Ajker Patrika

দুর্ঘটনায় ম্লান উৎসব-আনন্দ

সম্পাদকীয়
দুর্ঘটনায় ম্লান উৎসব-আনন্দ

প্রতিবছর উৎসবের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয় কিছু পরিবারের জন্য। এবারের ঈদুল ফিতরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, এবার ঈদের আগে-পরে ১৫ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এর মধ্যে শুধু সড়কেই প্রাণ হারিয়েছে ৩৫১ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় ৮.৯৫ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বরাবরের মতোই দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশই মোটরসাইকেল দ্বারা ঘটেছে এবং প্রাণ হারিয়েছে ১৩৫ জন। এরপর দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের তালিকায় আছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও বাস। মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের দৌরাত্ম্য এবং বেহাল সড়কও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

এবারের ঈদযাত্রায় এত বেশি মৃত্যুর কারণ হলো, পরিবহন খাতে স্বার্থান্বেষী মহলের প্রভাব কমেনি। যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবের বক্তব্য থেকে জানা যায়, বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের চাপে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর নীতিনির্ধারণী সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। যখন একটি খাতের নীতিমালার নিয়ন্ত্রণ শুধু মালিকপক্ষের হাতে চলে যায়, তখন জনস্বার্থ উপেক্ষিত হওয়া স্বাভাবিক। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী অনেক চটকদার কথা বললেও বাস্তবতার সঙ্গে তাঁর সেই বক্তব্যের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা কেন বাস মালিক সমিতির দ্বারা প্রভাবিত হলো, সে প্রশ্নটি গুরুতর। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছুটা হলেও পরিবহন খাতে একধরনের শৃঙ্খলা ও স্বস্তি দেখা গিয়েছিল, সেখানে বর্তমান সময়ে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা ফিরে আসা হতাশাজনক।

সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে মূলত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অনেক ক্ষেত্রে অদক্ষ চালক এবং সড়কের ফিটনেস না থাকার কারণে। পাশাপাশি চালকদের ক্লান্তি এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়নাও কাজ করে।

যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে একটি নিরাপদ যাতায়াতব্যবস্থা গড়ে তোলা অসম্ভব ব্যাপার নয়। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে সবার আগে পরিবহন খাতের নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। দক্ষ চালক ও ফিটনেস সম্পন্ন গাড়ি ছাড়া দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না। পাশাপাশি মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোরভাবে নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না। আর মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

সরকারের উচিত এখনই এই সমস্যাকে আমলে নিয়ে পরিবহন খাতের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করা এবং নিরাপদ সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া। জনগণের প্রাণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে গেলে তা সরকারের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। আমরা আশা করব, ভবিষ্যতে ঈদের আনন্দ যেন এভাবে লাশের কাছে ম্লান হয়ে না যায়। শুধু ঈদের আগে-পরে নয়, কখনোই এ ধরনের দুর্ঘটনা কাম্য হতে পারে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত