রেজা করিম, ঢাকা

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর পর নির্বাসন থেকে দেশে ফেরায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। কিন্তু সপ্তাহ না ঘুরতেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন তাঁরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাঁচ দিনের ব্যবধানে এমন দুই ঘটনা দেখল বিএনপি।
বিএনপির নেতারা বলছেন, এই ঘটনায় দেশবাসীর মনে সৃষ্ট আবেগ ও সমর্থন দলকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে। রাজনীতি ও ভোটের মাঠে এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দল বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জয়ের বিকল্প কিছু দেখছেন না দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের মানুষ দেশের পক্ষের শক্তি বিএনপিকে বিজয়ী করবে বলে আমি মনে করি।’ গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, মানুষের মধ্যে যে আবেগ কাজ করছে, সেই আবেগ নিঃসন্দেহে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। তারেক রহমান জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন, এটাই মানুষের প্রত্যাশা।’
যুক্তরাজ্যে নির্বাসন জীবনের ইতি ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে নতুন করে উজ্জীবিত হন দলের নেতা-কর্মীরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দলের চলমান প্রচার পায় নতুন গতি। ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সশরীরে তারেক রহমানের নেতৃত্ব আর খালেদা জিয়ার বিদায়ের শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে দলের নেতা-কর্মীরা বদ্ধপরিকর।
দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি, গণসংযোগ ও প্রচার চলছে দীর্ঘদিন থেকে। মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানো, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি এবং আবেগঘন রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের পাশাপাশি মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোই এবারের মূল কৌশল। সে অনুযায়ী অনেক আগে থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে এসেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এর মধ্যে তাঁর দেশে ফেরা নির্বাচনী প্রচারসহ সব ক্ষেত্রে বিএনপির জন্য একটা ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তিনি ফিরে আসার পর তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান এখন নির্বাচনী বার্তার মূল মুখ। ভার্চুয়াল সভা নয়, কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে সরাসরি উপস্থিত থেকে দেওয়া তাঁর বক্তব্য বিএনপির প্রচারে নতুন গতি এনেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি কয়েকটি স্তরে কাজ করবে। প্রথমত, তৃণমূল সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করে ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক গণসংযোগ জোরদার করা হবে। দ্বিতীয়ত, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে কর্মসংস্থান, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলাদা বার্তা তৈরি করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিকল্প মিডিয়ায় সক্রিয় প্রচার চালানো হবে, যেখানে নেতাদের বক্তব্য, মাঠের কর্মসূচি ও জনসমর্থনের চিত্র তুলে ধরা হবে। তাঁরা বলছেন, বিএনপি এবার অতীতের মতো শুধু সমালোচনাভিত্তিক প্রচারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। এভাবেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজকের পত্রিকাকে বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চলে যাওয়ার শোক নিয়ে নেতা-কর্মীরা ভোটের মাঠে ফিরে যাচ্ছেন। দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের রাজধানী ছেড়ে দ্রুত এলাকায় যেতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি নতুন করে সাহস জোগাবে বলে আমি মনে করি। তাঁকে নেতা-কর্মীরা কাছ থেকে দেখবেন এবং তিনি নির্দেশনা দেবেন।’
তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতি এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের জানাজায় মানুষের মহাসমুদ্রকে দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, ওই জনসমাগম শুধু শোক নয়, বিএনপির প্রতি জনসমর্থনের একটি নীরব কিন্তু শক্ত বার্তা। তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের যোগ-বিয়োগের দুই ঘটনা আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে। নির্বাচন পর্যন্ত এই আবেগ ও সমর্থন ধরে রাখা সম্ভব হলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পাবে।
অবশ্য এমন মতের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন বিএনপির অনেক নেতা। তাঁদের মতে, নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফিরে আসা এবং দলের চেয়ারপারসনের মহাপ্রয়াণ নিয়ে জনগণের মধ্যে আবেগ কাজ করছে। তবে এই আবেগের ওপর ভর করে বিএনপি রাজনীতি করবে এমনটা নয়। বিএনপি নিজের রাজনীতি, কর্মপরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি নিয়েই জনগণের কাছে যাবে, ভোট চাইবে। দেশ রক্ষার স্বার্থে জনগণের সামনে বিএনপির বিকল্প আর কিছু নেই।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশকে রক্ষার স্বার্থে বিএনপিকে দেশের মানুষ আগামী দিনে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আমাদের যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তারা একদিকে বিতর্কিত আবার অন্যদিকে জনগণের কাছে সেভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে।’
এদিকে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখছেন বিএনপির অনেক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের একজন বলেন, নতুন এক প্রেক্ষাপটে হচ্ছে এবারের নির্বাচন। সেখানে এত দিনের চেনা প্রতিপক্ষ নেই। ১৯৯১ সালের পর থেকে বিএনপি যত নির্বাচন করেছে, সেখানে বরাবরই বিএনপির প্রতিপক্ষ ছিল আওয়ামী লীগ। এখন বাস্তবতা ভিন্ন। যারা প্রতিপক্ষ, তাদের সঙ্গে একসময় জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে বিএনপি। আবার ডজনখানেক নতুন রাজনৈতিক দল হয়েছে। এটা একধরনের চ্যালেঞ্জই।
বিএনপির আরেক নেতা বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। নির্বাচনের সময় হারিয়ে যাওয়া এই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা তারেক রহমানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে। তবে সবকিছুর পরও দেশের মানুষ গণমুখী দল হিসেবে এবার বিএনপিকেই বেছে নেবে বলে বিশ্বাস করেন দলটির সর্বস্তরের নেতারা।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর পর নির্বাসন থেকে দেশে ফেরায় উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা। কিন্তু সপ্তাহ না ঘুরতেই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছেন তাঁরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পাঁচ দিনের ব্যবধানে এমন দুই ঘটনা দেখল বিএনপি।
বিএনপির নেতারা বলছেন, এই ঘটনায় দেশবাসীর মনে সৃষ্ট আবেগ ও সমর্থন দলকে অনেক এগিয়ে দিয়েছে। রাজনীতি ও ভোটের মাঠে এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দল বেশি আত্মবিশ্বাসী। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জয়ের বিকল্প কিছু দেখছেন না দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের মানুষ দেশের পক্ষের শক্তি বিএনপিকে বিজয়ী করবে বলে আমি মনে করি।’ গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, মানুষের মধ্যে যে আবেগ কাজ করছে, সেই আবেগ নিঃসন্দেহে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। তারেক রহমান জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন, এটাই মানুষের প্রত্যাশা।’
যুক্তরাজ্যে নির্বাসন জীবনের ইতি ঘটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে নতুন করে উজ্জীবিত হন দলের নেতা-কর্মীরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দলের চলমান প্রচার পায় নতুন গতি। ৩০ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সশরীরে তারেক রহমানের নেতৃত্ব আর খালেদা জিয়ার বিদায়ের শোককে শক্তিতে পরিণত করে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে দলের নেতা-কর্মীরা বদ্ধপরিকর।
দলীয় সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি, গণসংযোগ ও প্রচার চলছে দীর্ঘদিন থেকে। মাঠের রাজনীতিতে দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ানো, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি এবং আবেগঘন রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের পাশাপাশি মানুষের কাছাকাছি পৌঁছানোই এবারের মূল কৌশল। সে অনুযায়ী অনেক আগে থেকেই দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে এসেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এর মধ্যে তাঁর দেশে ফেরা নির্বাচনী প্রচারসহ সব ক্ষেত্রে বিএনপির জন্য একটা ‘টার্নিং পয়েন্ট’। তিনি ফিরে আসার পর তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান এখন নির্বাচনী বার্তার মূল মুখ। ভার্চুয়াল সভা নয়, কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে সরাসরি উপস্থিত থেকে দেওয়া তাঁর বক্তব্য বিএনপির প্রচারে নতুন গতি এনেছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনী প্রচারে বিএনপি কয়েকটি স্তরে কাজ করবে। প্রথমত, তৃণমূল সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করে ওয়ার্ড ও ইউনিয়নভিত্তিক গণসংযোগ জোরদার করা হবে। দ্বিতীয়ত, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে কর্মসংস্থান, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলাদা বার্তা তৈরি করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিকল্প মিডিয়ায় সক্রিয় প্রচার চালানো হবে, যেখানে নেতাদের বক্তব্য, মাঠের কর্মসূচি ও জনসমর্থনের চিত্র তুলে ধরা হবে। তাঁরা বলছেন, বিএনপি এবার অতীতের মতো শুধু সমালোচনাভিত্তিক প্রচারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। এভাবেই নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজকের পত্রিকাকে বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) চলে যাওয়ার শোক নিয়ে নেতা-কর্মীরা ভোটের মাঠে ফিরে যাচ্ছেন। দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের রাজধানী ছেড়ে দ্রুত এলাকায় যেতে নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতি নতুন করে সাহস জোগাবে বলে আমি মনে করি। তাঁকে নেতা-কর্মীরা কাছ থেকে দেখবেন এবং তিনি নির্দেশনা দেবেন।’
তারেক রহমানের সশরীরে উপস্থিতি এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের জানাজায় মানুষের মহাসমুদ্রকে দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, ওই জনসমাগম শুধু শোক নয়, বিএনপির প্রতি জনসমর্থনের একটি নীরব কিন্তু শক্ত বার্তা। তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের যোগ-বিয়োগের দুই ঘটনা আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে। নির্বাচন পর্যন্ত এই আবেগ ও সমর্থন ধরে রাখা সম্ভব হলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বড় জয় পাবে।
অবশ্য এমন মতের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন বিএনপির অনেক নেতা। তাঁদের মতে, নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ফিরে আসা এবং দলের চেয়ারপারসনের মহাপ্রয়াণ নিয়ে জনগণের মধ্যে আবেগ কাজ করছে। তবে এই আবেগের ওপর ভর করে বিএনপি রাজনীতি করবে এমনটা নয়। বিএনপি নিজের রাজনীতি, কর্মপরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি নিয়েই জনগণের কাছে যাবে, ভোট চাইবে। দেশ রক্ষার স্বার্থে জনগণের সামনে বিএনপির বিকল্প আর কিছু নেই।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশকে রক্ষার স্বার্থে বিএনপিকে দেশের মানুষ আগামী দিনে ক্ষমতায় দেখতে চায়। আমাদের যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তারা একদিকে বিতর্কিত আবার অন্যদিকে জনগণের কাছে সেভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে।’
এদিকে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন প্রেক্ষাপটে এবারের নির্বাচনে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখছেন বিএনপির অনেক নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের একজন বলেন, নতুন এক প্রেক্ষাপটে হচ্ছে এবারের নির্বাচন। সেখানে এত দিনের চেনা প্রতিপক্ষ নেই। ১৯৯১ সালের পর থেকে বিএনপি যত নির্বাচন করেছে, সেখানে বরাবরই বিএনপির প্রতিপক্ষ ছিল আওয়ামী লীগ। এখন বাস্তবতা ভিন্ন। যারা প্রতিপক্ষ, তাদের সঙ্গে একসময় জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে বিএনপি। আবার ডজনখানেক নতুন রাজনৈতিক দল হয়েছে। এটা একধরনের চ্যালেঞ্জই।
বিএনপির আরেক নেতা বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। নির্বাচনের সময় হারিয়ে যাওয়া এই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা তারেক রহমানের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই হবে। তবে সবকিছুর পরও দেশের মানুষ গণমুখী দল হিসেবে এবার বিএনপিকেই বেছে নেবে বলে বিশ্বাস করেন দলটির সর্বস্তরের নেতারা।

মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনে সহযোগিতার জন্য দায়িত্ব পালনকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে সবার উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান ও দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন...
৫ ঘণ্টা আগে
সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁরা। উদ্দেশ্য জিয়া উদ্যানসংলগ্ন সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা জানানো। সবার জন্য উন্মুক্ত করার পর দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমাধিতে তাঁরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মোনাজাত করেন রুহের মাগফিরাত কামনা করে।
৫ ঘণ্টা আগে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে বের হয়ে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনায় আমরা বলেছি, দেশের স্বার্থে অতীতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি, আগামীতেও ইনশা আল্লাহ একসঙ্গে কাজ করব। তারেক রহমানসহ উপস্থিত বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন, আমরাও করেছি।’
৭ ঘণ্টা আগে