Ajker Patrika

জানালা দিয়ে এস আলম চলে আসবে: জামায়াত এমপি সাইফুল আলম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ২০
জানালা দিয়ে এস আলম চলে আসবে: জামায়াত এমপি সাইফুল আলম
সংসদে জামায়াত এমপি সাইফুল আলম। ফাইল ছবি

সংশোধিত ব্যাংক রেজল্যুশন আইন নিয়ে জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা-১২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেছেন, অর্থমন্ত্রীর ‘খুলে দেওয়া জানালা’ দিয়ে এস আলম চলে আসবে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সাইফুল আলম বেসরকারি খাতের বৃহৎ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে এ কথা বলেন।

সংসদের চলতি অধিবেশনে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন সংশোধনী পাসের প্রসঙ্গ টেনে সাইফুল আলম বলেন, ‘গণমাধ্যমে এসেছে, ইসলামী ব্যাংক থেকে এক দিনে ৭০৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিন দিনের টাকা জমা ও ওঠানোর যে প্রতিবেদন, তাতে এটা নেগেটিভের দিকে যাচ্ছে। আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের সবগুলো বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকে লুটপাট করা হয়েছে। সেই লুটপাট করেছে এস আলম ও তার দোসরেরা। ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্ট ২০২৬-এর মাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর কথায় ‘‘জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে’’। আমি দেখতে পাচ্ছি, সেই জানালা দিয়ে সম্ভবত এস আলম এসে পড়বে।’

সাইফুল আলম সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এই ব্যাংককে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংকের গ্রাহক ছিল ১ কোটি ২০ লাখের মতো। একটি বেসরকারি ব্যাংকের এতসংখ্যক গ্রাহকসংখ্যা। আমাদের জন্য সুখবর ছিল। আজকে যদি ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়ে, তাহলে দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত আসবে।’

সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আজ আমি গভীর উদ্বেগ ও হতাশা নিয়ে সংসদে দাঁড়িয়েছি। কারণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, যা এই দেশের মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারত, এই সংসদ তা অনুমোদন না করে লুপ্ত করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি আইন বাতিলের বিষয় নয়; এটি আমাদের আবার একটি পুরোনো, অকার্যকর ও জবাবদিহিবিহীন কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।’

সাইফুল বলেন, ‘আমরা দেখেছি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়সংক্রান্ত অধ্যাদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগকে আবার সেই পুরোনো দলীয় প্রভাবশালী কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যে কাঠামো গত ১৭ বছর ধরে এ দেশ দেখেছে এবং কীভাবে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। আমরা দেখেছি, একজন প্রধান বিচারপতি স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার কারণে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং করুণভাবে তাঁকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ বাস্তবতায় বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।’

বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, একটি শক্তিশালী স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের আহ্বান জানান সাইফুল আলম। এ ছাড়া কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘জাতি জামায়াতে ইসলামীকে এবারের নির্বাচনে আনুপাতিক ভোটের সংখ্যার দিক থেকে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে যে—আমরা দেশপ্রেমিক।’

বিরোধী দলের এই সদস্য দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস হচ্ছে—যেখানে গণতন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, যেখানে গণতন্ত্র উদ্ধার করার জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান যখন আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তখনকার জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে তাঁর মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিল। শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থের জোগান দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।

শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, ‘কেবল আন্দোলন নয়, আমাদের সাবেক আমিরে জামায়াত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আদায়ের জন্য ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৪৮ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল, সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল আব্দুস সামাদ আজাদ।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবেই বলছি, মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধই। কোনো কিছু দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধকে রিপ্লেস করতে পারি না। একদিকে মুক্তিযুদ্ধ, আরেক দিকে যত আন্দোলন হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যত আন্দোলন হবে, সবগুলো একদিকে। নাহিদ, হাসনাতরা এখানে বসে আছে, ওদের সেন্টিমেন্টকে আমি রিলেট করি। আমরাও চাই, আমাদের সন্তানেরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠন করুক।’

বিরোধী দলের উদ্দেশে সরকারদলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘বাংলাদেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত। এই ফ্যাসিস্টমুক্ত গণতন্ত্রে আমরা সরকারে আছি, আগামী দিনে জনগণ যদি আমাদের ভোট না দেয়, আমরা আপনাদের এই জায়গায় বসব। আমরা চাই, আগামী দিনে ফ্যাসিস্টরা যেন কোনো সুযোগ নিতে না পারে।’

সরকারপ্রধান সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দানকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিরোধী দলের প্রতি অনুরোধ জানান রুহুল কুদ্দুস তালুকদার। তিনি বলেন, ‘তাহলে আমাদের মধ্যে যে দূরত্ব আছে, তা কমে আসবে বলে মনে করি।’

একপর্যায়ে হুইপ সাংবাদিকদের নিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ওয়েজ বোর্ড হওয়া দরকার। মালিকদের কারণে নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন হয় নাই। সাংবাদিকেরা ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকব।’

সরকারি গেজেট হলেও গণমাধ্যম শিল্পের মর্যাদা পায়নি উল্লেখ করে হুইপ বলেন, ‘যে কারণে অনেক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা নিয়মিত বেতন পায় না। যেভাবে সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তারা বেতন পেয়ে থাকে, আমি চাই, যোগ্যতা অনুযায়ী সাংবাদিকেরাও...।’

সরকারদলীয় হুইপ বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে যারা ইতিপূর্বে আমাদের চরিত্র হরণ করেছে, এই সমস্ত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা ওয়ান ইলেভেন নিয়ে এসেছিল, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চেয়েছিল, যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, যারা এই সমস্ত সাংবাদিক, যারা আমাকে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা ব্যারিস্টার আমিনুল হককে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা মতিউর রহমান নিজামীকে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জঙ্গি বানিয়েছিল, এ সমস্ত সাংবাদিককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত