Ajker Patrika

তিন বান্ধবী

সম্পাদকীয়
তিন বান্ধবী

স্কুলে যাওয়ার নাম করে তিন বান্ধবী পার্কে যাচ্ছিল। পরনে ছিল স্কুলের পোশাক। সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত পোশাক। দুপুরের খাবারও ছিল সঙ্গে। পার্কে একটা দারুণ সময় কাটাবে বলে প্রস্তুত ছিল তারা। কিন্তু বিধি বাম। পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পরিবেশন করে কাজের জায়গায় ফিরছিলেন ইউএনও মহাশয়। কাঞ্চনাবাদ এলাকার সড়কের পাশে এই তিন কন্যাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় ইউএনওর। তিনি গাড়ি থামিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। পার্কে যাচ্ছিল, সে কথা স্বীকার করে নেয় তারা। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ এলাকায় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

কেন মেয়ে তিনটি স্কুলে না গিয়ে পার্কে যাচ্ছিল, সে কথা আলোচনা করতে গেলে অনেক কিছু নিয়েই কথা বলতে হবে। আমাদের স্কুলগুলো কি শিশু-কিশোরদের আর আকর্ষণ করতে পারছে না? না পারলে কেন পারছে না? কেন পার্কে ঘুরতে যাওয়ার অ্যাডভেঞ্চার পেয়ে বসেছিল এদের? এটি কি আমাদের দেশে বিরল ঘটনা? যাঁরা বিভিন্ন বড় শহরের পার্কগুলোর খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা জানেন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বিনোদনের একটি মোক্ষম জায়গা পার্ক। স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে কত শিক্ষার্থীই না পার্কে ঘুরে বেড়ায়। প্রেমও করে পার্কে এসে। সমস্যা হলো, নৈতিক পুলিশ সেজে এদের শায়েস্তা করার চিন্তা করলে সে টোটকা কোনো কাজে দেবে না। জীবনবোধ পাল্টে যাচ্ছে। কোন দিকে বাঁক নিচ্ছে শিশু-কিশোরদের মন, সেটা বোঝার চেষ্টা না করলে ভবিষ্যতে মুচলেকায় আর কাজ হবে বলে মনে হয় না।

তরুণ-তরুণীর প্রেম চিরকালই অভিভাবকদের চক্ষুশূল হয়েছে। কিন্তু তাতে প্রেমের ভরাডুবি ঘটেছে, এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। যেখানে স্বাভাবিক আচরণগুলোকে গোপন করে রাখতে হয়, সেখানে সেই গোপনীয়তার দিকেই আকৃষ্ট হয় মানুষ। সব কিশোর-কিশোরী তো আর ইউএনও সাহেবের নজরে পড়বে না। তাই তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে হলে যে কাজগুলো করতে হবে, সেগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে পরিবারকেই। এবং পরিবারের পর সে দায়িত্ব বর্তায় শিক্ষকদের ওপর। আরও বড় ব্যাপার হলো সমাজে কী ঘটছে, সেগুলোও শিশু-কিশোরের মনে রেখাপাত করে। তাই বকাবকি, মুচলেকা নয়, এ সময়ের শিশু-কিশোরের মানসগঠনে কোনো শূন্যতা থাকছে কি না, সেটা নিয়েই গবেষণা করা উচিত।

ধরা পড়া এই তিন বান্ধবীর পোশাক-আশাক কোনো কিছুর বার্তা দেয় না। বরং এটাই পরিষ্কার করে যে সমাজের যেকোনো স্তরের শিশু-কিশোরেরাই স্কুল ফাঁকি দিয়ে পার্কে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করবে।

পরিবারে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবতা, অন্যকে ভালোবাসার শিক্ষা দেওয়ার যে ঐতিহ্য ছিল আমাদের, তা কি ভেঙে গেছে? অভিভাবকদের সম্মান না করে তাদের অপদস্থ করার যে রেওয়াজ ইদানীং দেখা যাচ্ছে, সেটাও কি শিশু-কিশোরদের বেঁকে যাওয়ার একটা বড় কারণ?

স্কুলেও যাবে, পার্কেও যাবে ওরা। এ নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না। কিন্তু কোথায় কখন যাবে, কোথায় কার সঙ্গে যাবে, সেই মূল্যবোধটি জীবনে চর্চার মাধ্যমে ঠিক করতে হয়। সেদিকেই দৃষ্টি দিন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত