। ফলে সেটি ছোট কিন্তু বেশি উজ্জ্বল, নাকি বড় কিন্তু অন্ধকার—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।

বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ জেএইচ২-এর ব্যাস হতে পারে ১৫ থেকে ৩০ মিটার। ছোট আকারের হলে এটি ২০১৩ সালে রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে বিস্ফোরিত উল্কাপিণ্ডের সমান হতে পারে, যার আঘাতে বহু জানালা ভেঙে গিয়েছিল এবং প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছিল। আর বড় আকারের হলে এটি ১৯০৮ সালের সাইবেরিয়ার তুঙ্গুস্কা বিস্ফোরণের কাছাকাছি হতে পারে, যেখানে বিশাল বনভূমি ধ্বংস হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন, ২০২৬ জেএইচ ২ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে না, তাই বিস্ফোরণের কোনো ঝুঁকি নেই।

বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রহাণুটি মূলত মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝামাঝিতে অবস্থান করা গ্রহাণুপুঞ্জ থেকে এসেছে। সেখানে সংঘর্ষ এবং বৃহস্পতির মহাকর্ষীয় প্রভাবে ছোট ছোট গ্রহাণু পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে।

এদিকে বিজ্ঞানীরা ‘অ্যাপোফিস’ নামে আরও বড় একটি গ্রহাণুর জন্য অপেক্ষা করছেন, যা ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল পৃথিবীর মাত্র ৩২ হাজার কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করবে। এত কাছ দিয়ে বিশাল কোনো গ্রহাণুর অতিক্রম বিরল ঘটনা হলেও বিজ্ঞানীরা এতে উদ্বিগ্ন নন। বরং এটি গবেষণার জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা ছোট গ্রহাণুগুলোর মাত্র ১ শতাংশ এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন নতুন পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত