বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ করা দরপত্র বা টেন্ডারের প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। বরগুনারস্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিনজন বড় প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর বিনিময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। যদিও একজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বরগুনা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
৭৭টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছিল। সেখানে বেছে বেছে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে, যা কেবল অনৈতিকই নয়, সরকারি ক্রয় বিধিমালারও চরম লঙ্ঘন। সরকারি প্রকল্পের টাকা নিজের পকেটে ভরার জন্য দেশের বড় বড় কর্মকর্তা অপকর্ম করে থাকেন—এমন ঘটনা নতুন নয়। তদন্তপ্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতির কারণে আবার অপকর্মে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা পার পেয়ে যান, সেসব ব্যাপারও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ফলে আনুষ্ঠানিক লোকদেখানো তদন্তপ্রক্রিয়াও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে না। ব্যক্তির স্খলন এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় যখন দুর্নীতি গেঁথে যায়, তখন শুধু আইনের কথা বলে কোনোভাবেই অপকর্ম রোধ করা যায় না। তাই কাঠামোর পরিবর্তনের কথা জোর দিয়ে বলাটাই যৌক্তিক।
এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে দিয়ে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। ১৪ মে থেকে তদন্ত শুরু হওয়ার কথা। তবে আমাদের দেশে তদন্ত কমিটির ভাগ্য অনেক সময় হিমাগারে গিয়ে শেষ হয়। এই তদন্ত যেন কোনোভাবেই লোকদেখানো বা আইওয়াশ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তদন্ত কমিটিকে কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটির কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তার জন্য তদারকি ব্যবস্থা থাকা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর শুধু বদলি নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
উন্নয়ন আর দুর্নীতি একই সমান্তরালে চলতে পারে না। সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখা উচিত, তাঁরা জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত সেবক; কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা আত্মীয়দের সুবিধাভোগী এজেন্ট নন। বরগুনার এই ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার কেলেঙ্কারি যদি বিনা বিচারে পার পেয়ে যায়, তবে তা এলজিইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করবে।
আমরা আশা করব, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসীন বর্তমান সরকার সরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের অপকর্ম রোধে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন উদাহরণ তৈরি করবে। জনগণ অতীতের আর কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না। লুটপাটের এই সংস্কৃতি বন্ধ না হলে গ্রামীণ অবকাঠামো কেবল কাগজ-কলমেই উন্নত হবে, বাস্তবে তা ক্ষয়ে যাওয়া রাস্তার মতোই জরাজীর্ণ থেকে যাবে। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হলে প্রমাণ হতে পারে, জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ।

দেশের মোট চাল উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি (৫৫-৬০ শতাংশ) আসে বোরো মৌসুমে। এর মধ্যে সাতটি হাওরবেষ্টিত জেলায় উৎপাদিত হয় প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু এবার উৎপাদন মৌসুমে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় কৃষকের আহাজারির শেষ নেই। কারণ, চৈত্র মাসের শেষ দিক থেকে টানা বৃষ্টি আর বৈশাখে উজান থেকে...
২ ঘণ্টা আগে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল হেরেছে। দল হারলে দলের নামটা বললেই তো হতো, তাই না? ধরুন, যদি ট্রাম্পের দল হারে, আলাদা করে কি ট্রাম্পের নামও বলতে হবে? হবে না। কিন্তু মমতার বেলায় আমি তা বলব।
২ ঘণ্টা আগে
একটি জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি হয় মূলত তার প্রাথমিক শিক্ষার মজবুত কাঠামোর ওপর। কাগজ-কলমে বাংলাদেশে শিক্ষার হার আগের চেয়ে বাড়লেও শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ঠিকই রয়ে গেছে। আর এই সংকটের পেছনে রয়েছে এক নির্মম সত্য।
২ ঘণ্টা আগে
ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান। তিনি নরওয়ের বারগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ ইংল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাইব্রিড পিসবিল্ডিংয়ের ওপর পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন।
১ দিন আগে