
প্রতিদিন পুরুষ থেকে নারী, আবার নারী থেকে পুরুষ—অ্যাভোকাডোগাছের ফুলের এই বিস্ময়কর লিঙ্গ পরিবর্তনের রহস্য অবশেষে উদ্ঘাটন করেছেন বিজ্ঞানীরা। নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন-কোডিং জিন অ্যাভোকাডোগাছের ফুলকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট ছন্দে লিঙ্গ পরিবর্তনে সহায়তা করে।
অ্যাভোকাডোগাছে এই অসাধারণ প্রজনন কৌশলের ঘটনাটি বসন্তকালে ঘটে। গাছটির ফুল একই সঙ্গে পুরুষ ও নারী প্রজনন অঙ্গ ধারণ করলেও দিনের বিভিন্ন সময়ে তারা ভিন্ন লিঙ্গের ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদবিজ্ঞানী এ এ স্টাউট ৯৯ বছর আগে ১৯২৭ সালেই এই বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তবে এত দিন বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেননি কীভাবে ফুলগুলো এত নিখুঁত সময় মেনে এই পরিবর্তন ঘটায়।
অ্যাভোকাডোগাছের বৈজ্ঞানিক নাম ‘পারসিয়া আমেরিকানা’ (Persea americana)। এর ফুলের আচরণ প্রধানত দুই ধরনের। ‘এ-টাইপ’ গাছে ফুল সকালে নারী পর্যায়ে থাকে—অর্থাৎ, পরাগ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে। পরদিন বিকেলে একই ফুল পুরুষ পর্যায়ে গিয়ে পরাগ উৎপাদন করে। অন্যদিকে ‘বি-টাইপ’ গাছে এর বিপরীত ছন্দ দেখা যায়। তারা সকালে পুরুষ পর্যায়ে থাকে এবং পরদিন বিকেলে নারী পর্যায়ে যায়।
বার্কলির ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পোস্টডক্টরাল গবেষক জেফরি গ্রোহ ও তাঁর সহকর্মীরা ‘প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স ইউএসএ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় এই রহস্যের জিনগত ভিত্তি শনাক্ত করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে—একটি নির্দিষ্ট জিন এমন একটি প্রোটিন তৈরি করে, যা আরও বহু জিনকে সক্রিয় করে ফুলের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে সমন্বয় করে। এর ফলে পুরো গাছের ফুলগুলো যেন একই ছন্দে নারী থেকে পুরুষ কিংবা পুরুষ থেকে নারীতে রূপান্তরিত হয়।
বিষয়টি নিয়ে গবেষণায় অংশ না নেওয়া ইউটা স্টেট ইউনিভার্সিটির উদ্ভিদ বিবর্তনীয় জিনতত্ত্ববিদ ক্যাথি রাশওয়ার্থ বলেন, শনাক্ত করা জিনের অঞ্চলে এত স্পষ্ট সংকেত পাওয়া গেছে যে, তা যেন ‘অন্ধকারেও জ্বলজ্বল করে’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, অ্যাভোকাডোর এই প্রজনন কৌশল প্রায় চার কোটি বছর আগে বিবর্তিত হয়েছিল। একই ধরনের কৌশল কিছু ঘনিষ্ঠ প্রজাতিতে দেখা গেলেও সব ক্ষেত্রে একই জিনগত প্রক্রিয়া কাজ করে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৃতিতে এই বিস্ময়কর প্রজনন কৌশল একাধিকবার স্বাধীনভাবে বিবর্তিত হয়েছে।

পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত খুঁজে চলেছেন এবং মহাবিশ্বে আমরা সত্যিই একা নই, এমন কোনো ইঙ্গিতের জন্য সংকেতও শুনে চলেছেন। এবার হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স এবং ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের...
৭ দিন আগে
পৃথিবীর আলো, উষ্ণতা ও প্রাণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস এই সূর্যকে আমাদের কাছে চিরস্থায়ী মনে হয়। কিন্তু মহাবিশ্বের কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একসময় সূর্যও তার বর্তমান রূপ হারিয়ে ফেলবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ঘটতে এখনো বিপুল সময় বাকি।
১০ দিন আগে
আফ্রিকা মহাদেশ ধারণার চেয়েও দ্রুত দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদেরা। মহাদেশটির একটি সক্রিয় রিফট বা ভূত্বক বিচ্ছিন্ন হওয়া অঞ্চল ইতিমধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ সীমা’ বা ক্রিটিক্যাল থ্রেশহোল্ডে পৌঁছে গেছে। ফলে আগামী কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে এই অঞ্চল ভেঙে গিয়ে সেখানে...
১১ দিন আগে
মানব মস্তিষ্ক বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো, মস্তিষ্কের ভেতরেই একজন ‘মানুষের’ টিকে থাকা। কারণ মানুষ জীবিত থাকা অবস্থায় তার মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার বা ধূসর পদার্থ নিয়ে বিজ্ঞানীরা ইচ্ছেমতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন না। ফলে মস্তিষ্ক কীভাবে বিকশিত হয়, কীভাবে এর বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয়...
১২ দিন আগে