Ajker Patrika

এলপিজির দামে নৈরাজ্য

সম্পাদকীয়
এলপিজির দামে নৈরাজ্য

দেশের জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনা ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে বর্তমানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বেশি দাম নিয়ে যা হচ্ছে, তাকে এককথায় ‘নৈরাজ্য’ বললেও কম বলা হবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ৪ জানুয়ারি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে তা ২ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা শহরের অনেক জায়গায় এরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের বোঝা তৈরি হয়েছে।

শীতকালে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত গ্যাসের চাপ কম থাকায় আবাসিক এলাকায় এ সময়ে এলপিজির চাহিদা বাড়ে। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এই চাহিদাকেই পুঁজি করে এ বছর যে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। যদিও নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়েছে। এ কারণে চাহিদার তুলনায় সংকট তৈরি হয়েছে। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, চাহিদার তুলনায় ঘাটতি ততটা প্রকট নয়, যতটা দাম বাড়ানো হয়েছে। বিইআরসির তথ্যমতে, ডিসেম্বরে চাহিদার বিপরীতে আমদানিতে ঘাটতি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। এই ঘাটতিকে পুঁজি করে দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এখানে বড় প্রশ্নটি হলো বিইআরসির ভূমিকা নিয়ে। তারা প্রতি মাসে ঘটা করে সংবাদ সম্মেলন করে দাম নির্ধারণ করে দেয়, কিন্তু সেই দাম বাজারে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা তারা দেখে না। তদারকিতে তাদের চরম উদাসীনতা লক্ষ করা যায়। সরকারি সংস্থার এই নিষ্ক্রিয়তা অসাধু ব্যবসায়ীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। আমদানিকারক, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা—এই চক্রের কোথায় কারসাজি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু কোম্পানির এলপিজি আমদানি বন্ধ রাখা এবং অন্যদের সক্ষমতা বাড়ানোর আবেদন ঝুলে থাকা ইঙ্গিত দেয় যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও একধরনের উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। আমদানিকারকদের সংগঠন ‘লোয়াব’-এর দাবি অনুযায়ী, যদি জাহাজ-সংকট বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব থেকে থাকে, তবে সরকার কেন বিকল্প পথে আমদানির ব্যবস্থা বা নতুন উদ্যোক্তাদের পথ সুগম করছে না, এটা একটি বড় প্রশ্ন।

এলপিজি এখন আর বিলাসদ্রব্য নয়, এটি সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা। যাঁরা পাইপলাইনের গ্যাস পান না, তাঁদের জন্য এটি জ্বালানির একমাত্র ভরসা। সেই ভরসার জায়গায় যখন জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস রাষ্ট্রের ব্যর্থতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

কেবল ‘আশ্বাস’ যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে বাজারে কঠোর তদারকি শুরু করতে হবে। যারা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছে, তাদের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে এলপিজি আমদানির জটিলতা নিরসন এবং সরবরাহ চেইন সচল রাখতে সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দিতে হবে ভিসা বন্ড, নতুন মার্কিন নিয়ম

‘চাইলে বাংলাদেশে ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের আচরণ অনুসরণ করুন, কিন্তু খেলোয়াড় কেন বলির পাঁঠা’

শরিয়তি ফারায়েজ অনুযায়ী মেয়ের সন্তান নানার সম্পত্তির সরাসরি ওয়ারিশ হয় না

উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান, যা থাকছে সফরসূচিতে

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ, আটলান্টিকে তেলের ট্যাংকার পাহারা দেবে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত