সংরক্ষিত নারী আসন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন কারা পাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড। তাই মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তাকিয়ে আছেন হাইকমান্ডের দিকে।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে বিএনপিতে জোর তৎপরতা চলছে। মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে থাকা নারী নেত্রীদের অধিকাংশই নতুন মুখ। তাঁদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের নেত্রীরাও আছেন। তাঁরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। দলের নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা—এসব বিষয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনায় আসতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
আইন অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। ২টি আসনের ফলাফল স্থগিত রেখে বাকি ২৯৭টি আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে।
সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত আসন পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে বিজয়ী হওয়ায় দলটি প্রায় ৩৭টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। ৬৮টি আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১টির বেশি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ১টি।
বিএনপির সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হবে। ঈদুল ফিতরের পরপরই মনোনয়নপ্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অনেকে এবার মনোনয়নপ্রত্যাশী। তাঁরা এ জন্য তৎপরতাও শুরু করেছেন। অনেক নেত্রী জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। দলের গুলশান কার্যালয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসভবন এবং সচিবালয়ে গিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও দমনপীড়নের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দলের কাছে রাজনৈতিক স্বীকৃতি চাইছেন তাঁরা।
বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অনেকে বলছেন, তাঁদের প্রত্যাশা মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল শুধু পরিচয়ের রাজনীতি নয়, মাঠের অবদান ও রাজনৈতিক ত্যাগকেও গুরুত্ব দেবে। পরিবারতন্ত্রের বাইরে থেকে উঠে আসা নেত্রীদের যোগ্যতা ও সংগ্রামের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, নাজমুন নাহার বেবী, শাম্মী আক্তার, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আক্তার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন। এ ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পরাজিত সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা ও সানজিদা ইসলাম তুলির নামও শোনা যাচ্ছে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখের নামও আলোচনায় এসেছে। তাঁদের মধ্যে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন ও কনকচাঁপাও রয়েছেন। এ ছাড়া প্রয়াত মন্ত্রী মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ, বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে ব্যারিস্টার সালিমা বেগম আরুণি, বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমদ এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা আহমেদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
মনোনয়নপ্রত্যাশী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হলে তা আমার আছে। রাজপথে সর্বোচ্চ ত্যাগের যে ব্যাপারটা... মামলা-মোকদ্দমা, জেল খাটা, হাজত খাটা—সবই আমার আছে। এরপরে যা আছে তা হলো আমি কোনো হাইব্রিড না, সুবিধাভোগী না।’
মহিলা দলের সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক আসমা আজিজ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা সামনের সারিতে ছিলেন, তাঁদেরই সংরক্ষিত নারী আসনে দেখা উচিত। দলের চেয়ারম্যান ত্যাগীদের মূল্যায়নের কথা বলেছেন। সেই হিসেবে আমাকে দল বিবেচনা করবে বলে বিশ্বাস করি।’
মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে নতুন প্রজন্মেরও অনেকে আছেন আলোচনায়। তাঁদের একজন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক জান্নাতুল নওরীন ঊর্মি বলেন, যাঁরা মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন, আইন প্রণয়ন ও সংসদের কার্যক্রমে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে নারীদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি। ক্ষমতাসীনদের এই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মনে করছে। বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, ঈদের পরে এ বিষয়ে সোচ্চার হবেন তাঁরা, প্রয়োজনে নামবেন রাজপথে।
১ ঘণ্টা আগে
সিয়াম সাধনার মাস রমজান প্রায় শেষ! এমন এক সময়ে এসে ‘কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে আত্মিক যাত্রার এক নীরব সূচনার’ কথা জানিয়ে পোস্ট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই যাত্রায় তিনি ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ কাউকে কষ্ট...
৭ ঘণ্টা আগে
বিগত সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারে ‘ঈদ উপহার’ দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৭ বছরে গুম, খুন নির্যাতনের শিকার পরিবার ও চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এই ‘ঈদ উপহার’ পাবেন...
৮ ঘণ্টা আগে
ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকে নানা প্রসঙ্গে আলোচিত-সমালোচিত এবং জনপ্রিয় হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর মন্তব্যের কারণেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি।
১৬ ঘণ্টা আগে