Ajker Patrika

ত্রিশালে ধর্ষণ

সম্পাদকীয়
ত্রিশালে ধর্ষণ

পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছেন—এ রকম অভিযোগে আটক হয়েছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের চিকনা মনোহর গ্রামের মসজিদের ইমাম। অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে বটে, কিন্তু আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, পড়া শেষ হওয়ার পরও মেয়ে ফিরছিল না বলে মা মেয়েকে মসজিদ থেকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে ইমামকে শিশুটির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছেন। তখন তিনি এলাকাবাসীকে ডেকেছেন। এলাকাবাসী ইমামকে মারধর করে পুলিশে খবর দিয়েছেন। পুলিশ তাঁকে থানা হেফাজতে নিয়েছে।

খুব কম সময়ের মধ্যেই একের পর এক শিশু ধর্ষণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এটা খুবই খারাপ লক্ষণ। ধর্ষকের তালিকায় যাঁদের দেখা যাচ্ছে, সমাজে তাঁদের সম্মান রয়েছে। সেই সম্মান রক্ষা না করে তাঁরা তাঁদের লালসা চরিতার্থ করার খেলায় কেন মেতে উঠেছেন, সে প্রশ্ন নিয়ে সমাজতাত্ত্বিকদের ভাবা উচিত। যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হয়, তাহলে মহামারির মতো ধর্ষণপ্রবণতা সারা দেশে ছড়িয়ে যাওয়া বিচিত্র নয়।

পাড়ার বখে যাওয়া ছেলেরা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করছে—এ রকম খবর প্রকাশিত হতো একসময়। পাড়ার মুরব্বিরা নিজেরাই শক্ত হাতে এসব অনিয়ম মোকাবিলা করতেন এবং পাড়ার মাস্তানদের শায়েস্তা করতেন। সে দিনগুলো কি হারিয়ে গেল? এখন ধর্ষকের তালিকায় শিক্ষক, ইমামদের দেখা যাচ্ছে। যাঁদের কাছ থেকে জীবনের পাঠ নেবে শিশু, তাঁরাই রক্ষক না হয়ে ভক্ষক হচ্ছেন—এ বড় চিন্তার বিষয়।

শিশুরা তাহলে কোথায় নিরাপদ? বাড়িতেও আত্মীয়স্বজনের কাছে শিশুরা নিরাপদ, এ রকম ভাবার কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা বহু পরিবারেই ঘটছে। স্বজনদের মধ্যে কেউ কেউ শিশুদের যৌন হয়রানি করে থাকে। ভয়ে কিংবা লজ্জায় শিশুরা সে কথা অভিভাবকদের বলে না, আবার এমনও হয়, শিশুরা সেই নির্যাতনের কথা বললেও অভিভাবকেরা তা বিশ্বাস করেন না।

সমাজে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। সেগুলো নিয়ে আলাদাভাবে বিশদ আলোচনা করা দরকার। তবে তারই একটা দিক ভয়াবহভাবে মানুষের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। বাস্তব জীবনের চেয়ে ইন্টারনেট জীবন মানুষের জীবনের অনেকটা কেড়ে নিয়েছে। অন্তর্জালে ভালো অনেক কিছুর সঙ্গে মন্দ অনেক কিছুই দেখার সুযোগ আছে। ডেটা কিনে মন্দ কিছুর সংস্পর্শে আসার সুযোগ থাকায় সে সুযোগের ‘সদ্ব্যবহার’ করছে যারা, তাদের মধ্যে সমাজের সম্মানিত মানুষেরাও আছেন।

তাই কোনটা কার মুখোশ আর কোনটা বাস্তব অবয়ব, সেটা বোঝা ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ‘খারাপ স্পর্শ’ কাকে বলে, তা শিশুরা সব সময় জানে না। ‘মন্দ স্পর্শ’ বিষয়ে ব্যাপকভাবে শিশুদের সচেতন করে তোলা দরকার।

‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’—এ রকম গালভরা বুলি এখন আর সমাজে কোনো আলোড়ন তোলে না। শিশুদের নিরাপদ শৈশব গড়ে তোলা খুব কঠিন নয়। এ জন্য ঘরে, মহল্লায়, বিদ্যায়তনে, পথেঘাটে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশু তার স্বপ্নগুলো নির্ভয়ে মেলে ধরতে পারে।

শাস্তি হোক বিভ্রান্ত, লম্পটদের। রক্ষা পাক শিশুরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত