Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র’ পরীক্ষা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ২৩: ৫১
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র’ পরীক্ষা
পরিচিত ‘মিনিটম্যান-৩’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলকে বলা ‘ডুমসডে’ বা ‘কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র’।

ইরানের সঙ্গে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যেই ‘ডুমসডে’ বা ‘কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র’ নামে পরিচিত ‘মিনিটম্যান-৩’ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের (আইসিবিএম) সফল পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে আঘাত হানতে পারে।

এনডিটিভি ও গালফ নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেন-বার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে এই পরীক্ষা চালানো হয়।

তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ড গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, ডুমসডে ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ কয়েক বছর আগেই নির্ধারিত ছিল এবং এর সঙ্গে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।

গত কয়েক দশকে এ ধরনের ৩০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তবে গত শনিবার ইরানের ওপর হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই পরীক্ষা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মিনিটম্যান-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এবারের পরীক্ষায় এর দুটি রি-এন্ট্রি ভেহিকেল মার্শাল আইল্যান্ডের কোয়াজালিন অ্যাটল পর্যন্ত কয়েক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র মাটির নিচে স্থাপিত (সাইলো-ভিত্তিক) পারমাণবিক ব্যালিস্টিক মিসাইল। ক্ষেপণাস্ত্রটি তিনটি আলাদা যুদ্ধাস্ত্র (ওয়ারহেড) বহন করতে পারে যা ভিন্ন ভিন্ন দিকে আঘাত হানতে সক্ষম।

এটিকে ‘ডুমসডে’ বা কেয়ামতের ক্ষেপণাস্ত্র বলা হয়, কারণ এটি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয়তায় পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ অন্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বুধবার ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কা উপকূলে মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় আইআরআইএস ডেনা নামক একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবে গেছে। এতে অন্তত ৮০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন যা, ভূপৃষ্ঠের কোনো জাহাজে সরাসরি আঘাত হেনেছে।

ওই ঘটনার পরপরই গতকাল মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভেবেছিল তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ থাকবে, কিন্তু আমরা আমাদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছি।’ উল্লেখ্য, হামলার সময় যুদ্ধজাহাজটি ভারতে একটি প্রীতি সফর শেষে ফিরছিল।

জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছিল সাবেক ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানির নামে, যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বিদ্রূপ করে বলেন, ‘আমার ধারণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁকে (সোলাইমানি) দুইবার ঘায়েল করলেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত