Ajker Patrika

১২ তারিখ ধানের শীষের সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটও দেবেন: তারেক রহমান

রংপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২২: ৩৯
১২ তারিখ ধানের শীষের সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ ভোটও দেবেন: তারেক রহমান
রংপুর কালেক্টরেট মাঠে বিভাগীয় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির সৌজন্যে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ধানের শীষের সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রংপুর কালেক্টরেট মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রংপুর বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘যেই অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, চট্টগ্রামে ওয়াসিম নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে; এ রকম হাজারো মানুষ, যারা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে; মানুষের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেমন তাদের এই জীবন উৎসর্গকে আমরা মূল্যায়ন করতে পারব, একইভাবে তাদের জীবন উৎসর্গকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি, সেই জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে এবং সে জন্যই আপনাদের সকলকে অনুরোধ করব যে, ধানের শীষে যেমন সিল দিবেন ১২ তারিখে, একই সঙ্গে আপনাকে যে দ্বিতীয় ব্যালট পেপারটি দিবে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’, সেখানে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দয়া করে আপনারা রায় দিবেন।’

ভোরবেলা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ একদম ফজরের ওয়াক্তে গিয়ে ফজরের সময়ে ওখানে জামাত আদায় করতে হবে; যাতে করে ওই ১৬ বছর যেমন নিশিরাতের নির্বাচন হয়েছিল, আমরা এবার আর করতে দেব না। ১৬ বছর যখন আমোদ-আমোদ নির্বাচন হয়েছিল, আমরা এবার করতে দেব না। এবার হচ্ছে জনগণের পালা। জনগণ এবার সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কী করবে। কাজেই, জনগণ—সকল মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, যে যেখানে আছেন, সকল ধরনের মানুষ, যারা ভোটার, প্রত্যেককে ভোরবেলায় গিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে লাইন দিয়ে দাঁড়াতে হবে, যাতে করে কেউ কোনো ষড়যন্ত্র করতে না পারে। সতর্ক থাকতে হবে।’

বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রায় আড়াই বছর আগে স্বৈরাচারী শাসনের সময় বিএনপি জনগণের সামনে এই সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে একটি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়, যেখানে বিএনপিও অংশগ্রহণ করে এবং তাদের সংস্কার প্রস্তাব জমা দেয়। সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে কোনো মতভেদ থাকলে বিএনপি তা গোপন করেনি; বরং জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—কোন বিষয়ে তারা একমত এবং কোন বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে।

দীর্ঘ দুই দশক পর বিভাগীয় নগরী রংপুরে আসেন তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে ঘিরে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে নির্মাণ করা হয় বিশাল মঞ্চ। মাঠসহ নগরীর প্রধান সড়কজুড়ে স্থাপন করা হয় কয়েক শ মাইক। দুপুর থেকেই বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে দলে দলে নেতা-কর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল গড়াতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে ঈদগাহ মাঠ। মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশে সড়কে অবস্থান নেন নেতা-কর্মীরা। সড়কে মোড়ে মোড়ে থাকা ডিজিটাল স্ক্রিনে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে অপেক্ষা করছেন তাঁরা।

এর আগে বগুড়ায় নির্বাচনী সভা শেষ করে তারেক রহমান রংপুরের পীরগঞ্জে যান। সেখানে বাবনপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। পরে শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সড়কপথে রংপুর সদরে এসে বিভাগীয় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে তিনি উত্তরাঞ্চলের ৩৩টি আসনের দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে ধানের শীষে ভোট চান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত