কয়েক মাস আগে ঢাকাসহ প্রায় সারা দেশের এক চিরচেনা দৃশ্য—পাম্পে দীর্ঘ সারির গাড়ির লাইন চোখে পড়েছিল। সে সময় গ্যাস-সংকটের অন্যতম কারণ ছিল ইরান আগ্রাসন। সেই একই পরিস্থিতি আবারও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এবার কিন্তু বৈশ্বিক কোনো ব্যাপার নেই।
গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে দেশ আবার জ্বালানিসংকটে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমাদের দেশে এমনিতেই অনেক দিন থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি আছে। এই দুর্ঘটনার পর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ আরও কমে যাওয়াতে নতুন করে সংকট তৈরি হবে।
যান্ত্রিক ত্রুটির কথা শুনে অনেকে বলতে পারেন, এ আবার কী সমস্যা? যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করলেই তো গ্যাস আগের মতো সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কিন্তু এ ত্রুটি দূর করা সহজ নয়। কারণ, এই ত্রুটি দূর করার কোনো আয়োজন দেশের মধ্যে নেই। ফলে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে এটার ত্রুটি দূর করা সম্ভব হবে। সে জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। সেই যান্ত্রিক ত্রুটি দূর করা সম্ভব হলেও আমাদের গ্যাসের সমাধান হবে না। এ জন্য জ্বালানির সমস্যা সমাধানের জন্য স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। দেশের জ্বালানি সমস্যা এমনিতেই আছে। এর সঙ্গে যদি যান্ত্রিক ত্রুটি বা কোনো বৈশ্বিক সংকট দেখা দেয়, তাহলে সমস্যা তখন আরও বাড়বে। এ কারণে স্থায়ী সমাধানের পথই হবে এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়।
বিগত সরকার দীর্ঘমেয়াদি স্বনির্ভরতার কৌশল সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বিদেশি এলএনজি আমদানির পেছনে শত শত কোটি ডলার ঢেলেছিল। তারপরেও জ্বালানিসংকটের কোনো সমাধান হয়নি। পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমান সরকারও সেই পুরোনো ভুল নীতির পথেই অগ্রসর হচ্ছে।
দেশের নিজস্ব স্থলভাগ ও গভীর সমুদ্রের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে, আমদানির দিকেই বেশি আগ্রহ দেখানো হচ্ছে। আমদানিকৃত এলএনজি দিয়ে কোনো দেশের টেকসই জ্বালানিনিরাপত্তা গড়ে উঠতে পারে না—বর্তমান সংকটটি যেন সেই চরম সত্যেরই আরেকটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
এই সংকট নিরসনে সরকারকে অনতিবিলম্বে আমদানিনির্ভরতার পথ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। স্থলভাগে থমকে থাকা অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত বেগবান করার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে। এরপর দেশের ভেতরের গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উত্তোলন-ক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি, সিস্টেম লস বা পাইপলাইনের অবৈধ সংযোগ ও অপচয় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কোনোভাবেই আর আমদানিকৃত এলএনজি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরশীল হওয়া ঠিক হবে না। নিজস্ব জাতীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আর জ্বালানি খাতে স্বাবলম্বী হওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। এটাই হবে উত্তম পথ।

পদ্মা-মেঘনা-যমুনার পলিবিধৌত বাংলায় ১৯৭১ সালে যে রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রচিত হয়েছিল, তা আজ সাড়ে পাঁচ দশক পর সিন্ধু নদের অববাহিকায় এক ভৌতিক প্রতিধ্বনি তুলছে। ইতিহাস নাকি নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে—একবার ট্র্যাজেডি হিসেবে, আরেকবার প্রহসন হিসেবে। বর্তমান পাকিস্তানের দিকে তাকালে কার্ল মার্ক্সের এই বিখ্যাত উক্তিটি
১ ঘণ্টা আগে
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ৫ জুলাই মৃত্যুবরণ করেছেন। চারপাশে মুখোশপরা চিন্তাবিদ-বুদ্ধিজীবীর মাঝে ব্যতিক্রম ছিলেন তিনি। তাঁর কোনো মুখোশ ছিল না। মুখে যে কথা আসে বলে ফেলতেন। কথাকে যে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে উপযোগী করে বলতে হয়, তা তিনি জানতেন না। অন্য অনেকে কৌশল করে কথা বলেন। কারণ, তাঁরা প্রায় সবাই লোকসমাজে যা
১ ঘণ্টা আগে
জুলাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতনের ঘটনা নয়; এটি ছিল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। এর দুই বছর পূর্তিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—জুলাই কি সফল, নাকি ব্যর্থ? এই প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেওয়া সম্ভব
১ ঘণ্টা আগে
কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মাস কোনটি? আমি নির্দ্বিধায় বলব, ২০২৪ সালের জুলাই। ক্যালেন্ডারের হিসাবে এটি বছরের সপ্তম মাস—মাত্র ৩১ দিনের। কিন্তু অনুভূতির হিসাবে যেন কয়েক যুগের সমান। এই এক মাসে আমি দেখেছি মানুষের সাহস, ভয়, কান্না, প্রতিবাদ, আত্মত্যাগ এবং আশার এক বিরল
১ দিন আগে