Ajker Patrika

অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালির প্রভাব নিয়ে আলোচনা

সংকট দীর্ঘ হলে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

  • ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো
  • দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা
  • » সমাধান শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অগ্রাধিকা
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সংকট দীর্ঘ হলে বাড়তে
পারে মূল্যস্ফীতি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়তে শুরু করায় বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি ও অর্থনীতি বিশ্লেষকেরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার ‘সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে এশিয়া: এশিয়ার জ্বালানিনিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালির প্রভাব’ শীর্ষক এক অনলাইন আলোচনায় বক্তারা এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) ও জিরো কার্বন অ্যানালাইটিকস যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।

পারস্য উপসাগরে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এ পথে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে এবং বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।

আইইইএফএর এশিয়া অঞ্চলের এলএনজি ও গ্যাস গবেষণা প্রধান স্যাম রেনল্ডস বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের চার বছর পরই আমদানিনির্ভর এশীয় অর্থনীতি আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, দেশীয় ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়া কতটা জরুরি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমান সংকট বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর ও ঋণচাপে থাকা জ্বালানি খাতের ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি ব্যয়, ভর্তুকি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে; যা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি সুযোগও তৈরি করতে পারে।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, বাংলাদেশের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী কাতার ও ওমান। সংকট দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে গ্যাস সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে এবং প্রতিদিন প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি কমে গেলে শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আইইইএফএর বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, ২ মার্চ স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫ ডলার ছাড়িয়েছে। দাম আরও বাড়লে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা কমাতে পারে। একই সময়ে ব্রেন্ট তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলারে উঠেছে। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি চুক্তির দাম ব্রেন্ট তেলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এতে তেল ও এলএনজি উভয়ের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। এই বাস্তবতায় দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে রেশনিংয়ের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির বড় অংশ, বিশেষ করে কাতার থেকে আসা সরবরাহ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ পথে কোনো বিঘ্ন ঘটলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে।

এশিয়া সোসাইটির চায়না ক্লাইমেট হাবের পরিচালক লি শুও বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা শুধু জলবায়ু নীতির বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও যুক্ত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জান রোজেনো বলেন, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো দেশীয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উন্নয়ন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত