Ajker Patrika

খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণ: মানুষের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও দোয়া

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয় গত বুধবার। গতকাল বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষেরা আসেন তাঁর কবর জিয়ারত করতে। তাঁদের অনেকেই এসেছিলেন ঢাকার বাইরে থেকে। ছবি: আজকের পত্রিকা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয় গত বুধবার। গতকাল বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষেরা আসেন তাঁর কবর জিয়ারত করতে। তাঁদের অনেকেই এসেছিলেন ঢাকার বাইরে থেকে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সকাল থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁরা। উদ্দেশ্য জিয়া উদ্যানসংলগ্ন সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার সমাধি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা জানানো। সবার জন্য উন্মুক্ত করার পর দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সমাধিতে তাঁরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। মোনাজাত করেন রুহের মাগফিরাত কামনা করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালের দিকে নিরাপত্তাবেষ্টনী বজায় রাখার পর দুপুর ১২টার দিকে সাধারণ মানুষের জন্য জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হয়। তখন বিএনপির নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির সাধারণ মানুষ প্রবেশ করেন সমাধিস্থলে। শ্রদ্ধা জানাতে আগতদের মধ্যে ঢাকার বাইরের মানুষও ছিলেন। রাজনীতির মাঠে দীর্ঘদিন আপসহীনভাবে লড়ে যাওয়া এ নেত্রীর শেষ ঠিকানা কাছ থেকে দেখার জন্য নারী-পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ ভিড় করেন গতকাল। অনেকেই এসেছিলেন সপরিবারে।

রাজধানীর খামারবাড়ি থেকে আসা নীলুফার সুলতানা বলেন, ‘খালেদা জিয়া গত ১৫ বছরে যে কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা দেশবাসী দেখেছে। দেশের মানুষের কল্যাণে কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি ছিলেন আপসহীন। দেশের মানুষ তাঁকে ভালোবাসত। গতকালের জানাজায় সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।’

পুরো জিয়া উদ্যান এলাকার নিরাপত্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি অন্য বাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন ছিলেন। তাঁরা দুপুর ১২টার দিকে জনসাধারণকে প্রবেশের সুযোগ করে দিলে সমাধিসৌধের ভেতরে যান বিএনপির নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ। আসেন দলের কিছু কেন্দ্রীয় নেতাও।

কবরের পাশে কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ ছলছল চোখে তাকিয়ে ছিলেন আকাশের পানে। কাউকে দোয়া-দরুদ পাঠে মগ্ন দেখা যায়। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন আর প্রার্থনা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

জিয়া উদ্যানে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে তাঁর সহধর্মিণী খালেদা জিয়াকে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা এক নারী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার টানে এসেছি। তাঁর মুখটা শেষবার দেখতে না পারলেও কবরটা অন্তত যেন দেখতে পারি, সে জন্য আজ আবার এখানে এসেছি।’

কবর জিয়ারত করতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানান, খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতেহা ও সুরা ইয়াসিন পাঠ করেছেন তাঁরা।

গতকাল সন্ধ্যায় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের কবর জিয়ারত করতে আসেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গাড়ি থেকে নেমে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একান্ত সহকারী ইউনূছ আলী।

এর আগে সকালে কবর জিয়ারত করতে আসেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠেই এখানে এসেছি। রাজনৈতিক কোনো পরিকল্পনা নেই, এটা আমার ব্যক্তিগত আবেগ। আমি ব্যক্তিগতভাবে এসেছি।’

খালেদা জিয়ার শাসনামলের স্মৃতিচারণা করে বাবর বলেন, ‘নেত্রীর সঙ্গে আমি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। উনার দেশপ্রেম দেখেছি। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে উনি কোনো আপস করেননি।’

সমাধিস্থলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল বলেন, ‘দেশপ্রেমের এক অন্যন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। আমরা যখন অক্সিজেনের মধ্যে থাকি, তখন কিন্তু বুঝি না অক্সিজেনের গুরুত্ব কী। আমার মনে হচ্ছে, আমাদের অক্সিজেনকে হারিয়ে ফেলেছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের খ্রিষ্টীয় নববর্ষের বাণী প্রত্যাহার করেছে বিএনপি

এনইআইআর চালু করায় বিটিআরসি ভবনে মোবাইল ব্যবসায়ীদের হামলা-ভাঙচুর

‘আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে আসেন, দায়দায়িত্ব আমাদের’

কাজী নজরুলের ‘বিদায় বেলায়’ কবিতায় দাদিকে স্মরণ জাইমা রহমানের

ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে মোবাইল ফোনের শুল্ক ও কর কমাল সরকার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত