Ajker Patrika

নির্বাচন ও পুলিশ

সম্পাদকীয়
নির্বাচন ও পুলিশ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ বাহিনীর সদস্যদের যেখানে এখনো মনোবল ফেরানো সম্ভব হয়নি, সেখানে কীভাবে তাঁদের দ্বারা নির্বাচনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আশা করা যায়? একদিকে মনোবল ফিরে না আসা, অন্যদিকে দায়িত্ব পালনের লজিস্টিক সাপোর্টের অভাব—এই দুই কারণে নির্বাচনে তাঁদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আশঙ্কা থেকে যায়।

৬ জানুয়ারি আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে পুলিশের পাঁচ শতাধিক যানবাহন ভস্মীভূত ও মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এ ছাড়া গত বছর আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ যানবাহনকে অকেজো ঘোষণা করা হয়। গত অর্থবছরে পুলিশ বাহিনীর জন্য চার শতাধিক যানবাহন কেনা হলেও এখনো বিভিন্ন ধরনের ৬ হাজারের বেশি যানবাহন, নৌযান এবং অন্যান্য লজিস্টিক ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি নিয়ে তারা কীভাবে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে?

যদিও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলছে, নির্বাচনের আগে সব ধরনের লজিস্টিক ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। প্রশ্ন থেকে যায়, লজিস্টিক সাপোর্ট সম্পন্ন হলেও কি তারা তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবে? জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র ৩৩ দিন সময় বাকি আছে। গত দেড় বছরের বেশি সময়ে যেখানে এ বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি, সেখানে এত অল্প সময়ে তাঁদের মনোবল কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?

এবারের নির্বাচনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিগত সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। দেশের অধিকাংশ মানুষ সেই নির্বাচনগুলোতে তাঁদের মতামত দিতে পারেননি। দেশের সাধারণ মানুষ এবার ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।

দেশে সংঘটিত নানা ধরনের মবের ঘটনা, হাদি হত্যাকাণ্ড, সম্প্রতি দুটি জাতীয় দৈনিকের অফিস এবং দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের অফিসে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি।

যখন রাষ্ট্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, বিচার নিশ্চিত করতে পারে না, রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে না, তখন নির্বাচন আর গণতন্ত্রের উৎসব থাকে না, তা হয়ে ওঠে সহিংসতার প্রতিযোগিতা। পুলিশ হলো রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী। তারাই যদি সব জায়গায় ব্যর্থতার নজির সৃষ্টি করে, তাহলে নির্বাচনে তারা কী ভূমিকা পালন করবে, তা অনুমান করা যায়। বাকি সময়ের মধ্যে যদি পুলিশের জন্য সব আয়োজন সম্পন্ন না করা যায়, তাহলে নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

আমরা আশা করব, সরকার নির্বাচনের আগেই পুলিশ বাহিনীর জন্য সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করে, নির্বাচনের মাঠে তাদের পেশাদারত্ব দেখানোর সুযোগ করে দেবে। আমরা চাই, নির্বাচন কোনোভাবেই যেন বিঘ্নিত না হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গাজায় ট্রাম্প বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে জানালেন খলিলুর

দুবাই পালানোর সময় বিমানবন্দর থেকে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা

তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিনির্মিত হবে আগামীর বাংলাদেশ, মোদির প্রত্যাশা

রাইস কুকার ব্যবহারের ভুল ও সতর্কতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত