ছোট ছোট ঘটনার যোগফল এক বড় হতাশার জন্ম দেয়। এই যেমন ফরিদপুরের চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা এলাকার একটি ঘটনা মনে সংশয় আনে—মানুষ কি সত্যিই মানুষ আছে, নাকি নৃশংসতার মাত্রা এতটাই বেড়ে উঠেছে যে দানব আর মানবের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই? যে নারীর পেটে তিন মাসের বাচ্চা, তাঁকে বেধড়ক পেটানোর সময় এই অমানুষদের একবারও মনে হয়নি, এ রকম নৃশংসতা করা যায় না! এরা একবারও ভেবে দেখেনি, কেন তারা ময়না আক্তারকে মারছিল।
ময়নার বড় বোন বহু কষ্টে যে বাড়িটি তৈরি করেছেন, সেটির ওপরই ছিল প্রতিবেশীদের লোভ। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। বড় বোন পারভীন বেগম লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গচ্ছিত টাকা দিয়ে বাড়িটি করেছিলেন। এর পর থেকে সেখানেই তিনি বসবাস করে আসছিলেন। স্বামী নেই বলে মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। দারিদ্র্যই কাল হয়েছে তাঁর। এই বাড়িটি দখল করে নিতে চাইছে প্রতিবেশীরা! দখলের চেষ্টার খবর পেয়েই পারভীন বেগমের তিন বোন ছুটে এসেছিলেন বোন ও বোনের বাড়ি রক্ষা করতে। সেখানেই অন্তঃসত্ত্বা ময়না আক্তারকে বেধড়ক পেটায় আক্রমণকারীরা। পেটে বাচ্চা আছে বলেও রেহাই পাননি ময়না।
হাসপাতালে গর্ভপাত করাতে হয়েছে ময়নাকে। পুলিশে ফোন করলে পুলিশ আসে এবং মজিবর নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্যের এমনই পরিহাস, মামলা করতে গেলে দুটো বিষয় বাদ দিতে হয়েছে। একটি হলো মজিবরকে আসামি করা যাবে না, অন্যটি হলো, এদের মার খেয়ে ময়নার গর্ভপাত ঘটানো হয়েছে, সে কথাও মামলায় উল্লেখ করা যাবে না। বাধ্য হয়ে সেভাবেই মামলা করা হয় এবং আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে ময়নার বড় বোনকে হুমকি-ধমকি দেওয়া অব্যাহত রেখেছে।
এরপরের চিত্রটি নানা রকম হতে পারে। তবে ঘটনাটি সত্যিকার অর্থে যেদিকে বাঁক নিতে পারে, সেটা সত্যিই ভয়াবহ। যেহেতু এই বোনদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় এবং তাঁদের প্রতিবেশীরা যথেষ্ট ‘মালদার’ পার্টি, তাই এ রকম আক্রমণ চালাতে চালাতে একসময় বড় বোন পারভীন বেগমের বাড়িটি এরা হস্তগত করে নিতে পারে। মামলা করার সময় মজিবরের নামটি মামলায় উল্লেখ করা যায়নি। ময়নার জীবনের এত বড় সর্বনাশ হওয়ার পরও সে কথা মামলায় বলা যায়নি, এ থেকেই বোঝা যায় ঘটনা কোন দিকে গড়াতে পারে।
অর্থ আর ক্ষমতাবানদের হাতেই আইন নড়াচড়া করে—এ রকম একটি ধারণা বহুকাল ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। সাহিত্যে, চলচ্চিত্রেও এ ধরনের ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়ে থাকে। চার বোনের এই ট্র্যাজেডির কোনো সুরাহা হয় কি না, তা দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু সে অপেক্ষা মোটেই ফুরাবে না কিংবা ক্ষমতাবান অপরাধীরাই জয়ী হয়ে হাসবে, যদি না সঠিক তদন্ত হয়। গরিব মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা হবে কি না, তা জানতে হলে ঘটনাটির ব্যাপারে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
জনমত গড়ে উঠুক এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে।

কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মাস কোনটি? আমি নির্দ্বিধায় বলব, ২০২৪ সালের জুলাই। ক্যালেন্ডারের হিসাবে এটি বছরের সপ্তম মাস—মাত্র ৩১ দিনের। কিন্তু অনুভূতির হিসাবে যেন কয়েক যুগের সমান। এই এক মাসে আমি দেখেছি মানুষের সাহস, ভয়, কান্না, প্রতিবাদ, আত্মত্যাগ এবং আশার এক বিরল
১ ঘণ্টা আগে
প্রকৃত শিক্ষা দিয়ে কী হবে? যেখানে মুখস্থ করে এগিয়ে যাওয়া যায়, সেখানে প্রকৃত শিক্ষা খোঁজা বিলাসিতা। কথাটি শুনতে তিক্ত হলেও সত্যি। আমাদের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা মুখে মুক্তচিন্তার কথা বলি, কিন্তু সেই চিন্তার বিকাশ ঘটানোর মতো শিক্ষাব্যবস্থা আজও গড়ে তুলতে পারিনি।
১ ঘণ্টা আগে
কয়েক মিনিটের একটি ভিডিও বদলে দিল অসংখ্য মানুষের ফেসবুক টাইমলাইন। মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এলেন ভিডিওতে থাকা প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি এবং তাঁর তরুণী সঙ্গী। শুরু হলো প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন, ব্যাখ্যা আর প্রতিব্যাখ্যার ঝড়।
১ ঘণ্টা আগে
জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম যে কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। নানা ধরনের ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর এ কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জামায়াত নেতা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাইলেও ঘটনাগুলো তাঁর জন্যই শুধু অস্বস্তিকর নয়, তাঁদের দলের রাজনীতিও তাতে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে।
১ দিন আগে