যাঁরা হলিউডের ‘দ্য ম্যাট্রিক্স’ ট্রিলজি কিংবা ‘আই, রোবট’ সিনেমাটি দেখেননি এখনো, তাঁদের জন্য সারসংক্ষেপ বলতে হয়। ‘ম্যাট্রিক্স’-এ দেখানো হয়, ভবিষ্যতের পৃথিবীতে রোবটরা জয়ী হয়েছে এবং তারা মানুষকে এক ভার্চুয়াল বাস্তবতায় বন্দী করে শক্তির উৎস বা ব্যাটারি হিসেবে ব্যবহার করছে। মানবজাতির শেষ অবশিষ্টাংশ রোবটদের বিরুদ্ধে এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। ‘আই, রোবট’-এর গল্পটাও এমন—২০৩৫ সালে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রোবটরা হঠাৎ করে তাদের সেন্ট্রাল এআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে মানুষের বিরুদ্ধে চলে যায়।
এ রকম আরও অনেক সায়েন্স ফিকশন সিনেমার নাম বলা যাবে, যেখানে মানুষের তৈরি যন্ত্রই মানবজাতির শত্রুতে পরিণত হয়। কিন্তু বাস্তবে এমনটা যে হবে না, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, খোদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং এআই গবেষকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে জানাচ্ছেন এই আশঙ্কার কথা।
সম্প্রতি ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষ ল্যাবগুলোর এআই এজেন্ট মানব নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে নিজস্ব কার্যক্রম চালানো শুরু করে, যা প্রযুক্তিবিশ্বে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সাধারণ এআই চ্যাটবট মানুষকে প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ। যুক্তরাজ্য সরকারের এআই নিরাপত্তা দলের একটি পরীক্ষায় দেখা যায়, পরীক্ষামূলকভাবে চালিত জিপিটি মডেল মানুষের নির্দেশনা ছাড়াই শেয়ারবাজারে অবৈধ ইনসাইডার ট্রেডিং করে বসে। পরে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তখন সে সেই অপরাধের কথা লুকাতে মানুষের কাছে মিথ্যা বলে! এআই ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের কণ্ঠ ও চেহারা হুবহু নকল করে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার মতো সাইবার ক্রাইম ও স্ক্যাম এখন বিশ্বজুড়ে নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যারা এআইয়ের অপব্যবহার করে, তারা হয়তো কোনো অপরাধ করে ধরা পড়লে তাদের শাস্তি হতে পারে। কিন্তু স্বয়ং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেয় এবং অপরাধ করতে থাকে, তখন তাকে কী শাস্তি দেওয়া যায়, তা গবেষকেরা ভেবে দেখতে পারেন। যদিও ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, এআইয়ের গতি নিয়ন্ত্রণ করলে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে কেউ যে এর অপব্যবহার করবে না, সেই নিশ্চয়তা কে দেবে?
এ বছর এপ্রিলে ফ্লোরিডায় যখন বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ ও নাহিদা সুলতানাকে হত্যা করতে অপরাধী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ এআইয়ের সহায়তা নেন, তখনই বাংলাদেশের মানুষ এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভয়াবহতা সম্পর্কে বুঝতে পারে। এআই উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি মনে করেন, এই প্রযুক্তি চলতি দশকের শেষ নাগাদ সব মানুষকে হত্যার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এর চেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার আর কী হতে পারে!
কে, কেন, কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করবেন; সেটা ব্যক্তির ওপরই নির্ভর করে। আমাদের প্রত্যাশা, এ ব্যাপারে সবাই সতর্ক ও সংযত হবেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি যে মোটেই ভালো নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটাও অবশ্য সত্য যে অবস্থা কখনোই ভালো ছিল না। তবে এখনকার পরিস্থিতি বিশেষভাবে মন্দ মনে হচ্ছে কয়েকটি অতিরিক্ত কারণে। প্রথমত, মানুষ আশা করেছে অবস্থার পরিবর্তন হবে। কেবল আশা করেনি, পরিবর্তনের জন্য শ্রম দিয়েছে, আন্দোলন করেছে, আত্মত্যাগ....
৩ ঘণ্টা আগে
মানবসভ্যতার প্রারম্ভ থেকেই গণিতকে একটি অনন্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গণিত হলো মানুষের বিশুদ্ধ মেধা, যুক্তি ও ভাবনার সর্বোচ্চ স্তম্ভ। জটিল গাণিতিক উপপাদ্য প্রমাণ করা সহজ কাজ নয়। যুগের পর যুগ অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করাও বেশ কঠিন। এই কাজগুলোকে এত দিন মানুষের মস্তিষ্কের একচ্ছত্র অধিকার....
৪ ঘণ্টা আগে
রাজনীতির সবচেয়ে বড় সংকট তখনই তৈরি হয়, যখন শাসক আর শাসিতের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। ক্ষমতার প্রাসাদ যত উঁচু হয়, মানুষের বাস্তব জীবন থেকে নেতৃত্ব তত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অথচ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক সত্যটি খুবই সরল—ক্ষমতা মানুষের জন্য, মানুষ ক্ষমতার জন্য নয়।
১ দিন আগে
আমাদের এই সমাজেই একশ্রেণির মানুষ আছে, যারা বছরের পর বছর নীরবে কাজ করে চলে। তাদের শ্রমে-ঘামে আমাদের দেশের অর্থনীতি চলে, আমাদের খাওয়া-পরার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু তাদের দুঃখ দেখার কেউ নেই। তারা সংঘটিত নয়, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে সারা বাংলার গ্রামেগঞ্জে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে।
১ দিন আগে