Ajker Patrika

চরিত্র

সম্পাদকীয়
চরিত্র

দুটি প্রতিবেদনে চোখ পড়তেই মনে হলো, এখনই এই ব্যাপারগুলোয় সতর্ক না হলে দেশের রাজনৈতিক স্বাস্থ্য নাজুক অবস্থায় গিয়ে দাঁড়াবে। খবরগুলো সুখকর নয়। কিন্তু তার একটা প্যাটার্ন আছে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, যাঁরা এই অঘটনগুলো ঘটাচ্ছেন, তাঁদের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। তাঁরা যা ঘটাচ্ছেন, আদতে নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান কেউ তা ঘটাতে পারেন না। এ ব্যাপারে কথা বলার আগে ঘটনা দুটির দিকে দ্রুত চোখ বুলিয়ে নিই।

কুমিল্লায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়াকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও পরে ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে উঠেছিল সম্পর্ক। একপর্যায়ে সেই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাঁকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

এরই সূত্র ধরে চলে যাওয়া যাক নেত্রকোনায়। এখানে ১০ বছর বয়সী এক শিশু সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তির, তিনি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহন তালুকদার। বাড়ির অভিভাবকদের অবর্তমানে মোহন তালুকদার শিশুটির বাড়িতে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ভয়ে শিশুটি দীর্ঘদিন তা গোপন রাখে। কিন্তু শরীরে পরিবর্তন এলে ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। মামলা হওয়ার পর থেকে মোহন মিয়া গা-ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এবং সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ছাত্রদল আর ছাত্রশিবিরের কী সম্পর্ক, সেটি নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। শিবির এবং দলের দুই নেতার চারিত্রিক দৃঢ়তা বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বলার কিছু নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আদর্শিকভাবে রাজনৈতিক ছায়ার নিচে থাকা মানুষের মধ্যে এই ধরনের মানসিকতা কী করে গড়ে ওঠে? চারিত্রিক স্বচ্ছতা কি রাজনৈতিক দলগুলো বা তাদের ছাত্রসংগঠনগুলোর জন্য অপরিহার্য কোনো বিষয় নয়? নেতা হওয়ার পথটি তো সহজ নয়। দলের অন্য সদস্যরা নেতার বৈশিষ্ট্যগুলো দেখেই তো নিজেদের গড়ে নেন। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সৌজন্য ইত্যাদি যে গুণগুলো একসময় দেখা যেত, সেগুলো কি একেবারেই হারিয়ে গেল? এই দুটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে আদৌ কি সংগঠনগুলোর ভেতরে কোনো আলোচনা হবে? এ রকমভাবে যেন নৈতিকতা দলন করা না হয়, তা নিয়ে কি কোনো সিদ্ধান্ত আসবে?

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আদর্শ ও নৈতিকতার অভাব বহু আগে থেকেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। আমাদের দেশের জন্য দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া কোনো নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু চারিত্রিক স্খলনের জন্য রাজনীতিবিদ বা ছাত্রনেতারা যেন দেশকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন না করেন, সেটা নিশ্চিত করতে হলে দলগুলোকে সচেতন হতে হবে। অঘটন ঘটানোর পর দল থেকে বহিষ্কার করা কোনো কাজের কথা নয়। চরিত্রহীন মানুষের যেন কঠোর শাস্তি হয়, সরকারি দল করার কারণে এরা যেন পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিতে না পারেন, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত