Ajker Patrika

জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েও অবহেলিত শ্রমিকেরা: শিমুল বিশ্বাস

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েও অবহেলিত শ্রমিকেরা: শিমুল বিশ্বাস
‘২০২৪ এর ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। ছবি: আজকের পত্রিকা

গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরিয়েও শ্রমিকেরা অবহেলিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও খালেদা জিয়ার সাবেক বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

তিনি জানান, ৮৮৩ জন জুলাই শহীদের মধ্যে শ্রমিক বা শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা বেশি হলেও শ্রমিকেরা নানা ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘২০২৪-এর ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে শ্রমিক দলের প্রধান এই সমন্বয়ক বলেন, গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী ৮৮৩ জন শহীদের স্বীকৃতি পাওয়া শ্রমিক বা শ্রমজীবী মানুষ সংখ্যা ২৮৩। সুতরাং অন্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষের চেয়ে এই সংখ্যা বেশি। কিন্তু এই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েও বঞ্চিত শ্রমিকেরা।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জীবন দেয়নি। এমনকি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীও জীবন দেয়নি। গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের এই বিরাট অংশগ্রহণ থাকার পরও শ্রমিকেরাও নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারেনি।’

সরকারের কাছে শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘বিবিএসের সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে শ্রমিকের সংখ্যা ৭ কোটি ৩৭ লাখ। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে, এত বড় সংখ্যার মানুষের সঙ্গে যেন ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়। আমি স্বপ্ন দেখি একটি শোষণমুক্ত শ্রমিকবান্ধব দেশ হবে বাংলাদেশ।’

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘দুই বছর পার হলো, এখনো এই গণহত্যার মামলার ৮৭ শতাংশ তদন্ত শেষ হয়নি, চার্জশিট (তদন্ত প্রতিবেদন) হয়নি। আগামী ২৫ বছরেও এটা শেষ হবে কি না জানি না। ’২৪-এর হত্যাকাণ্ডের বিচার হওয়াটা কোনো প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার বিষয় নয়, এটা ন্যায্যতার প্রশ্ন। এটার বিচার হওয়াটা জরুরি।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শ্রমিকদের দিকে তাকানোর সময় হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘লটারি পাওয়ার মতো গঠন হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মানুষ হঠাৎ বিরাট অঙ্কের লটারি পেলে কী করবে না করবে যেমন বুঝে উঠতে পারে না। তেমনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শ্রমিকদের নিয়ে কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয়নি। বর্তমানে শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য সংসদে তবুও মাত্র একজন আছেন।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল হচ্ছে, এটা ভালো কথা। কিন্তু শ্রমিকদের কী হবে? নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে তো মূল্যস্ফীতি বাড়বে। সে ক্ষেত্রে শ্রমিকদের যে ন্যূনতম বেতন তাতে তো তারা মানবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। দেশটা এখনো টিকে থাকার বড় অবদান শ্রমিকের। আমি আশা করি বিএনপি সরকারের শ্রমিকের প্রতি দায় ও দরদ থাকবে।’

সভায় বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ১৫ দফা দাবি উপস্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ মজুরি বোর্ড গঠন, শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু, হকারদের পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ না করা, রিকশা ও হালকা যানবাহনের স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বন্ধ, বন্ধ মিল-কারখানা চালু এবং রোলিং মিলের শ্রমিকদের মানবিক সুবিধা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং নৌশ্রমিকসহ সব খাতের শ্রমিকদের জীবন ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।

সংগঠনের সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোস্তাকের সভাপতিত্ব সভায় উপস্থিত ছিলেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ ও বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত