Ajker Patrika

শুধু অর্থনীতিবাদী আন্দোলন করে শ্রমজীবীর মুক্তি নেই

জলি তালুকদার রাজনীতিবিদ ও শ্রমিকনেতা। ছাত্র আন্দোলন থেকে পরবর্তী সময়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং বিশ্ব ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ট্রেড ইউনিয়ন ইন্টারন্যাশনাল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। মে দিবস উপলক্ষে দেশের শ্রমিকদের অবস্থা, সুবিধাবাদী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন এবং অর্থনীতিবাদী আন্দোলনের সীমাবদ্ধতাসহ নানা বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার মাসুদ রানা

মাসুদ রানা
শুধু অর্থনীতিবাদী আন্দোলন করে শ্রমজীবীর মুক্তি নেই

প্রথমে দেশের বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই।

সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের শ্রমিকেরা ভালো অবস্থায় নেই। কারণ, বাংলাদেশের অধিকাংশ শ্রম খাতের শ্রমিকদের কোনো ন্যূনতম মজুরি নেই। ন্যূনতম মজুরি যেখানে আছে, এমন অনেক খাতেই এখনো ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আমাদের দেশে কোনো জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কার্যকর নেই। গার্হস্থ্য, দোকান কর্মচারী, চাতাল, ইট ভাঙা, ইটভাটাসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের কোনো ন্যূনতম মজুরি নেই। হোটেল-রেস্তোরাঁর শ্রমিক, নিরাপত্তারক্ষীদের ন্যূনতম মজুরি ঘোষিত হলেও বাস্তবায়নের হার প্রায় শূন্য।

যে কয়েকটি সেক্টরে ন্যূনতম মজুরির কথা শোনা যায়, তাদের মজুরিও খুব কম। বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সেটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একজন শ্রমিক খেয়েপরে বেঁচে থাকার মতো মজুরি পান না। এ ছাড়া কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতা, ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার হরণ, অনেক ক্ষেত্রেই মাতৃত্বকালীন ছুটি না থাকা, যৌন হয়রানির মতো ঘটনা—এ দেশের শ্রমিকদের নিত্যদিনের সংকট। ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার তুলনায় শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের অবস্থা ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের বিরাট ভূমিকা ছিল এবং অনেকে শহীদও হয়েছেন, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শ্রমিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ হয়নি। সে সময় অসংখ্য শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেসব শ্রমিক বকেয়া বেতনও পাননি।

এমনকি গত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে যেসব রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি ও পাটকল বন্ধ করা হয়েছিল এবং আমরা সেসব খুলে দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলাম, সেসব শ্রমিকের বকেয়া পাওনা এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। ফলে বাংলাদেশের শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের পরিস্থিতি খুবই খারাপ।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, আমাদের দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো শুধু পোশাকশ্রমিকদের সমস্যা ও দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করে থাকে। কিন্তু অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে সেভাবে আলোচনা না হওয়ার কারণ কী?

প্রথমত, আমরা দেশের বড় বড় শিল্প খাতের শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেও তা সমাধান করতে পারছি না। সত্যিকার অর্থে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার আমাদের দেশে সহজ ও স্বাভাবিক না। ফলে অনানুষ্ঠানিক খাত, যেমন গার্হস্থ্য শ্রমিকেরা কীভাবে সংগঠিত হবেন? তাঁদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে এবং সেটা আইনেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও ধরুন ইটভাটা, চাতালশ্রমিকেরা কীভাবে ট্রেড ইউনিয়ন করবেন? এটা তাঁদের জন্য কঠিন ব্যাপার। এ ধরনের অসংগঠিত সেক্টরের শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নেই বললেই চলে। ফলে যেসব সেক্টরে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার আছে, বিশেষত সংগঠিত শিল্প খাত এবং অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক উন্নয়ন করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে, সেখানে একটা মিলিট্যান্ট লড়াই-সংগ্রাম করা সম্ভব হচ্ছে। সেটা মানুষের মনোযোগও পাচ্ছে। তাই এসব শিল্প খাতের শ্রমিকদের নিয়ে বেশি আন্দোলনের কথা শোনা যায়। যদিও তাঁরা তাঁদের অধিকারের জায়গা থেকে এখন পর্যন্ত খুব কম দাবিই আদায় করতে পেরেছেন।

তবে অসংগঠিত খাতে শ্রমিকের লড়াই নেই, এ কথা কিন্তু সঠিক নয়। বর্তমান সরকারও ক্ষমতায় আসার পর থেকে কোনো ধরনের বিচার-বিবেচনা না করে (যখন আমাদের বেকার সমস্যা ব্যাপক) অটোরিকশা ও হকার উচ্ছেদ করছে। এসব খাতে তো শ্রমিকদের ব্যাপক আন্দোলন হচ্ছে। আর আন্দোলন না করে তো তাঁদের কোনো উপায়ও নেই। যেখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবার কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। উপরন্তু যাঁরা স্ব-উদ্যোগে নিজের কাজ নিশ্চিত করে সংসার চালাচ্ছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে একটা ভূমিকা রাখছেন, তাঁদের কোনো ধরনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। অসংগঠিত খাতে যেখানে শ্রমজীবীদের সংখ্যা বেশি, এই সুযোগের কারণে তাঁরা দাবি আদায়ের আন্দোলন সংগঠিতভাবে করতে পারছেন। হয়তো তাঁরা পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মতো দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ পাচ্ছেন না। যার প্রধান কারণ, এ দেশের পোশাকশিল্প আসলে একটি আন্তর্জাতিক সরবরাহ প্রক্রিয়ার (সাপ্লাই চেইন) অংশ।

আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু জায়গায় ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা দেখছি, ট্রেড ইউনিয়ন করার ক্ষেত্রে বড় অসুবিধা হচ্ছে, আমাদের শ্রম আইন গণতান্ত্রিক নয়। আইনের অল্প কয়েকটি ধারা শ্রমিকের পক্ষে, বাকি অধিকাংশ ধারাই শ্রমিকের বিপক্ষে। আমি মনে করি, শ্রম আইনের সঙ্গে সংবিধান ও আইএলও কনভেনশনের সাংঘর্ষিক কিছু ধারা আছে, যেগুলো শ্রমিকের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে মালিকের স্বার্থ রক্ষা করছে। সবকিছু মিলিয়ে আসলে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারের জায়গাটা আরও বিস্তৃত করা দরকার। সব শিল্প খাত ও অসংগঠিত খাতের শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার অপরিহার্য। তবে এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও শ্রমিকদের জীবন-মানের উন্নয়নের জন্য কার্যকর দাবিগুলো উত্থাপন করে তা আদায়ে আন্দোলনের প্রচেষ্টা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত আছে।

পোশাকশিল্প খাতে মজুরি বোর্ড থাকলেও অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট মজুরিকাঠামো নেই। এই বৈষম্য নিয়ে দেশের শ্রমিক সংগঠনগুলো সেভাবে কথা না বলার কারণ কী?

আমরা কিন্তু বলি। আমরা যেমন গার্হস্থ্য শ্রমিকদের নিয়ে একটা ফেডারেশন করার চেষ্টা করছি। আমরা ইটভাটা, ইট ভাঙাসহ, চাতাল, নির্মাণ, হকার, রিকশা-ভ্যান, চা-বাগান, মৎস্যজীবী, রংমিস্ত্রি, দোকান কর্মচারী ইত্যাদি নানা খাতের শ্রমিকদের নিয়ে কথা বলছি।

আমরা সাধারণভাবে শ্রমিকদের জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করার কথা বলছি কয়েক বছর আগে থেকে। এই দাবি তোলা হয়েছে আসলে সব খাতের স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকদের জন্য। এই দাবি নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত কথা বলে যাচ্ছি।

তবে আমাদের দেশের জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের কিছু সংকট আছে। শিল্প ও শ্রম খাতভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সৎ, আদর্শনিষ্ঠ, লড়াকু ট্রেড ইউনিয়ন খুঁজে পাওয়া যাবে সহজেই। জাতীয় পর্যায়ের ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে সেটা কিছুটা বিরল। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া স্কপ, একটি অকার্যকর ও চরম সুবিধাবাদী জাতীয় কনফেডারেশনে পরিণত হয়েছে। এটি সব সময় সরকারদলীয় জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের লেজুড়বৃত্তি করে থাকে। অপর জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনগুলো এই বৃত্তেই বন্দী। ফলে পোশাকশিল্প বা অন্য দু-একটি খাতের শ্রমিকদের নিজস্ব ফেডারেশনগুলো অধিকার আদায়ের লড়াই করলেও জাতীয়ভাবে সব শ্রমিকের জন্য কথা বলার নির্ভরযোগ্য কণ্ঠের বড় অভাব।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় বড় বড় শ্রমিক আন্দোলন হয়েছে। মাঝপথে গিয়ে আন্দোলনগুলো স্তিমিত হয়ে যায়। কোনো কোনো শ্রমিকনেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, মালিক ও সরকারের কাছে তাঁরা বিক্রি হয়ে যান। এটা কি অস্বীকার করবেন?

অস্বীকার করব কীভাবে? এসব তো বাস্তব সত্য। মালিকপক্ষের শ্রমিক সংগঠনগুলো আসলে মালিকদের পকেটস্থ ট্রেড ইউনিয়ন। সেই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা যখন শ্রমিকদের নিয়ে কোনো আন্দোলন করেন, তখন তার ফলাফল আর শ্রমিকের পক্ষে যায় না। ধরেন, কখনো কখনো পাওনা না দিয়ে শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। শ্রমিকেরা সাধারণভাবে ২৬ ধারায় পাওনা পাওয়ার কথা। কিন্তু এই নেতারা শ্রমিকদের ২০ ধারা মতে পাওনা পরিশোধের জন্য দর-কষাকষি করেন। এভাবে তাঁরা শ্রমিককে কম টাকা দিয়েই বুঝিয়ে থাকেন যে, তাঁরা শ্রমিকদের বিজয় এনে দিয়েছেন। আর এভাবে তাঁরা দালালি করে লাভবান হন। এ জন্যই আইএলওর তহবিল লুট করা, এনজিওবাদী ও মালিকদের পক্ষের তথাকথিত ট্রেড ইউনিয়নগুলোর বিরুদ্ধে একটা স্পষ্ট লড়াই থাকা দরকার। অনেক সময় দেখা যায়, শ্রমিকেরা বারবার প্রতারিত হয়েও এসব এনজিওবাদী ও মালিকপক্ষের ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে শ্রমিকের পক্ষের প্রকৃত ট্রেড ইউনিয়নসমূহের পার্থক্যটা বুঝতে পারেন না।

প্রতিবছর পোশাকশ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে এত এত আন্দোলন হয়। কিন্তু শ্রমিকেরা ঠিকমতো বেতন-বোনাস, ন্যূনতম মজুরি পান না। এটা রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত সমস্যা নয় কি? আপনারা কেন শ্রমিকদের তাঁদের কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখাতে ব্যর্থ হন?

আমি স্পষ্টভাবে মনে করি, শুধু অর্থনীতিবাদী আন্দোলন করার মধ্য দিয়ে শ্রমিকদের কাঙ্ক্ষিত মুক্তি হবে না। এটা সবার বুঝতে পারা জরুরি। এই সমালোচনা আমি গ্রহণ করতে চাই। শ্রমিকদের বুঝতে হবে যে শুধু অর্থনীতিবাদী আন্দোলন নয়, বরং তাঁরা কীভাবে শ্রম দাসত্ব থেকে মুক্তি পাবেন—সেটাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য এবং প্রধান আন্দোলন।

অনেক শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলে থাকেন, ‘রাজনীতি যার যার, শ্রমিক স্বার্থে এক কাতার’। কথাটা কিন্তু সঠিক নয়। কথাটি আসলে মালিকদের শ্রেণিস্বার্থের যে রাজনীতি, তার পক্ষে যায়। কারণ, শ্রমিকদের একটা নিজস্ব স্বার্থের রাজনীতি আছে। শ্রমিকেরা শ্রম দাসত্ব ও শোষণ থেকে মুক্তি চান। তাঁরা চান একটু ভালো করে, মানুষের মর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের স্বার্থের বিরোধী হলো বহুজাতিক করপোরেশনের স্বার্থ। তাঁর প্রতিপক্ষ হলো এই বহুজাতিক করপোরেশনের পক্ষের এবং নয়া উদারনৈতিক অর্থনীতির পক্ষের রাজনীতি। এটা ঠিক যে, আমরা ঠিকভাবে শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষকে ট্রেড ইউনিয়ন করার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত করার উদ্যোগ নিতে পারছি না। ফলে শ্রমিকদের মধ্য থেকে একটা অনেক বড় অংশ অর্থনীতিবাদী আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁরা এর বাইরে সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য এবং তাঁদের মুক্তির জন্য নিজের শ্রেণিস্বার্থের রাজনীতিতে এগিয়ে আসছেন না।

তবে বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন যত বেশি সাংগঠনিকভাবে ও আন্দোলনের মাধ্যমে শক্তিশালী করা যাবে, তত বেশি শ্রমিকেরা রাজনৈতিকভাবেও সচেতন হবেন। আর এর মধ্য দিয়ে তাঁরা রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের লড়াইয়ে যুক্ত হওয়ার তাগিদ বোধ করবেন। এটা আমরা করতে চাই বলেই আমাদের লড়াই অব্যাহত রেখেছি। শুধু তা-ই নয়, আমাদের প্রজন্মের রাজনৈতিক ও ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীরা সচেতনভাবে প্রতিনিয়ত আত্মসমালোচনা ও অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ভূমিকা কী?

আমাদের দেশের অনেক বামপন্থী দল মনে করে, শ্রমিকদের শুধু ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। নতুবা ট্রেড ইউনিয়নের গণসংগঠনের চরিত্র ক্ষুণ্ন হবে। তাঁদের জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোতে শামিল করার কর্তব্যকে উপেক্ষা করা হয়ে থাকে। আমাদের মধ্যে এ ধরনের একটা চিন্তার পার্থক্য রয়ে গেছে। কিন্তু চিন্তার জায়গায় আমাদের এক হওয়া দরকার। সে জন্যই বামপন্থীদের আসলে বিপ্লবী ধারার, শ্রেণিসচেতন এবং লড়াকু ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলা উচিত। আর সেটা সংগঠিত ও অসংগঠিত সব শ্রমিক সেক্টরে বিস্তৃত করা দরকার। অনেকে মনে করেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার আন্দোলন শুধু অর্থনীতিবাদী চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া দরকার। কিন্তু কখনোই শুধু অর্থনীতিবাদী বা ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন দিয়ে শ্রমিকেরা মজুরি দাসত্ব থেকে মুক্তি পাবেন না। তাঁরা এই বিদ্যমান শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে মুক্তি পাবেন না। কারণ, তাঁদের মজুরি ১০ টাকা বাড়বে, কিন্তু জীবনযাপনের জন্য নানা খরচ ৫০ টাকা বেড়ে যাবে। এসব তো এই শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থার ফলাফল। সে কারণেই রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন ছাড়া তাঁদের কোনো মুক্তি নেই। সংকট হলো, সন্দেহাতীতভাবে সমাজের অধিকাংশ মানুষের স্বার্থের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি হয়েও আমরা এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে অর্থপূর্ণ ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিবেচনার বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। কিন্তু এই না পারাটা শেষ কথা নয়। শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির কোনো বিকল্প তো আসলে নেই।

সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আজকের পত্রিকাকেও অনেক ধন্যবাদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত