Ajker Patrika

জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহারসহ ৫ দাবিতে ছাত্র ফেডারেশনের বিক্ষোভ

ঢাবি প্রতিনিধি
জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহারসহ ৫ দাবিতে ছাত্র ফেডারেশনের বিক্ষোভ
রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ ও শেষে সংক্ষিপ্ত মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখা। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ, গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবিতে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখা।

আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি সংক্ষিপ্ত মশাল মিছিল বের করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগরের সদস্য ও বংশাল থানা সংগঠক মাহমুদুল হাসান বলেন, জনগণের সঙ্গে আলোচনা ও গণশুনানি ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাব পরিবহন ব্যয়, গণপরিবহনের ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।

মাহমুদুল বলেন, ‘কোনো জিনিসের যদি দাম বৃদ্ধি করতে হয়, সেটা গণশুনানির মাধ্যমে করতে হবে।’ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণ জনগণকে জানানো এবং অযৌক্তিক হলে বর্ধিত দাম কমানোরও দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ বলেন, নির্বাহী আদেশে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির কথা সরকার বললেও কর ও শুল্ক কমানোর মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির চাপ কমানোর সুযোগ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

সৈকত আরিফ আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যে মানুষের জীবনযাত্রা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে পড়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানির অভিযোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সৈকত আরিফ বলেন, বিভিন্ন স্থানে হামলা, দখল ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সরকারি চাকরিতে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

পরে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি আল-আমীন রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে কৃষকের উৎপাদন থেকে শুরু করে পণ্য বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় বাড়বে। তাঁর দাবি, জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে জ্বালানি খাতের কর-শুল্ক ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আল-আমীন রহমান বলেন, ‘আইনকে আইনের মাধ্যমে বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে এখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ধারাবাহিকভাবে ঘটতেই থাকবে।’ বিভিন্ন হামলা ও দখলের ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সমাবেশ থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার; ২. গণশুনানির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ; ৩. গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ; ৪. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং ৫. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত