Ajker Patrika

কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ও ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

চবি প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫: ১৩
কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ও ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিএনপির জনসভায় তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের তরুণদের জন্য কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা ও ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। আজ রোববার চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে ২০ বছর পর রাজনৈতিক সমাবেশে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে সে জন্য সতর্ক থাকতে হবে।’ সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামসহ দেশের সকল মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চায়। চট্টগ্রাম একটি বাণিজ্যিক শহর; এই শহর নিরাপদ থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষও সারা দেশের মানুষের মতোই চায়—তাদের সন্তানেরা যেন নির্বিঘ্নে লেখাপড়া করতে পারে এবং শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হয়। আগামী ১২ তারিখ আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কেউ আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে জনগণের রায়ে আমরা সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষার প্রতিটি স্তরে পরিবর্তন আনা হবে। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সার্টিফিকেট অর্জন করবে না; বরং সার্টিফিকেটের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সহজেই কর্মসংস্থান পাবে। বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক এই শিক্ষাব্যবস্থাই আমাদের লক্ষ্য।’

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমরা চাইলেই বলতে পারতাম—অমুক জায়গায় এতগুলো হাসপাতাল করব, তমুক জায়গায় হাসপাতাল করব। কিন্তু আমরা সেই পথে যেতে চাই না। বরং আমাদের লক্ষ্য হলো, গ্রামের প্রতিটি নারী-শিশু ও প্রতিটি ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য এক লাখ স্বাস্থ্যসেবী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে মা-বোন ও শিশুরা ঘরে বসেই প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন রক্ষা করেছে। এখন দেশের মানুষ এমন অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার নিশ্চিত সুযোগ পাবে। কেবল সমালোচনায় মানুষের কোনো উপকার হয় না। বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই জনগণের জন্য কাজ করেছে।’

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও কৃষক সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উৎপাদন বাড়াতে কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পায়।’ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খাল-নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল কাটার কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

চট্টগ্রামের শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির আমলেই ইপিজেড গড়ে উঠেছে, যেখানে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে আরও ইপিজেড স্থাপন করা হবে এবং চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা।

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি এরশাদ উল্লাহের সভাপতিত্বে সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘দেশকে বাঁচানোর জন্য ধানের শীষে ভোট দিন। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত