Ajker Patrika

কৃষি কর্মকর্তার অপকর্ম

সম্পাদকীয়
কৃষি কর্মকর্তার অপকর্ম

বাংলাদেশের স্থানীয় আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী উন্নতমানের বীজ এবং চারা উৎপাদনে সরকারি হর্টিকালচার সেন্টারগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলোয় ভৌগোলিকভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে সহনশীল চারা উৎপাদন ছিল এসব কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। কিন্তু রাঙামাটির বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রশীদ চারা উৎপাদন না করে অন্য জেলার নার্সারি থেকে বিভিন্ন ফলদ চারা কিনে এনে তা বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পে বিক্রি দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পার্বত্য অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার অনুকূল নয়—এমন চারা কিনে বিতরণ করায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এখানকার কৃষক। কারণ, অন্য কোনো অঞ্চলের চারা পার্বত্য এলাকায় ভালোভাবে খাপ খেয়ে বেড়ে উঠতে পারে না।

জানা যায়, ‘বিল্ডিং ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন ভালনারেবল ল্যান্ডস্কেপ ইন বাংলাদেশ’ (বিসিআরএল) প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ১ হাজার ২০০ জলবায়ুতে ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকের মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার আমের চারা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ঘূর্ণমান তহবিল থেকে ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বনরূপা হর্টিকালচার সেন্টারকে। কিন্তু মাহবুবুর রশীদ এই হর্টিকালচার সেন্টারে চারা উৎপাদনে অর্থ ব্যয় করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, অন্য যেসব নার্সারি ও হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা নিয়েছেন, তাদের কোনো অর্থ দেননি। কিন্তু হিসাবের নথিতে ব্যয় দেখিয়েছেন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাঁর অধীন কর্মকর্তাদের বদলির ভয় দেখানো হয়েছে। যদিও তিনি বলেছেন, সময়স্বল্পতার কারণে অন্য জায়গা থেকে চারা নিয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ড হর্টিকালচার সেন্টারের নিয়মবহির্ভূত এবং কৃষি আইনের পরিপন্থী।

এই কৃষি কর্মকর্তার অপকর্মের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন স্থানীয় কৃষকেরা। পরিবেশ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্বত্য এলাকার খাড়া ও ক্ষয়প্রবণ মাটির জন্য বিশেষ গুণসম্পন্ন স্থানীয় চারা প্রয়োজন। বাইরের এলাকা থেকে আনা চারা পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে ইতিমধ্যে হর্টিকালচার সেন্টারে মরে যাচ্ছে। যেসব চারা হর্টিকালচারে বাঁচে না, তা কৃষকের হাতে পৌঁছালে কী হবে? কৃষকের নিশ্চিত লোকসান। কয়েক বছরের শ্রম ও স্বপ্ন বিনিয়োগের পর যখন দেখা যাবে গাছ ফল দিচ্ছে না বা মরে যাচ্ছে, তখন কৃষকের যে ক্ষতি হবে, তার দায় কে নেবে?

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ভুল জাতের চারা বিতরণের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলার এই প্রক্রিয়ার অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। কৃষি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে এই অনিয়মের সত্যতা উন্মোচন করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। একই সঙ্গে কৃষকদের যেন কোনোভাবেই নিম্নমানের চারা গছিয়ে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে বিতরণের প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। পার্বত্য কৃষি ও কৃষকদের রক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত