
মানুষের আগে যদি পৃথিবীতে কোনো উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতা গড়ে উঠত, আমরা কি আজ তার কোনো চিহ্ন খুঁজে পেতাম? প্রশ্নটি শুনতে কল্পবিজ্ঞানের মতো মনে হলেও, বিজ্ঞানীরা একে পুরোপুরি অসম্ভব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বরং এই অদ্ভুত ভাবনাই জলবায়ু পরিবর্তন, সভ্যতার ভবিষ্যৎ এবং পৃথিবীতে মানুষের অবস্থান নিয়ে নতুন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
রোববার (২৩ জুলাই) সিএনএন জানায়, ২০১৭ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট অ্যাডাম ফ্র্যাঙ্ক নাসার বিজ্ঞানী গ্যাভিন শ্মিটের সঙ্গে এক আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। ফ্র্যাঙ্কের প্রশ্ন ছিল—উন্নত কোনো এলিয়েন সভ্যতা কি জলবায়ু পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে পারে? তিনি অন্য গ্রহে সভ্যতার উত্থান ও পতন নিয়ে গবেষণা করছিলেন। কথার একপর্যায়ে ফ্র্যাঙ্ক বলেছিলেন, পৃথিবীতে এর আগে কোনো সভ্যতা ছিল না—এটা তো আমরা জানিই।
শ্মিট সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, ‘আপনি কীভাবে জানেন?’
এই প্রশ্নই দুজন বিজ্ঞানীকে নিয়ে গেল এক বিস্ময়কর অনুসন্ধানে। তাঁরা ভাবতে শুরু করলেন, কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীতে যদি কোনো উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠত, আর তাদের কর্মকাণ্ড যদি জলবায়ু বদলে ফেলত এবং একসময় বিলুপ্ত হয়ে যেত—তাহলে আমরা কি আজ এর কোনো চিহ্ন খুঁজে পেতাম?
২০১৮ সালে এ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণার নাম দেওয়া হয় ‘সিলুরিয়ান হাইপোথিসিস’। নামটি নেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ডক্টর হু’-এর কাল্পনিক উন্নত সরীসৃপ জাতির নাম থেকে।
এই ধারণার উদ্দেশ্য প্রাচীন কোনো সভ্যতা ছিল—এমন দাবি করা নয়। বরং বিজ্ঞানীরা জানতে চেয়েছেন, এমন সভ্যতা থাকলে তার অস্তিত্বের প্রমাণ কোথায় পাওয়া যেতে পারে।
এ অবস্থায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীর জলবায়ুতে ঘটে যাওয়া এক অস্বাভাবিক ঘটনায় শ্মিটের আগ্রহ তৈরি হয়। ওই সময় পৃথিবীর তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, বিপুল পরিমাণ কার্বন বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু বাস্তুতন্ত্র বিপর্যস্ত হয়। ঘটনাটি ‘প্যালিওসিন-ইওসিন থার্মাল ম্যাক্সিমাম’ নামে পরিচিত। এর কারণ হিসেবে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা মিথেনের আকস্মিক নিঃসরণের মতো প্রাকৃতিক ঘটনাকে দায়ী করা হয়। তবে এর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো কিছু রহস্য রয়ে গেছে।
এই ধরনের প্রাচীন জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমান পৃথিবীর মিল বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে। তবে কোনো অতীত সভ্যতা এমন পরিবর্তনের জন্য দায়ী ছিল কি না, তার সরাসরি কোনো প্রমাণ এখনো নেই।
সমস্যা হলো, কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবী নিজেই তার অতীতকে মুছে দেয়। ভূত্বকের পরিবর্তন, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিক্ষয় ও টেকটোনিক প্লেটের গতিবিধিতে প্রাচীন স্থাপনা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। এমনকি জীবাশ্মও অত্যন্ত দুর্লভ। কোটি কোটি প্রাণীর মধ্যে অতি সামান্য অংশই জীবাশ্মে পরিণত হয়।
তবে সভ্যতার রেখে যাওয়া রাসায়নিক চিহ্ন হয়তো টিকে থাকতে পারে। মানুষের মতো কোনো সভ্যতা যদি বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ, প্লাস্টিক, ভারী ধাতু, কৃত্রিম রাসায়নিক বা দীর্ঘস্থায়ী দূষক তৈরি করত, সেগুলোর কিছু চিহ্ন ভবিষ্যতের ভূস্তরে থেকে যেতে পারত।
ভূতত্ত্ববিদ ও জীবাশ্মবিদ জান জালাসিয়েভিচ মনে করেন—আধুনিক মানুষের মতো ‘শক্তিনির্ভর, নির্মাণপ্রবণ ও বিপুল বর্জ্য উৎপাদনকারী’ কোনো সভ্যতা আগে থাকলে তার চিহ্ন মুছে ফেলা কঠিন হতো।
তবু সিলুরিয়ান হাইপোথিসিসের সবচেয়ে বড় গুরুত্ব অন্য জায়গায়। এটি আমাদের অতীতের চেয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ভাবতে বাধ্য করে। আমরা প্রযুক্তি তৈরি করতে পেরেছি, কিন্তু সেই প্রযুক্তির কারণে সৃষ্ট জলবায়ু সংকট সামলানোর মতো প্রজ্ঞা কি আমাদের আছে?
অ্যাডাম ফ্র্যাঙ্কের প্রশ্নটি তাই গভীর—আমরা কি পৃথিবীর চালানো এমন এক পরীক্ষা, যে পরীক্ষার শেষ পরিণতি ব্যর্থতা?

আয়ারল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলে কাউন্টি স্লিগোর এক কাদা চরে ভেসে এসেছে একটি গভীর সমুদ্রের গ্রিনল্যান্ড হাঙরের মৃতদেহ। প্রায় তিন মিটার দীর্ঘ এবং ২০০ কেজি ওজনের এই হাঙরটির বয়স অন্তত ১৫০ বছর বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।
৮ ঘণ্টা আগে
গণিত শাস্ত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে পরিচিত ‘ফিল্ডস মেডেল’ অর্জন করেছেন চীন থেকে উঠে আসা দুই তরুণ গণিতবিদ। প্রায় এক শতাব্দী ধরে সমাধানহীন থাকা অত্যন্ত জটিল দুটি গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে তাঁরা এই ইতিহাস গড়েছেন। ফিল্ডস মেডেলের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম চীন থেকে পড়াশোনা শুরু করা কোনো নাগরিক...
১ দিন আগে
পৃথিবীর বুকে ধেয়ে আসা এবং ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে এমন গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েডগুলোকে আগেভাগেই শনাক্ত করতে একটি অত্যাধুনিক আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম বা পূর্ব সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে চীন। চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের (সিএনএসএ) অধীনে থাকা গ্রহাণু পর্যবেক্ষণ ও পূর্ব সতর্কীকরণ...
৮ দিন আগে
কুখ্যাত এই শিকারি প্রাণীর জীবাশ্মটি (ফসিল) উচ্চতায় ১২ ফুটেরও (৪ মিটার) বেশি। সোথবিসের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্কালটির ৬০ শতাংশের বেশি হাড় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ টি. রেক্স জীবাশ্মগুলোর একটি।
১১ দিন আগে