Ajker Patrika

সংবিধান সংস্কার পরিষদ: জমছে সংকটের মেঘ

  • ঈদের পরে আন্দোলনের প্রস্তুতি বিরোধী দলের।
  • কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে দলগুলোর মধ্যে।
  • খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি।
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সংবিধান সংস্কার পরিষদ: জমছে সংকটের মেঘ

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না বিএনপি। ক্ষমতাসীনদের এই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে বলে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী অন্য রাজনৈতিক দলগুলো মনে করছে। বিরোধী জোটের নেতারা বলছেন, ঈদের পরে এ বিষয়ে সোচ্চার হবেন তাঁরা, প্রয়োজনে নামবেন রাজপথে।

সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট শরিকেরা সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরা এই শপথ নেননি।

সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের মতো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশে বলা থাকলেও রাষ্ট্রপতি শুধু সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এ নিয়ে সংসদে বিতর্কে জড়িয়েছেন সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান না করা হলে কী হবে, সে বিষয়ে জুলাই সনদে কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে বিষয়টি নিয়ে আইনি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান রাজনৈতিক সংকট তৈরি করবে বলে মনে করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তাঁরা মনে করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া সংসদের কোনো মূল্য নেই। তাই এই পরিষদের দাবিতে ঈদের পর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি।

এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান সারোয়ার তুষার গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে। দলগুলো বাধ্য হবে রাস্তায় আন্দোলন করতে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আগেই বলেছেন, ‘বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একটি ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে তারা বিরত থেকেছে। আমরা মনে করি, এটি সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা।’

এনসিপির একজন নেতা জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাজপথে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈদের পরে আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।

এদিকে সংস্কার পরিষদ নিয়ে সরকারকে চাপে রাখতে জামায়াত কোন পদ্ধতিতে এগোবে, দলের মধ্যে সেই আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের এক কেন্দ্রীয় নেতা আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংস্কার পরিষদ গঠনে সরকারকে কীভাবে চাপে রাখা হবে, তা রোজার ঈদের পরে ঠিক করা হবে। এখন দলের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে সবাইকে জানানো হবে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। এই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে ২৮ মার্চ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঈদের ছুটি শেষে ২৯ মার্চ জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। তার আগের দিন আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট।

জামায়াতের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আন্দোলনের প্রাথমিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতারা আলাপ করছেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপির দলীয় সূত্র বলছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। সংবিধানে এ ধরনের কোনো কাঠামোর উল্লেখ না থাকায় এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী নন তাঁরা। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় বিরোধী দলের দাবিকেও খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না তারা।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, একান্ত বাধ্য না হলে কিংবা সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা না হলে এ ধরনের উদ্যোগে বিএনপি যুক্ত হবে না। ১৫ মার্চ জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে বিতর্কের সূচনা করেন বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান। ওই দিন তিনি বলেন, সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সমাধান না হলে তাঁরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দল অসাংবিধানিকভাবে সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছে। রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে নয়, সুনির্দিষ্ট আইন ও সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। বাংলাদেশের সংবিধানে ‘সংস্কার পরিষদের’ অস্তিত্ব না থাকায় রাষ্ট্রপতি অধিবেশন ডাকতে পারেন না। বিরোধী দলের নেতাকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি।

যোগাযোগ করা হলে বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। এর বেশি কিছু এখন বলার নেই। তবে এটা নিয়ে বিরোধী দল রাজপথে নামলে দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে তা মোকাবিলা করা হবে।’

গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পার্লামেন্টে আলোচনার আগেই রাস্তার হুমকি দিতে থাকলে...সেটা যে কারণে আমরা পার্লামেন্ট তৈরি করলাম, সেটাকে কাজ করার অতটা সঠিক বলে আমি মনে করি না। স্টিল টাইম। অনেক সময় আছে, এটা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই; পার্লামেন্ট সবে শুরু হলো।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার প্রস্তুতি

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত