Ajker Patrika

থাইল্যান্ডে নেমেই বারে না ঢুকে শপিংয়ে ব্যস্ত হলেন মার্কিন নাবিকেরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
থাইল্যান্ডে নেমেই বারে না ঢুকে শপিংয়ে ব্যস্ত হলেন মার্কিন নাবিকেরা
কমপক্ষে ২৫০ দিন পর সমুদ্র থেকে থাইল্যান্ডে ডাঙায় নেমেছেন মার্কিন সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

২৫০ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায় পা রেখেই বারে ছুটে যাননি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রায় ৫ হাজার নাবিক। বরং তাঁদের বেশির ভাগকেই দেখা গেছে শপিংমলে কেনাকাটা করতে। দীর্ঘদিন একটি ধূসর ইস্পাতের যুদ্ধজাহাজে বন্দী জীবন কাটানোর পর সাধারণ জীবনের স্বাদ পেতেই যেন কেনাকাটাকে বেছে নিয়েছেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিবিসি জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের থাকার জন্য পাতায়ার দুটি সমুদ্রতীরবর্তী হোটেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর একটি হার্ড রক হোটেলে সাম্প্রতিক কেনাকাটা হাতে নিয়ে নাবিকদের আড্ডা দিতে দেখা গেছে। সামরিক চুলের ছাঁট, গোঁফ ও নেভি টি-শার্টে তাঁরা পাতায়ার সাধারণ পর্যটকদের ভিড়ে সহজেই আলাদা হয়ে উঠছিলেন।

তবে রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পাতায়ার চেহারা। নিয়ন আলো, উচ্চ শব্দ আর নানা ধরনের বার-রেস্তোরাঁয় মুখর হয়ে ওঠে শহরটি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পাতায়ার পর্যটন ব্যবসায় সাম্প্রতিক সময়ে মন্দা চলছে। সংঘাতের এলাকায় দায়িত্ব পালন শেষে আসা মার্কিন নাবিকদের কাছ থেকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাই বাড়তি আয়ের প্রত্যাশা করছেন।

বুধবার রাতে পাতায়ার বিখ্যাত ‘ওয়াকিং স্ট্রিটে’ মার্কিন নাবিকদের স্বাগত জানিয়ে বিশাল আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। সমুদ্রে থাকার সময় প্রায় ৯ মাসের বেতন খরচ করার সুযোগ না পাওয়ায় নাবিকদের হাতে প্রচুর অর্থও রয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা।

তবে থাইল্যান্ডে পতিতাবৃত্তি আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় যৌনকর্মীদের থেকে দূরে থাকতে নাবিকদের সতর্ক করা হয়েছে। যদিও অ্যালকোহল পানের ক্ষেত্রে তেমন বাধা দেখা যায়নি। মধ্যরাতের দিকে কয়েকজন তরুণ নাবিককে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে একে অপরকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার লাল আলোয় আলোকিত গো-গো বারে প্রবেশ করেন।

এক নাবিক বলেন, ৯ মাস সমুদ্রে থাকার পর তিনি সময়ের হিসাবই হারিয়ে ফেলেছেন। জাহাজে জীবন একঘেয়ে হয়ে উঠেছিল। হাজারো মানুষের সঙ্গে একই জাহাজে থাকায় জায়গাটি বড় হলেও সবসময় ছোট মনে হতো। ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরতে কত সময় লাগবে জানতে চাইলে তার সংক্ষিপ্ত উত্তর ছিল, ‘অনেক দেরি।’

স্থানীয় রেস্তোরাঁ মালিক কোসল হোমখুনথোদ বলেন, মার্কিন নাবিকদের আগমনে শহরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এক বার মালিকের দাবি, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার নাবিকেরা বারে কম ঢুকছেন এবং তুলনামূলকভাবে কম অর্থ খরচ করছেন।

নাবিকদের পরিবারের কাছেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ। ২৫ বছর বয়সী নাবিক জাদা ফেয়ারফ্যাক্সের মা শাকেইরা ফেয়ারফ্যাক্স জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নাবিকদের মনোবল কখনো কখনো কমে গিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর সময়টিকে তিনি অনিশ্চিত ও ভীতিকর বলে বর্ণনা করেন। মেয়েকে দেখতে অধীর অপেক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তার হাসিটা দেখতে চাই। সে প্রথমেই আমাকে মা বলে ডাকবে—এটাই শুনতে চাই।’

জাহাজে নিজেদের দীর্ঘ ও কঠিন সামরিক মিশন নিয়ে কথা বলতে নাবিকদের ওপর কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে। পাতায়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘শোর লিয়াজোঁ গ্রুপ’ বা এসএলজি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের কাজ নাবিকদের আচরণ পর্যবেক্ষণ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং তরুণ নাবিকদের দেখভাল করা।

মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার রবিনসন জানান, নাবিকদের যতটা সম্ভব বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা মার্কিন আইন, নৌবাহিনীর বিধি এবং থাইল্যান্ডের আইন মেনেই চলবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র থাইল্যান্ডে নৌবাহিনীর জাহাজের এমন বিরতি নতুন কিছু নয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ফেরার পথে পাতায়ায় এই যাত্রাবিরতি নাবিকদের দীর্ঘ ও কঠিন মিশনের ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত