পাবনার ঈশ্বরদীতে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আজকের পত্রিকার একটি খবরে জানা যাচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরেই জেগে উঠেছে এই সম্ভাবনা। বেশ কয়েক বছর ধরেই ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এই আকর্ষণের মূল হেতু ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর সঙ্গে শত বছরের পাকুড়গাছগুলোর কথাও বলতে হয়। পাকশীর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে এই পাকুড়গাছের সারি। অতীতের সঙ্গে আত্মীয়তা পাতানোর একটি যোগসূত্র হিসেবে এই পাকুড়গাছগুলোর কথা উল্লেখ করা যায়।
আলোচনাকে আরেকটু নির্দিষ্ট করার জন্য বলা যায়, ঈশ্বরদীতে এ রকম একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে নানা ধরনের সুবিধা গড়ে উঠতে পারে। দেশি পর্যটকদের সঙ্গে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশে। দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা এখানে এসে যে অর্থ খরচ করবেন, তা এই পর্যটনকেন্দ্রকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে। কিন্তু সেটা তো আর এমনি-এমনি হবে না। এ জন্য সরকারের পরিকল্পনা থাকতে হবে। গড়ে তুলতে হবে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, পরিবহন, সুভেনিরের দোকান। এদিকে নজর দিলে বেসরকারি পর্যায় থেকেও বিনিয়োগ বাড়বে, ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্রের একটা বড় অর্জন হলো, তাতে বেকারত্বের এই দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গাইড, হোটেল-রেস্টুরেন্টকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, ফটোগ্রাফার, দোকানদারসহ নানা ধরনের কর্মী বাহিনীর প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া পরোক্ষভাবে নির্মাণশ্রমিক, সরবরাহ প্রতিষ্ঠান, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টসহ নানা ধরনের কর্মতৎপরতার সৃষ্টি হবে। অদক্ষ শ্রমিকের জায়গায় দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বাড়বে। এবং এ রকম একটি ঘটনা ঘটলে অবধারিতভাবেই এই এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। পর্যটকদের জন্য এই অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলেও সেই সুবিধা পায় স্থানীয় মানুষও।
আরও একটি কথা বলা দরকার। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার তাগিদও দেখা দেয়। লোকসংগীত, নৃত্য, হস্তশিল্প, স্থানীয় উৎসবগুলো তখন একটি ভিন্ন মাত্রা পেয়ে যায়। নতুনভাবে মূল্যায়িত হওয়ায় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ে। ঈশ্বরদীতে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে পরিকল্পনার মধ্যে এই বিষয়টিকে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তবে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে ঈশ্বরদীকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধাও তো আছে। সে অসুবিধাগুলোকে কাটিয়ে উঠতে পারলে সত্যিই একটি নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার সম্ভাবনা থাকে। মূলত কোনো এলাকায় সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, ঐতিহাসিক স্থাপনা বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থাকলে পর্যটক আকর্ষণ করা সহজ নয়। ঈশ্বরদীতে এগুলো নেই। কিন্তু ঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হলে এই এলাকা হয়ে উঠতে পারে সত্যিকারের পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটক না বাড়লে অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি বিনিয়োগ হবে না, তাই সরকারকে হতে হবে উদার। কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, কর্মসংস্থান বাড়ানো যায় এবং সত্যিকার অর্থেই আকর্ষণীয় একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা যায়, সে ভাবনাটাকেই গুরুত্ব দিতে হবে সবচেয়ে বেশি।

সাধারণত জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপন সামনে রেখে প্রতিবছরই জিনিসপত্রের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয় সাধারণ মানুষের মনে। তবে এবার একটি আশঙ্কা আগেই বাস্তব হয়ে চেপে বসেছে মানুষের ঘাড়ে। ৩ জুন বিদ্যুতের নতুন দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
২ ঘণ্টা আগে
তোফায়েল আহমেদ মারা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব মন্তব্য আর টিপ্পনী দেখলাম, তাতে আমি নিশ্চিত এই জাতির মানসিক সুস্থতা নেই। তার চিকিৎসা এখন সময়ের চাওয়া। মানুষ নশ্বর শরীর নিয়ে পৃথিবীতে আসে, তারপর সময় হলে চলে যায়। এটা নিয়তি, এটাই বিধান।
২ ঘণ্টা আগে
উম্মে ওয়ারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের রাজনীতি বিভাগে ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ক্রান্তিকালীন ইনসাফ’ বিষয়ে পিএইচডি গবেষণা করছেন।
১ দিন আগে
৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসের সকালে ঢাকার রমনা উদ্যানে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম, এবার বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য কেন দেওয়া হলো ‘প্রকৃতির অনুপ্রেরণায়। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’। কথাটার সরল অর্থ করলে দাঁড়ায়—আমাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রকৃতির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের জলবায়ু ভালো রাখার জন্য...
১ দিন আগে