
সম্প্রতি আবিষ্কৃত একটি গ্রহাণু খুব কাছ দিয়ে পৃথিবী অতিক্রম করতে যাচ্ছে। তবে এতে কোনো ধরনের বিপদের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) জানিয়েছে, ‘২০২৬ জেএইচ২’ নামের এই গ্রহাণুটি আজ সোমবার (১৮ মে) পৃথিবীর প্রায় ৯১ হাজার ৫৯৩ কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করছে। দূরত্বটি পৃথিবী ও চাঁদের মধ্যকার গড় দূরত্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনে অবস্থিত মাউন্ট লেমন সার্ভের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা গত ১০ মে গ্রহাণুটি শনাক্ত করেন। এটি ‘অ্যাপোলো’ শ্রেণির গ্রহাণুর অন্তর্ভুক্ত, যাদের কক্ষপথ পৃথিবীর কক্ষপথকে অতিক্রম করে। বিজ্ঞানীদের মতে, এমন গ্রহাণু নিয়মিতভাবেই পৃথিবীর আশপাশ দিয়ে যায়। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এগুলোকে এখন সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গ্রহবিজ্ঞানী রিচার্ড বিনজেল জানিয়েছেন, ‘২০২৬ জেএইচ ২ নিরাপদভাবেই পৃথিবী অতিক্রম করবে। একটি স্কুলবাসের সমান আকৃতির বস্তু বছরে কয়েকবার আমাদের মহাজাগতিক প্রতিবেশে আসে।’
তবে এবারের গ্রহাণুটির সঠিক আকার এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। কারণ অপটিক্যাল টেলিস্কোপ কোনো বস্তুর কেবল দৃশ্যমান আলোর উজ্জ্বলতা পরিমাপ করতে পারে। বস্তুটি কতটা আলো প্রতিফলিত করে বা শোষণ করে, তা জানা যায় না। ফলে সেটি ছোট কিন্তু বেশি উজ্জ্বল, নাকি বড় কিন্তু অন্ধকার—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ জেএইচ২-এর ব্যাস হতে পারে ১৫ থেকে ৩০ মিটার। ছোট আকারের হলে এটি ২০১৩ সালে রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে বিস্ফোরিত উল্কাপিণ্ডের সমান হতে পারে, যার আঘাতে বহু জানালা ভেঙে গিয়েছিল এবং প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছিল। আর বড় আকারের হলে এটি ১৯০৮ সালের সাইবেরিয়ার তুঙ্গুস্কা বিস্ফোরণের কাছাকাছি হতে পারে, যেখানে বিশাল বনভূমি ধ্বংস হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন, ২০২৬ জেএইচ ২ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে না, তাই বিস্ফোরণের কোনো ঝুঁকি নেই।
বিজ্ঞানীরা জানান, গ্রহাণুটি মূলত মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝামাঝিতে অবস্থান করা গ্রহাণুপুঞ্জ থেকে এসেছে। সেখানে সংঘর্ষ এবং বৃহস্পতির মহাকর্ষীয় প্রভাবে ছোট ছোট গ্রহাণু পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে।
এদিকে বিজ্ঞানীরা ‘অ্যাপোফিস’ নামে আরও বড় একটি গ্রহাণুর জন্য অপেক্ষা করছেন, যা ২০২৯ সালের ১৩ এপ্রিল পৃথিবীর মাত্র ৩২ হাজার কিলোমিটার দূর দিয়ে অতিক্রম করবে। এত কাছ দিয়ে বিশাল কোনো গ্রহাণুর অতিক্রম বিরল ঘটনা হলেও বিজ্ঞানীরা এতে উদ্বিগ্ন নন। বরং এটি গবেষণার জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা ছোট গ্রহাণুগুলোর মাত্র ১ শতাংশ এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন নতুন পর্যবেক্ষণ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটি বিতর্ক রয়েছে—এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে প্রাণের বীজ বা জীবাণু কি মহাকাশের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে? ‘প্যানস্পারমিয়া’ নামে পরিচিত এই তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো গ্রহে প্রাণের মৌলিক উপাদান তৈরি হলে বৃহৎ উল্কাপাত বা মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে সেই গ্রহের পৃষ্ঠের কিছু অংশ...
২ দিন আগে
আধুনিক কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ১৯১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্লাংকের ১৯৪০-এর দশকে লেখা দুটি ঐতিহাসিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রত্যাহার করেছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা সংস্থা ‘স্প্রিংগার নেচার’ (Springer Nature)।
৫ দিন আগে
থোরিয়াম-২২৯ ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো কার্যকর নিউক্লিয়ার ঘড়ি তৈরি করলেন ইউরোপ ও চীনের দুই স্বাধীন গবেষক দল। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পারমাণবিক ঘড়িকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং ডার্ক ম্যাটার অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
১৬ দিন আগে
পুরুষদের চুল পড়া বা টাক পড়া (অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া) সমস্যার চিকিৎসায় ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উদ্ভিদের শিকড় অত্যন্ত কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই আবিষ্কারটি প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যা ও আধুনিক বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটিয়েছে।
২১ দিন আগে