Ajker Patrika

একটা শুট!

সম্পাদকীয়
একটা শুট!

সেদিন ছিল পয়লা মে। মে দিবস। শ্রমিকদের ছুটির দিন। কিন্তু কেন যে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বলদিঘাট (লালমাটিয়া) গ্রামে এক বিরোধপূর্ণ জমিতে কিছু শ্রমিককাজ করতে গিয়েছিলেন, তা রহস্য বটে! এদিকে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের হুমকিও পেতে হয়েছে। না, ছুটির দিনে কাজ করছেন বলে নয়। বরং বিরোধপূর্ণ জমিতে কাজ করতে গিয়েই সেই হুমকি অর্জন করেছেন তাঁরা। দিয়েছেন কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মণ্ডল। সরকারদলীয় এই নেতার হুমকি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে স্থানীয়রা বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

কী ছিল সেই হুমকি, তা জানার আগে মূল ঘটনাটা একটু গুছিয়ে বলা যাক। আবুল কালাম সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই)। তিনি বলদিঘাটে একটি জমি কিনেছেন। ছুটিতে সেখানে গিয়ে শ্রমিকদের দিয়ে জমিতে কাজ করাচ্ছিলেন। কিন্তু বিএনপির নেতা কামরুজ্জামানের দাবি—সেই জমি বিরোধপূর্ণ, জমির একটি অংশ নিয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দাবি রয়েছে এবং সেই অংশ আবুল কালামকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ইউএনও বদলি হয়ে যাওয়ায় সময়মতো এর মীমাংসাও হয়নি। আর তাই তিনি সেদিন স্ব-উদ্যোগে শ্রমিকদের কাজে বাধা দিতে গিয়ে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘একটা শুট করাম, একটা শুটেই পড়ে যাবে।’ বিরাট একটা সমাজসেবা করে ফেললেন বিএনপির নেতা!

বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করতে পারেন, কিন্তু ‘একটা শুট’ করে ফেলে দেওয়ার মতো হুমকি কি করে দিতে পারেন? একজন নেতাকে কি এ ধরনের মন্তব্য করা মানায়? তার মানে, প্রভাব খাটানোর রাজনীতির চর্চা বেশ শক্তপোক্তভাবেই করতে পারছেন তিনি।

জমিটির মালিক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর সামনে তাঁকে সরাসরি অনুরোধ না করে কিংবা ‘হুমকি’ না দিয়ে শ্রমিকদের হুমকি দেওয়ার মানেও কিন্তু দুর্বলের ওপর সবলের জুলুম করা। যদিও শ্রমিকদের হয়ে আবুল কালাম নেতা কামরুজ্জামানকে প্রশ্ন করেছেন, কেন তাঁকে না বলে শ্রমিকদের এসব কথা বলা হলো। তাতে অবশ্য কামরুজ্জামানের কিছু এল-গেল না বলেই মনে হয়।

এদিকে তাঁর পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আতাব উদ্দিন আতা জানিয়েছেন, কামরুজ্জামানের এ রকম কোনো ‘ইতিহাস’ নেই। তাই বলে কি কখনো ‘ইতিহাস’ তৈরি হতে পারে না? ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব সাহেব উদ্দিনও বলেছেন, ‘এটা কামরুজ্জামান মণ্ডল লেবারকে বলেছে। লেবার মনে হয় মাতব্বরি করে কাজ করতে চাইছিল। বলতে চাইছিল একটা লাথি মারব, এ কথা বলতে গিয়ে ওইটা বলে ফেলেছে।’

‘হা হা হা পায় যে হাসি’! সঙ্গে মনে প্রশ্নও জাগে, লেবার অর্থাৎ শ্রমিককে কি যা ইচ্ছা তা-ই বলা যায়? হোক সেটা অন্যায় কথা? ‘শুট’ করার জায়গায় সত্যিই যদি কামরুজ্জামান ‘লাথি’ মারার কথা বলতেন, তাহলে কি তা বৈধতা পেয়ে যেত?

এহেন কর্মকাণ্ড করে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা যেভাবে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে খেলছেন, সেটা কি দল টের পাচ্ছে?

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত