Ajker Patrika

জেট ফুয়েলের দাম ১০ দিনে লিটারে বাড়ল ১০০ টাকা, এভিয়েশন ব্যবসায় অশনিসংকেত

মো. কামরুল ইসলাম
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ২২: ৩৮
জেট ফুয়েলের দাম ১০ দিনে লিটারে বাড়ল ১০০ টাকা, এভিয়েশন ব্যবসায় অশনিসংকেত
ছবি: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ডামাডোলে বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি পেল গত দশ দিনে দুই দফায় ১০০ টাকা। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচলের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯৪ টাকা ১৮ পয়সা। এর আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি) গত ৮ মার্চ প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা হয় নির্ধারণ করে। ঠিক ১০ দিনের মাথায় তা আবার ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হলো।

ঠিক একইভাবে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য গত ১০ দিনে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৬২৫৭ ডলার থেকে দুই দফায় বৃদ্ধি করে ১ দশমিক ২৬৮৯ ডলার নির্ধারণ করেছে বিপিসি।

একটি এয়ারলাইনসের যেকোনো রুটের পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যয় হয় জেট ফুয়েলে। গত ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জেট ফুয়েলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ শতাংশ, যার প্রভাবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এভিয়েশন ব্যবসা চরম সংকটে নিমজ্জিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জেট ফুয়েলের মূল্য অতীতের সব রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির ফলে এই রেকর্ডের পরিসমাপ্তি ঘটবে, তা ভাবার কোনো কারণ নেই। রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে এভিয়েশন ব্যবসায় অশনিসংকেত দেখা যাচ্ছে। এয়ারলাইনসকে টিকে থাকতে হলে কিংবা এভিয়েশন ব্যবসায়কে টিকিয়ে রাখতে হলে এয়ারলাইনসগুলো তাদের বিভিন্ন রুটে ভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া কোনো গতান্তর থাকবে না। ভাড়া বৃদ্ধি করলেই এ থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব, তা কিন্তু নয়। ভাড়া বৃদ্ধির ফলে প্যাসেঞ্জার গ্রোথ হ্রাস পাবে, এটাই স্বাভাবিক।

জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন এক চাপের বাস্তবতা তৈরি করেছে। জ্বালানি ব্যয় যেখানে একটি এয়ারলাইনসের মোট পরিচালন খরচের বড় অংশ, সেখানে এই হঠাৎ বৃদ্ধি পুরো শিল্পকে অস্থির করে তুলছে। সম্প্রতি জ্বালানির দাম পুনর্নির্ধারণের ফলে এয়ারলাইনসগুলোর জন্য খরচ ব্যবস্থাপনা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে যাত্রী ভাড়ার ওপর। টিকিটের দাম বাড়লে সাধারণ যাত্রীরা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হন, যা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় রুটেই যাত্রী সংখ্যা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে এয়ারলাইনসগুলো বাধ্য হচ্ছে কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমাতে বা বন্ধ করতে। ফলে দেশের আঞ্চলিক সংযোগ এবং পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, কার্গো খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে পণ্যের দামও বাড়তে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে। ছোট ও নতুন এয়ারলাইনগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন আকার ধারণ করবে, কারণ তাদের আর্থিক সক্ষমতা সীমিত।

এই বাস্তবতায় নীতিনির্ধারকদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ। জ্বালানির বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় রাখা যেমন প্রয়োজন, তেমনি এভিয়েশন খাতকে টিকিয়ে রাখতে সহায়ক নীতি প্রণয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এয়ারলাইনগুলোকেও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, রুট পরিকল্পনায় কৌশলগত পরিবর্তন এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আরও মনোযোগী হতে হবে।

সব মিলিয়ে, জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য শুধু একটি খাতের সমস্যা নয়—এটি একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাস্তবতা, যা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ।

বর্তমানের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হলো ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত প্ল্যাটস রেট ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ১৯ ডলার, যা ৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১৭৮ দশমিক ৯৮ ডলারে।

জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য পুরো এভিয়েশন শিল্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করে- যেখানে এয়ারলাইনস, যাত্রী এবং সামগ্রিক অর্থনীতি সবাই কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত হয়।

লেখক: ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, ঢাকাপোস্ট ডট কম

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার প্রস্তুতি

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত