Ajker Patrika

গ্যাস

সম্পাদকীয়
গ্যাস

সারা দেশে কোথাও না কোথাও রান্নার জন্য গ্যাস পেতে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের সরবরাহ পাওয়াটা যেন সৌভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কয়েকটি গ্যাস বিস্ফোরণ দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে শুধু দুর্ভাগ্য বলে চালিয়ে দিলে কি হয়? এমন ঘটনা কি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ভয়াবহ পরিণতি নয়? একের পর এক বিস্ফোরণে মানুষ দগ্ধ হচ্ছে, প্রাণ হারাচ্ছে; অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।

ফতুল্লার উত্তর ভূঁইগড়, লাকীবাজার কিংবা সোনারগাঁ—প্রতিটি ঘটনায় একই চিত্র—গ্যাস লিকেজ, জমে থাকা গ্যাস এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে তিনটি বিস্ফোরণে ২১ জন দগ্ধ এবং ৭ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে তুলে ধরতে যথেষ্ট। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনা নতুন নয়। পাঁচ-ছয় বছর ধরে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়ে চলেছে ফতুল্লায়। স্থানীয়রাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০২০ সালের তল্লা মসজিদ বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে রাষ্ট্রীয় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাসের অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে তিতাসের ঠিকাদার ও মহানগর বিএনপির নেতা মুস্তাকিম শিপলু আঙুল তুলেছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতাদের ওপর, যাঁরা আবাসিক গ্যাস-সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার পর অবৈধ লাইন দিয়ে বাণিজ্য করেছেন। অদক্ষ কর্মীরা অবৈধ সংযোগ দিতে গিয়ে হাজার হাজার লিকেজ তৈরি করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাদের দাপট নিশ্চয়ই প্রায় দুই বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। এত লম্বা সময়েও কেন লিকেজগুলো সংস্কার করা হয়নি, সেই জবাবদিহি তিতাসকেই করতে হবে।

তিতাস কর্তৃপক্ষ পুরোনো গ্যাসলাইন, অবৈধ সংযোগ কিংবা ব্যবহারকারীর অসচেতনতাকে দায়ী করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বছরের পর বছর ধরে লিকেজ থেকে গেলে তার দায় কে নেবে? অবৈধ সংযোগ যদি এত বড় সমস্যা হয়, তবে তা বন্ধে কার্যকর অভিযান কোথায়? একটি রাষ্ট্রীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কি শুধু গ্যাস সরবরাহ করেই শেষ হয়ে যায়? সরবরাহ নিরাপদ হবে, সেটা নিশ্চিত করাও কি তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না?

আবার নগর-পরিকল্পনার দুর্বলতাও এই সংকটকে তীব্র করেছে। ঘিঞ্জি বসতি, অনুমোদনহীন ভবন, অপর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও বিল্ডিং কোড অমান্য করে নির্মাণ—সব মিলিয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি দিন দিন বহুগুণ বাড়ছে। একটি ছোট লিকেজও পুরো ভবনকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করে। একটি প্রাণহানির আগেই দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি।

অনতিবিলম্বে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোনো গ্যাসলাইন প্রতিস্থাপন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে কঠোরভাবে বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন করা জরুরি। গ্যাসের গন্ধ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া, বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার না করা এবং দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো এখন জীবন রক্ষার অপরিহার্য শর্ত। অবশ্য ফায়ার সার্ভিস এ ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করছে বলে তাদের প্রশংসা করতেই হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বছরের পর বছর দলবদ্ধ ধর্ষণ-ব্ল্যাকমেল, বিচার না পেয়ে দুই বোনের আত্মহত্যা

ইরানের নতুন রণকৌশল: হরমুজের তলদেশ নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান

বিনা খরচে কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে আনছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস

জেরুজালেমের কাছে বিশাল বিস্ফোরণ, ইসরায়েল বলছে ‘পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা’

রাজধানীতে ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টি, অলিগলিতে জলাবদ্ধতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত