
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সুরক্ষাসহ বেশ কিছু ভালো নীতি ও সুপারিশ ছিল। এগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সাংবাদিকের চোখে জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি-সংশ্লিষ্ট সংগঠন ডেমোক্রেটিক জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে তাঁরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিকেরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ইলেকট্রনিক মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সাংবাদিকেরা নানা উপায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের চেষ্টা করেছেন। মফস্সলের সাংবাদিক, মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক ও নাগরিক সাংবাদিকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের হতাশা স্বীকার করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলেছেন। সেই সময়ের হতাশা আমাদেরও আছে। অনেক কিছু করা সম্ভব ছিল, কিন্তু অনেক কিছু আমাদের করতে দেওয়া হয়নি। আপনাদের সব সমালোচনা আমি সাদরে গ্রহণ করি। তারপরও বলব, আমি সাত মাস দায়িত্বে ছিলাম। এই সাত মাস কোনো স্বাভাবিক সময় ছিল না। তখন পুরো দেশকে স্থিতিশীল করতে আমাদের সব শক্তি ও সামর্থ্য ব্যয় করতে হয়েছে। তারপরও আমি মনে করি, ওই সময়ে আমাদের কিছু কাজ করার সুযোগ ছিল। বিশেষ করে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকার গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। ফলে এখন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের দাবিগুলো আমরা বলতেও প্রায় ভুলে গিয়েছি।’
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সুরক্ষাসহ বেশ কিছু ভালো নীতি ও সুপারিশ ছিল। এগুলো বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব থাকা উচিত নয়। মালিকপক্ষ, সম্পাদক ও সাংবাদিকদের স্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রভাবও গণমাধ্যমে কাজ করে। এসব প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা একটা রেসপন্সিবল জার্নালিজম চাই। একই সঙ্গে রেসপন্সিবল পলিটিক্স চাই।’
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংসতারও সমালোচনা করেন তিনি। কোনো গণমাধ্যমের নীতিমালা বা রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মতভিন্নতা থাকলেও সহিংসতার মাধ্যমে তার মোকাবিলা করা সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ব্যক্তির ইচ্ছায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা গণতন্ত্র টিকে থাকে না। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যত বেশি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী হবে, দেশে গণতন্ত্রও তত বেশি শক্তিশালী হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আর পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে না; সবাইকে মিলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকেরা চব্বিশের জুলাই এবং তার পরবর্তী সময়ে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমীন প্রমুখ।

দেশে গণতন্ত্র ও কথা বলার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন একটা মুক্ত পরিবেশ আছে। এটা কতদিন থাকবে, আমরা কেউ জানি না। ধীরে ধীরে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। কথা বলার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে সেই সংকোচন ঠেকাতে হবে—আপনাদের, আমাদের...
৩৮ মিনিট আগে
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পূর্বঘোষিত দেশব্যাপী চারটি লংমার্চের কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিকভাবে এসব লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি শেষে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে জোটটি।
১ ঘণ্টা আগে
আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
২০ ঘণ্টা আগে
‘আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা বিশ্বাস করি, একটি সহনশীল, ধৈর্যশীল ও সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে। আমরা এই ব্যবসা থেকে দূরে সরে আসতে চাই...
২১ ঘণ্টা আগে