পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা বলতে গেলে সাত রাত, সাত দিন কেটে যাবে। অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক পর্যায়ে সীমাহীন ব্যর্থতা। শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, স্বাস্থ্যব্যবস্থা যে পর্যায়ে গিয়েছিল, তার ফল টের পাওয়া যাবে আরও—ইতিমধ্যেই শুধু হামের কারণে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির সম্মুখীন। ব্যাংক থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় অনেক বেশি ঋণ নিয়েছিল তারা। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়াও সব সেক্টরের কোনো উন্নতি তো করতে পারেইনি বরং আগের উন্নয়ন ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিল।
এ রকম ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থা থেকে একটি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া বড় কঠিন। তবু মানুষ বুকে আশা বেঁধেছিল এই ভেবে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো নির্বাচিত সরকার। এখানে বিরোধী দল থাকবে, গঠনমূলক সমালোচনা করবে, নির্বাচিত সরকারের অনেক অভিজ্ঞ-প্রাজ্ঞ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ থাকবেন, যাঁদের চিন্তা-চেতনায় শুধু দেশ, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের মুক্তি—এ রকম গুণীজনের ছোঁয়ায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। এই সরকার ছয় মাসে পা রেখেছে। কোনো তথ্য-উপাত্ত বলছে না দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন এসেছে সমাজব্যবস্থায়। এ ব্যাপারে যাঁরা সমাজ নিয়ে চিন্তা করেন, তাঁদের ভাবার সময় এসেছে। সরকারকে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সমালোচনাও করতে হবে উন্নয়নের স্বার্থে, জাতির অগ্রগতির স্বার্থে।
প্রথমেই আসি শিক্ষা খাতে। আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আগে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সেই সময় নকল দূর করে প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন নকল বন্ধ করলেই হবে না, শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হবে। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কোনো পর্যায়ে নেই। পৃথিবীর বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি দিক থাকে—একটি শিক্ষাদান অর্থাৎ পাঠদান পদ্ধতি, অন্যটি গবেষণা করা। নির্ধারিত বিষয়ের ওপর একটি গবেষণা সেল থাকতে হবে, যেখানে মেধাবী গবেষকেরা নিজ নিজ বিষয়ের ওপর গবেষণা করে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে পারেন। এ রকম কোনো প্রতিশ্রুতি এখনো দৃষ্টিগোচর নয়।
শিক্ষাব্যবস্থার কোনো ধারাবাহিকতা নেই। বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত। আমাদের কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদ্রাসা থেকে তেমন কোনো পাস করা শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছে না। কারণ, বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুধু ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলের বিবেচনা করে ভর্তি করানো হয়। এখানে এসএসসি ও এইচএসসির ফলের ওপর ভিত্তি করে কোনো নম্বর প্রদান করা হয় না। এতে প্রমাণিত হয় মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ওপরে তেমন জোর দেওয়া হয় না। অথচ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিষয়ে সিলেবাসের ওপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করতে বিজ্ঞানচর্চার ওপরে জোর দেওয়া দরকার। সে ব্যাপারে কোনো নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।
বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পূর্বের তুলনায় অনেক অবনতি হয়েছে। গ্রামে ও মফস্বল শহরে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরও চাহিদামতো বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছে না গ্রাহকেরা। এখন বর্ষাকাল চলছে, বিদ্যুতের তেমন প্রয়োজন নেই, তবে বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানোর জন্য পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে। সেচ মৌসুমে যথাসময়ে সেচ দিতে না পারলে খাদ্য ঘাটতি দেখা যাবে। খাদ্য আমদানি করতে হলে রিজার্ভে হাত পড়বে। জনগণের ভোগান্তি বাড়ে যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদামতো না থাকে।
সড়ক ব্যবস্থাপনা, রেলপথ ব্যবস্থাপনা ও নৌপরিবহনব্যবস্থা—এসবের ওপরে কার্যকর কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়েছে কি না, আমরা জানি না। বর্ষা শেষেই সড়ক পরিবহনব্যবস্থার অবনতি হবে। সঙ্গে সঙ্গে এসব মেরামত না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। দৃশ্যমান প্রকল্প নিতে হবে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায়। নদীমাতৃক বাংলাদেশে, বিশেষ করে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌপরিবহনে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
সবচেয়ে নিরাপদ সস্তা পরিবহন হলো রেলপথ। আর এই পথের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া একান্ত জরুরি। সমগ্র দেশকে রেলপথের নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে পারলে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে এই সরকারের। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সড়কপথের যথেষ্ট উন্নতি করেছে, যেটা সবার চোখেই দৃশ্যমান। এই সরকারের উচিত রেলপথের উন্নতি করে সারা দেশের নেটওয়ার্কে পরিবর্তন আনা। এ রকম কোনো প্রকল্প কিন্তু দৃশ্যমান নয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের কর্মক্ষম মানুষ বেকার হয়েছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। তা ছাড়া, বিগত দুই বছরে শ্রমবাজারে এসেছে বিপুলসংখ্যক মানুষ। বলতেই হবে এটা সরকারের জন্য বোঝা। কর্মসংস্থানের নতুন কোনো প্রকল্প, বিকল্প কোনো পদ্ধতি, কলকারখানার বিস্তার এখনো চোখে পড়ছে না। বিভিন্ন ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে বলে মনে হয় না। নতুন নতুন ইপিজেড তৈরি করা বা তৈরি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের যদি থাকে, সেটা জানানো উচিত। এখনো যেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না—পুরোনো ইপিজেডে নতুন কোনো কলকারখানা তৈরি হবে, সে রকম উদ্যোক্তা খুব কম। সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতিতে মন্দাভাব।
কৃষক কার্ড কিংবা গ্রামগঞ্জে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে অল্প মূল্যে ভোগ্যপণ্য ক্রয়ের কার্ড বিতরণ করা কিন্তু সমস্যার সমাধান নয়। সমস্যার সমাধান হলো উৎপাদন বাড়ানো, মানুষকে কর্মমুখী করা, মানুষকে কাজে নিয়োজিত করা। কর্মক্ষম মানুষ যদি কাজ না পায়, তারা অন্য চিন্তা করে—সমাজে অস্থিরতা বাড়ায়, আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটায়; মুখ থুবড়ে পড়ে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা। তাই কিছু রাষ্ট্রীয় খাত থেকে সাহায্য দেওয়া সাময়িক হয়তো একটা ব্যবস্থা হতে পারে। এসব সাহায্যে জাতির তেমন উন্নতি হয় না। দরকার জিডিপি বাড়ানো, জিডিপি বাড়াতে হলে উৎপাদন বাড়াতে হবে, আয় বাড়াতে হবে, মানুষকে কর্মমুখী করতে হবে, রপ্তানি বাড়াতে হবে। আর রপ্তানি বাড়াতে হলে আমদানি অবশ্যই বাড়বে। অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।
সাধারণ মানুষ তুলনা করে আগে কী রকম ছিল, আর এখন কী রকম আছে; আগের কত টাকার গ্যাস এখন কত টাকায় কিনতে হয়; আগে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল কত দিত, এখন কত দেয়; নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য আগে কত দামে কিনত, এখন কত দামে কেনে; মাসিক খরচ আগে কত হতো, বর্তমানে কত খরচ হয়; আগে মাসিক আয় কত ছিল, এখন মাসিক আয় কত। এসবের হিসাব কিন্তু আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত করে। সরকার হয়তো মনে করে, ‘সাধারণ মানুষ সবকিছু বোঝে না, আমরা যা চাপিয়ে দেব, তা-ই তারা মেনে নেবে’—হয়তো কিছুদিন মেনে নেবে, কিন্তু বেশি দিন না। মানুষ যদি খাদ্যের অভাবে থাকে অথবা উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ যদি চাহিদার তুলনায় কম ক্যালরি গ্রহণ করে, তাহলে কিন্তু অপুষ্টি দেখা দেবে গ্রামগঞ্জে। অপুষ্টি দেখা দিলে মেধাবিকাশ হবে না। আমরা ভবিষ্যতের জন্য একটি মেধাহীন জাতিতে পরিণত হব। এমনিতেই আমাদের যে খাদ্যাভ্যাস, তাতে দৈনন্দিনের পুষ্টি বা ক্যালরি চাহিদা পূরণ হয় না। এ রকম চলতে থাকলে গ্রামগঞ্জে শিশুদের পেট মোটা হয়ে যাবে, হাত পা চিকন হয়ে যাবে, নাক থেকে পানি পড়বে। এটা হলো অপুষ্টির লক্ষণ। এ রকম অপুষ্টি বেশি দিন চলতে থাকলে স্কুল-কলেজে মেধাহীন ছাত্রছাত্রী দেখা দেবে। সবকিছু বিবেচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারের।
এ বছর বাজেটে যে অঙ্কের টাকার রাজস্ব বাজেট ধরা হয়েছে, বিগত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এটা অনেক বেশি। সরকার জানে, বাজেটে ঘাটতি থাকবে। তবে আশা থাকা ভালো। ঘাটতি বাজেট খুব একটা দোষের কিছু না। তবে সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকতে হবে—রাজস্ব আদায়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা, বিভিন্ন খাতে অর্থ বরাদ্দ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে করতে হবে। সরকারকেই বেছে নিতে হবে কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।
কিছুদিনের মধ্যেই বাস্তবায়ন করতে হবে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পে স্কেল। আমাদের দেশের প্রচলিত নিয়ম হলো নতুন পে স্কেল দিলেই বাসাভাড়াসহ সব পণ্যের দাম বেড়ে যায়। মনে রাখতে হবে—পে স্কেলের আওতায় পড়বে সর্বোচ্চ ১৪ লাখ পরিবার, এই ১৪ লাখ পরিবারে মানুষের সংখ্যা বেশি হলে ১ কোটি। সরকারকে চিন্তা করতে হবে ১৮ কোটি মানুষের জন্য। ১ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে গিয়ে যদি ১৭ কোটি মানুষকে বিপদের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়, তাহলে কিন্তু বিপর্যয় চলে আসতে পারে যেকোনো সময়। তাই ১৭ কোটি মানুষের কথা মাথায় রাখতে হবে, নতুন পে স্কেলের সঙ্গে সঙ্গে যেন বাজারের অর্থাৎ পণ্যমূল্যের কোনো ঊর্ধ্বগতি না হয়, বাসস্থানের খরচ না বাড়ে।
সরকারের পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রদর্শন করতে হবে, যেন সাধারণ মানুষ মনে করে পরিবর্তন হচ্ছে ভালোর দিকে। তারা যেন একটু আশার আলো সামনের দিকে দেখতে পায়।
লেখক: প্রকৌশলী

বেলুচিস্তান কিংবা পাকিস্তানের প্রসঙ্গ এলেই ইতিহাস যেন আমাদের অজান্তেই ৫৫ বছর পেছনে টেনে নিয়ে যায়। আর যখন বেলুচিস্তানে সামরিক অভিযান, বিদ্রোহ ও গণ-অসন্তোষের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়, তখন ১৯৭১ সালের স্মৃতি অনিবার্যভাবেই ফিরে আসে।
৮ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর শতাধিক মানুষকে আসামি করে মামলা করার যে ট্র্যাডিশন চালু হয়েছিল, তারই পরশ যেন পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা বটতলা গ্রামে।
৮ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে বামপন্থী সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের উগ্রবাদ এখন সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এটি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষে...
১ দিন আগে
আমাদের দেশ ও সমাজে এখন তারুণ্য বড় উদ্ভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। সত্যি বলতে—এটা এখন ভয়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোখের সমানে একদল কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণীর এমন উচ্ছন্নে যাওয়া সত্যি কষ্টের। এরা কীভাবে এমন হয়ে গেল? সবটাই কি তাদের দোষ?
১ দিন আগে