Ajker Patrika

বিভাজন নয়, বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্য ধরেই দেশটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিভাজন নয়, বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্য ধরেই দেশটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

দেশ এগিয়ে নিতে বিএনপি অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা (বিএনপি) উদার গণতন্ত্র বিশ্বাস করি, সেই উদার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমরা এখানে অন্য কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না। বাংলাদেশ যে কারণে সৃষ্টি হয়েছে, সে কারণেই আমরা আরও জোর দিয়ে সেই দেশটা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর সে কারণেই আমার নেতা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্লোগানটা দিয়েছেন– ‘সবার আগে বাংলাদেশ।’

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শান্তিনগরের সার্কিট হাউস রোডে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি) তাদের অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

‘১৯৭১ সালের যুদ্ধের সঙ্গে আর অন্য কোনো কিছুকে মেলাতে পারি না’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা দেখলাম যে ১৯৭০ সালে নির্বাচনে একটি প্রশ্ন... সবাই একটা দলকেই ভোট দিয়ে বসে থাকল। সেটা কিন্তু ওই দলের জন্য না, মানুষের আকাঙ্ক্ষার জন্য। মানুষ তখন পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল।’

নিজের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। সংগঠক হিসেবে খুব কাছাকাছি মুক্তিযুদ্ধকে দেখেছি, ভয়াবহতা দেখেছি! দেখেছি কীভাবে পাক হানাদার বাহিনী গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। কীভাবে মানুষ হত্যা করেছে, কীভাবে নারীদের ওপর নির্যাতন করেছে, এটা খুব কাছে থেকে দেখা। সেই কারণেই ওটাকে ঠিক কখনোই ক্ষমা করতে পারি না। যে কারণে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সঙ্গে আর অন্য কোনো কিছুকে মেলাতে পারি না!’

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও রাষ্ট্র কাঠামো থেকে নতুন করে বিভক্তিহীন রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এমন সময় জিয়াউর রহমান এসেছিলেন এই রাজনীতির সামনে যখন গোটা বাংলাদেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল। সেখান থেকে তিনি নতুন করে উত্তরণ ঘটালেন। তিনি আবার নতুন করে বিভক্তিহীন রাষ্ট্র গঠনে সমস্ত রাজনৈতিক চিন্তাগুলো, দলগুলোকে নিয়ে প্রথমে ফ্রন্ট করেছেন। তারপরে বিএনপি মূল বিষয়টাই ছিল সবাইকে নিয়ে করা রিকন্সিলেশন করা। সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) একজন অনন্য পুরুষ, ক্ষণজন্মা পুরুষ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। বাংলাদেশের এই ভূখণ্ডের মানুষগুলোকে একটা স্বকীয়তা দিয়েছিলেন, পরিচিতি দিয়েছিলেন, আইডেনটিটি দিয়েছিলেন যে–আমরা আলাদা, আমরা ওদের সঙ্গে একমত এক নই, আমাদের অস্তিত্বটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেটা আমরা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের মধ্যে দেখি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কারও শত্রু বানাতে চাননি। তিনি (জিয়াউর রহমান) সবার সঙ্গে মিত্রতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন। সেই সফলতা নিয়ে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন। সমস্ত প্রভাবের বাইরে, আধিপত্যের বাইরে আমরা নিজেদের পায়ে নিজেরা দাঁড়াব-দেশের মানুষ এভাবে দেখতে চায়।

দেশের ক্রিকেট খেলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যখন পাকিস্তানের খেলা হয়, তখনো তারা বাংলাদেশের পক্ষে চিৎকার করে। আবার যখন ভারতের বিরুদ্ধে খেলা হয়, তখন একইভাবে চিৎকার করে। অর্থাৎ এই দুটো দলের মধ্যে কোনোটাতে আমরা ওইভাবে যেতে চাই না। কারও কাছে যেতে চাই না। আমরা আমাদের মতো করে দাঁড়াতে চাই, উঠে দাঁড়াতে চাই!

দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এইবার নির্বাচনে আমাদের পত্রপত্রিকা, মিডিয়ায় একটা হাইপ বসে গিয়েছিল যে– জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় চলে যাচ্ছে! তারা সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করবে! আমাকে পর্যন্ত পরাজিত করে রেখে দিয়েছিল মিডিয়াতে! অথচ দেখেন মানুষ কিন্তু ভুল করল না। মানুষকে ঠিকই তাদেরকে বাদ দিয়ে দিল, আর বিএনপিকে বেছে নিল।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপ্রধান ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এ ছাড়াও অন্যদের উপস্থিত ছিলেন– ব্রেইন এর নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশ্দ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুশতাক খান প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত