Ajker Patrika

বাড়তি সময় পাওয়ায় বাড়ল দায়িত্বও

ড. ফাহমিদা খাতুন
বাড়তি সময় পাওয়ায় বাড়ল দায়িত্বও
ড. ফাহমিদা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি করেছে। তবে একে স্বস্তি পাওয়ার উপলক্ষ মনে করলে ভুল হবে। বরং সময় বাড়ার সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের দায়িত্বও বেড়েছে। কারণ, উত্তরণ পিছিয়েছে; অর্থনীতির দুর্বলতা বা প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ কমেনি।

এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা। কোন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা কী করবে, কত দিনের মধ্যে করবে, প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং অগ্রগতি কীভাবে মাপা হবে—সবকিছু সেখানে স্পষ্ট থাকতে হবে।

পরিকল্পনাটি কাগজে সীমাবদ্ধ রাখলে বাড়তি তিন বছরও কাজে লাগবে না। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ধরে অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে এবং জনগণের সামনে তা প্রকাশ করতে হবে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোর ঘাটতি কমানো এখন অগ্রাধিকারে থাকা দরকার।

এসব ক্ষেত্রে সমস্যা রেখে শুধু সময় বাড়িয়ে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরি করা যাবে না। ব্যবসার খরচ কমাতে হবে, নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে।

রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্য ও বাজার গড়ে তোলাও জরুরি। এলডিসি হিসেবে পাওয়া শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা উত্তরণের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে না। তাই যেসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকার সুবিধা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন, সেই উদ্যোগ নিতে হবে। আলোচনায় দেরি হলে রপ্তানিকারকেরা বাড়তি শুল্কের মুখে পড়তে পারেন।

এই পরিবর্তনের চাপ বেশি পড়তে পারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক, নারী এবং তরুণদের ওপর। তাদের প্রযুক্তি, দক্ষতা, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে হবে। প্রশিক্ষণকে চাকরির চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে মানুষ কাজ হারানোর ঝুঁকিতে না পড়ে।

তিন বছর তাই কেবল ক্যালেন্ডারের বাড়তি সময় নয়; এটি প্রস্তুতি নেওয়ার বড় সুযোগ। সরকারকে সদিচ্ছা, সমন্বয় ও জবাবদিহি দেখাতে হবে। ব্যবসায়ী, শ্রমিক, গবেষক ও নাগরিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে। উত্তরণের সাফল্য ঘোষণায় নয়, বরং রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনমানে তার সুফল পৌঁছানোর মধ্যেই প্রমাণিত হবে।

লেখক: ড. ফাহমিদা খাতুন বিশেষ ফেলো, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত