সম্পাদকীয়

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পুরোনো দুর্নীতির একটি ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। আজকের পত্রিকায় ১৯ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রায় ৪৫০ টন জুয়েলারি (গয়না) আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু অসাধু আমদানিকারকেরা ‘কৃত্রিম মানব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ’ আমদানির ভুয়া ঘোষণা দিয়ে কর ফাঁকি দেন। এতে সরকার হারিয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব। এই দুর্নীতির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছিলেন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দায়িত্বে থাকা তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান, যিনি বর্তমানে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কমিশনার পদে কর্মরত।
এই ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন দুর্নীতির উদাহরণ নয়, বরং এটি আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থার গভীরে বাসা বাঁধা একটি ক্ষত। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যখন নিজের পদের অপব্যবহার করে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি করতে সরাসরি হাত মেলান, তখন তা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, বরং দেশের জনগণের আস্থাও ভেঙে দেয়। ১৩ কোটি টাকা দিয়ে সরকার দেশের জন্য কিছু কাজ করতে পারত। কিন্তু সেই টাকা চলে গেছে মুষ্টিমেয় অসাধু ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তার পকেটে।
সবচেয়ে হতাশাজনক দিকটি হলো, এই দুর্নীতির ঘটনাটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে তাঁর চাকরি করে যাচ্ছেন। এটি আমাদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক কদর্য উদাহরণ। যখন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সহজে পার পেয়ে যান, তখন তা অন্যদেরও একই পথে চলতে উৎসাহিত করে। ফলে দুর্নীতির চক্র আরও শক্তিশালী হয়।
তবে এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় এনবিআরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা কতটা দুর্বল। কেন একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তা এত দিন ধরে পদে বহাল থাকলেন, কেন তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখল না—এসব প্রশ্নের উত্তর কর্তৃপক্ষের খুঁজে বের করা দরকার। কেবল কিছু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো বা সাময়িক বরখাস্ত করা কোনোভাবেই সমস্যার সমাধান হতে পারে না। মূল সমস্যা হলো জবাবদিহির অভাব।
এখন সময় এসেছে এই চক্র ভাঙার। এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে হলে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষ তদারকি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে, যাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কর ফাঁকির সুযোগ কমে যায়।
দুর্নীতি যখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক না। এই রাজস্ব ফাঁকির ঘটনাটি একটি সতর্কবার্তা। সরকার যদি এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক ঘটনা আমাদের সামনে আসতে পারে, যা আমাদের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পুরোনো দুর্নীতির একটি ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। আজকের পত্রিকায় ১৯ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রায় ৪৫০ টন জুয়েলারি (গয়না) আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু অসাধু আমদানিকারকেরা ‘কৃত্রিম মানব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ’ আমদানির ভুয়া ঘোষণা দিয়ে কর ফাঁকি দেন। এতে সরকার হারিয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকার রাজস্ব। এই দুর্নীতির মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছিলেন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে দায়িত্বে থাকা তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসান, যিনি বর্তমানে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কমিশনার পদে কর্মরত।
এই ঘটনাটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন দুর্নীতির উদাহরণ নয়, বরং এটি আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থার গভীরে বাসা বাঁধা একটি ক্ষত। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যখন নিজের পদের অপব্যবহার করে দেশের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি করতে সরাসরি হাত মেলান, তখন তা কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, বরং দেশের জনগণের আস্থাও ভেঙে দেয়। ১৩ কোটি টাকা দিয়ে সরকার দেশের জন্য কিছু কাজ করতে পারত। কিন্তু সেই টাকা চলে গেছে মুষ্টিমেয় অসাধু ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তার পকেটে।
সবচেয়ে হতাশাজনক দিকটি হলো, এই দুর্নীতির ঘটনাটি তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে তাঁর চাকরি করে যাচ্ছেন। এটি আমাদের বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক কদর্য উদাহরণ। যখন একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি দুর্নীতির অভিযোগ থেকে সহজে পার পেয়ে যান, তখন তা অন্যদেরও একই পথে চলতে উৎসাহিত করে। ফলে দুর্নীতির চক্র আরও শক্তিশালী হয়।
তবে এ থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় এনবিআরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা কতটা দুর্বল। কেন একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তা এত দিন ধরে পদে বহাল থাকলেন, কেন তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখল না—এসব প্রশ্নের উত্তর কর্তৃপক্ষের খুঁজে বের করা দরকার। কেবল কিছু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো বা সাময়িক বরখাস্ত করা কোনোভাবেই সমস্যার সমাধান হতে পারে না। মূল সমস্যা হলো জবাবদিহির অভাব।
এখন সময় এসেছে এই চক্র ভাঙার। এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে হলে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য একটি শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষ তদারকি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে, যাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কর ফাঁকির সুযোগ কমে যায়।
দুর্নীতি যখন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন তাকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক না। এই রাজস্ব ফাঁকির ঘটনাটি একটি সতর্কবার্তা। সরকার যদি এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক ঘটনা আমাদের সামনে আসতে পারে, যা আমাদের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

২০২৫ সালটি বাংলাদেশের অর্থনীতির যেমন কোনো বড় সাফল্যের বছর ছিল না, তেমনি সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের বছরও ছিল না। বছরটি ছিল অনেকটা স্রোতোবহা নদীর মাঝখানে ভেসে থাকা নৌকার মতো, যেখানে পেছনে প্রবল চাপ আর সামনে অনিশ্চিত পথ।
৯ মিনিট আগে
বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া শুধু একটি নাম নন; তিনি একটি দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও। তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল—যে অধ্যায় ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, গভীর মেরুকরণ, সংগ্রাম ও বিতর্কে পরিপূর্ণ। রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে তিনি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি রাজনৈতিক...
১৪ মিনিট আগে
আমাদের দেশেই ঘটে সম্ভবত এ রকম অর্বাচীন কর্মকাণ্ড, যেখানে কাণ্ডজ্ঞানের কোনো মাত্রা খুঁজে পাওয়া যায় না। স্কুলের কাছে যখন ইটভাটা চালু থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবে শিশুদের পড়ালেখায় বিঘ্ন ঘটবে। এটা জানার পরও দিব্যি চলছে ইটভাটার কার্যক্রম।
১৯ মিনিট আগে
রাজনৈতিক হাওয়া উত্তপ্ত যখন, তখনই শীতের প্রকোপে বিহ্বল দেশ। দুদিন হালকা রোদ উঠলেও সূর্যের উত্তাপহীন হাড়কাঁপানো শীত এবার দেশের মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। সামনে নির্বাচন, তা নিয়েই ব্যস্ত মানুষ। কিন্তু এই নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যে আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে